
কওমি মাদ্রাসার আদর্শ বাৎসরিক একাডেমিক ক্যালেন্ডার: সেমিস্টার পরীক্ষা, ছুটি ও বেফাক প্রস্তুতি সময়সূচি
কওমি ও আবাসিক মাদ্রাসার পূর্ণাঙ্গ বাৎসরিক একাডেমিক ক্যালেন্ডার প্রণয়ন, হিজরি ও ঈসায়ী তারিখ সমন্বয়, সেমিস্টার পরীক্ষা, ছুটি ও বেফাক বোর্ড প্রস্তুতি গাইড।
কওমি ও আবাসিক মাদ্রাসার পূর্ণাঙ্গ বাৎসরিক একাডেমিক ক্যালেন্ডার প্রণয়ন, হিজরি ও ঈসায়ী তারিখ সমন্বয়, সেমিস্টার পরীক্ষা, ছুটি ও বেফাক বোর্ড প্রস্তুতি গাইড।
একটি দ্বীনি মাদ্রাসার সুষ্ঠু পাঠদান, সময়মতো পরীক্ষা গ্রহণ, ফলাফল প্রকাশ এবং শৃঙ্খলাপূর্ণ শিক্ষাবর্ষ পরিচালনার মূল ভিত্তি হলো একটি সুপরিকল্পিত ও সুনির্দিষ্ট 'বাৎসরিক একাডেমিক ক্যালেন্ডার' (Annual Academic Calendar)। কিন্তু বাংলাদেশের বহু কওমি মাদ্রাসায় শিক্ষাবর্ষের শুরুতে কোনো আনুষ্ঠানিক ক্যালেন্ডার বা ডায়েরি না থাকা, হঠাৎ করে ছুটির ঘোষণা দেওয়া, পরীক্ষার তারিখ নিয়ে শিক্ষকদের মাঝে মতানৈক্য এবং হিজরি ও ঈসায়ী (ইংরেজি) তারিখের সমন্বয়হীনতার কারণে চরম প্রশাসনিক বিভ্রান্তি তৈরি হয়। ফলে অভিভাবকরাও তাদের ছুটির ভ্রমণ পরিকল্পনা করতে পারেন না এবং শিক্ষার্থীরাও প্রস্তুতির সময় পায় না।
মাদ্রাসায় একাডেমিক ক্যালেন্ডার ও ইভেন্ট প্ল্যানিং ফ্রেমওয়ার্ক (Madrasa Hijri-Gregorian Academic Calendar SOP) হলো একটি সমন্বিত ও সুশৃঙ্খল পেডাগোজিক্যাল সময়সূচি মডেল, যার মাধ্যমে হিজরি ও ইংরেজি তারিখের সমন্বয়ে ২২০টি ক্লাসরুম দিবস, ৩টি সেমিস্টার পরীক্ষা, রমজান-ঈদের ছুটি এবং কেন্দ্রীয় বেফাক বোর্ড পরীক্ষার পূর্ণাঙ্গ রোডম্যাপ প্রস্তুত করা হয়। JamiaSoft তালীমাত ক্যালকুলেটর ও ক্যালেন্ডার মডিউল ব্যবহারের মাধ্যমে অভিভাবক ও শিক্ষকরা তাদের মোবাইলেই পুরো বছরের সমস্ত ছুটির শিডিউল দেখতে পারেন। এর ফলে শিক্ষাবর্ষে নিখুঁত শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠিত হয়।
সময়ের প্রতিটি দিনকে আল্লাহর দ্বীনের ইলম অর্জনের জন্য সুবিন্যস্ত করে পরিচালনা করা তালীমাত বোর্ডের এক মহান দায়িত্ব।
১. বাৎসরিক ক্যালেন্ডার না থাকার কারণে তৈরি হওয়া ৪টি প্রধান সংকট
পরিকল্পনাহীন শিক্ষাবর্ষের সাধারণ দুর্বলতাসমূহ:
- •১. হঠাৎ ছুটির ঘোষণা ও অভিভাবকদের বিভ্রান্তি: কোনো পূর্ব নোটিশ ছাড়া মাদ্রাসায় ছুটি দিলে অভিভাবকদের চরম ভোগান্তি।
- •২. পরীক্ষার আগে সিলেবাস শেষ করার সময় না পাওয়া: অপরিকল্পিত ছুটির কারণে ক্লাসরুমের কর্মদিবস কমে যাওয়া।
- •৩. রমজান ও ঈদের ছুটিতে মেস মিল সমন্বয়ে ঝামেলা: ছুটির সুনির্দিষ্ট দিনক্ষণ না থাকায় খাবারের অপচয় ও বিলিং গরমিল।
- •৪. কেন্দ্রীয় বেফাক ও বোর্ডের মডেল টেস্টের সময় সংকট: শেষ মুহূর্তে প্রস্তুতির অভাবে শিক্ষার্থীদের রেজাল্ট খারাপ হওয়া।
২. সনাতন মৌখিক তারিখ বনাম JamiaSoft সমন্বিত স্মার্ট ক্যালেন্ডার
সনাতন খাতা পদ্ধতি ও আধুনিক ডিজিটাল কাঠামোর তুলনামূলক সুবিধা:
| বৈশিষ্ট্যের ক্ষেত্র | সনাতন প্রচলিত মৌখিক ব্যবস্থা | JamiaSoft সমন্বিত ডিজিটাল একাডেমিক ক্যালেন্ডার |
|---|---|---|
| হিজরি ও ইংরেজি তারিখের সমন্বয় | কেবল মুখে মুখে বলা (প্রায়ই দিন গুলিয়ে ফেলা) | হিজরি চাঁদ দেখার সাথে স্বয়ংক্রিয় ক্লাউড সিঙ্ক ও ইংরেজি তারিখ ম্যাপিং |
| পরীক্ষার রুটিন ও রেজাল্ট ডেট | পরীক্ষার মাত্র ৩ দিন আগে নোটিশ | শিক্ষাবর্ষের ১ম দিনেই ৩টি সেমিস্টার পরীক্ষা ও রেজাল্টের সুনির্দিষ্ট তারিখ |
| ছুটির দিন ও কর্মদিবসের স্পষ্টতা | হঠাৎ করে ছুটি দেওয়া ও ক্লাস নষ্ট | ২২০টি নিট পাঠদান দিবস ও সুনির্দিষ্ট ছুটির রঙের কোডযুক্ত চার্ট |
| অভিভাবকের মোবাইলে এক্সেস | ক্যালেন্ডার হারিয়ে যাওয়া | প্যারেন্ট অ্যাপ ও মাদ্রাসার ওয়েবসাইটে সার্বক্ষণিক লাইভ ক্যালেন্ডার ভিউ |
| সরকারি ও রাষ্ট্রীয় দিবসের সমন্বয় | রাষ্ট্রীয় ছুটি নিয়ে বিভ্রান্তি | স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস ও ইসলামি দিবসের সুষম সমন্বয় |
৩. একটি কওমি মাদ্রাসার আদর্শ বাৎসরিক একাডেমিক ক্যালেন্ডার কাঠামো (শাওয়াল–রজব)
বাৎসরিক ৩৬৫ দিনের পূর্ণাঙ্গ আদর্শ হিজরি রোডম্যাপ ছক:
| হিজরি মাস ও পর্যায় | কর্মদিবস ও ছুটির দিন | প্রধান একাডেমিক ইভেন্ট ও কার্যক্রম |
|---|---|---|
| শাওয়াল (সেশন সূচনা) | ১৫ কর্মদিবস (ভর্তি ও ক্লাস শুরু) | নতুন ছাত্র ভর্তি, কিতাব বণ্টন ও ওরিয়েন্টেশন সমাবেশ |
| জিলকদ–জিলহজ | ৪০ কর্মদিবস (পবিত্র ঈদুল আজহা ছুটি) | পুরোদমে ক্লাস, হজ প্রস্তুতি ও ১০ দিনের কোরবানির ছুটি |
| মুহাররম–সফর | ৪৫ কর্মদিবস (১ম সাময়িক পরীক্ষা) | ১ম সেমিস্টার পরীক্ষা গ্রহণ ও চাররঙা রেজাল্ট কার্ড প্রকাশ |
| রবিউল আউয়াল–রবিউস সানী | ৪২ কর্মদিবস (সিরাত মাহফিল) | সিরাতুন্নবী (সা.) কনফারেন্স ও কুতুবখানা মোতালাআ উইক |
| জমাদিউল আউয়াল | ২৩ কর্মদিবস (২য় সাময়িক পরীক্ষা) | অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা ও দুর্বল ছাত্রদের স্পেশাল রিভিশন ক্লাস |
| জমাদিউস সানী–রজব | ৪৫ কর্মদিবস (চূড়ান্ত বার্ষিক ও বেফাক) | বার্ষিক সমাপনী পরীক্ষা, বুখারী খতম ও বেফাক মডেল টেস্ট |
| শাবান–রমজান | পূর্ণ ছুটি (রমজান ও ঈদ ছুটি) | ফারেগীন ছাত্রদের দস্তারবন্দী, তারাবীহ ও দীর্ঘ বরকতময় ছুটি |
৪. একাডেমিক ক্যালেন্ডার সফলভাবে বাস্তবায়নে ৫টি সোনালী এসওপি
নাজেমে তালীমাত ও পরিচালনা কমিটির জন্য নির্দেশিকা:
- •১. JamiaSoft তালীমাত গ্রেড ক্যালকুলেটর ব্যবহার: jamiasoft.com/tools/taleemat-grade-calculator লিংকে গিয়ে পরীক্ষার নিয়ম দেখা।
- •২. শাওয়াল মাসের শুরুতেই চাররঙা ক্যালেন্ডার প্রিন্ট: প্রতিটি ছাত্র ও শিক্ষকের হাতে বাঁধাই করা ক্যালেন্ডার হস্তান্তর।
- •৩. ক্যালেন্ডারের ছুটির দিনে কোনো জরুরি পরিবর্তন না করা: খুব বড় দুর্যোগ ছাড়া ঘোষিত তারিখ শতভাগ মেনে চলা।
- •৪. হিজরি চাঁদ দেখার সাথে সাথে ক্যালেন্ডার অ্যাডজাস্ট: রোজা ও ঈদের চাঁদের ভিত্তিতে সফটওয়্যারে ১ ক্লিকে ডেট সিঙ্ক।
- •৫. আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য সময়ের প্রতিটি মুহূর্ত কাজে লাগানো: পরিকল্পনা অনুসারে পাঠদান শেষ করার মোনাজাত।
৫. বিভিন্ন অঞ্চলের মাদ্রাসায় ডিজিটাল ক্যালেন্ডারের বাস্তব কেস স্টাডি
বাংলাদেশের সেরা প্রতিষ্ঠানগুলোর অনুপ্রেরণামূলক ফলাফল:
- •ঢাকার একটি মডেল জামিয়া: বাৎসরিক ডিজিটাল ক্যালেন্ডার মেনে চলায় তাদের ৩টি সেমিস্টার পরীক্ষা নির্ধারিত দিনেই অনুষ্ঠিত হয়ে দেশব্যাপী সুখ্যাতি অর্জন করে।
- •চট্টগ্রামের একটি শীর্ষস্থানীয় কওমি মাদ্রাসা: অভিভাবক অ্যাপে ক্যালেন্ডার ইন্টিগ্রেট করায় অভিভাবকদের ছুটি সংক্রান্ত সমস্ত অভিযোগ চিরতরে বন্ধ হয়।
- •সিলেটের একটি গ্রামীণ বালিকা মাদ্রাসা: সুনির্দিষ্ট রুটিন মেনে চলায় বেফাক পরীক্ষায় শতভাগ ছাত্রী মেধা তালিকায় স্থান করে নেয়।
৬. তালীমাত সমন্বয়ক উস্তাদের জন্য ৫-দফা মাসিক চেকলিস্ট
প্রতি মাসের শুরুতে দায়িত্বশীল শিক্ষকের করণীয়:
- •১. চলতি মাসের একাডেমিক ইভেন্ট নোটিশ বোর্ডে প্রকাশ: পরীক্ষার তারিখ মনে করিয়ে দেওয়া।
- •২. ছুটির পূর্বে মেস সুপারকে মিল অফের তালিকা হস্তান্তর: মেসের খাদ্য অপচয় শতভাগ রোধ করা।
- •৩. প্রশ্নপত্র প্রণয়ন ও মডারেশনের ডেডলাইন নির্ধারণ: পরীক্ষার ১০ দিন পূর্বেই প্রশ্ন সিলগালা করা।
- •৪. ছাত্র ও অভিভাবকদের মোবাইলে আসন্ন ইভেন্টের এসএমএস প্রেরণ: পূর্বপ্রস্তুতির সুযোগ দেওয়া।
- •৫. শিক্ষাবর্ষের সফল পরিসমাপ্তির জন্য দোয়া: সকল শিক্ষকের সাথে নিয়ে আল্লাহর দরবারে শোকর আদায়।
৭. প্রাতিষ্ঠানিক আমানত ও আধুনিক শৃঙ্খলার ৫টি চিরস্থায়ী মূলনীতি
প্রতিষ্ঠানের সুনাম, বরকত ও দীর্ঘমেয়াদী স্থায়িত্ব বজায় রাখতে উস্তাদ ও পরিচালনা কমিটির দায়িত্ব:
- •১. শতভাগ শরয়ী স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা: হিসাব-নিকাশ ও তালীমাতের প্রতিটি পদক্ষেপে আল্লাহর ভয় ও মুহতামিমের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধান বজায় রাখা।
- •২. শিক্ষার্থীদের পিতা-মাতাতুল্য স্নেহ প্রদান: কোনো কঠোরতা বা অসৌজন্যমূলক আচরণ না করে ভালোবাসার সাথে শিক্ষাদান নিশ্চিত করা।
- •৩. তথ্যের নিরাপদ ও স্থায়ী ডিজিটাল ব্যাকআপ: খাতা হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি এড়াতে JamiaSoft ক্লাউড সার্ভারে সমস্ত ডাটা সংরক্ষণ।
- •৪. অভিভাবকদের সাথে নিয়মিত নিবিড় যোগাযোগ: শিক্ষার্থীর সবক অগ্রগতি ও মেসের সন্তুষ্টি নিয়ে প্রতি মাসে অন্তত একবার মতবিনিময়।
- •৫. পরিচালনা কমিটির ত্রৈমাসিক রিভিউ অধিবেশন: প্রতিষ্ঠানের আর্থিক বাজেট ও পরীক্ষা ফলাফলের সার্বিক অগ্রগতি পর্যালোচনা।
৮. জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ইসলামিক দিবস উদযাপনের রূপরেখা
কেবল পাঠ্যপুস্তক নয়; বরং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ঐতিহাসিক দ্বীনি দিবসগুলোতে বিশেষ আলোচনা ও তালীমী মাহফিলের ব্যবস্থা ক্যালেন্ডারে রাখা উচিত।
- •১. ১২ই রবিউল আউয়াল সিরাতুন্নবী (সা.) সম্মেলন: নবীজির সুন্নাত ও জীবনের ওপর সারাদিনব্যাপী আলোচনা।
- •২. শবে মেরাজ ও শবে বরাতের নফল ইবাদতের দিকনির্দেশনা: ফজিলতপূর্ণ রাতগুলোতে সুন্নাত আমলের শিক্ষা।
- •৩. ঐতিহাসিক বদর দিবস ও ফাতহে মক্কা দিবস পালন: ১৭ই রমজান বদর দিবসে ইসলামের বীরত্বগাথা পাঠ।
- •৪. জাতীয় দিবসসমূহে বিশেষ আলোচনা ও শহীদদের জন্য মাগফিরাত: ২৬শে মার্চ ও ১৬ই ডিসেম্বরে শহীদদের জন্য খাস মোনাজাত।
৯. ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষের একাডেমিক ক্যালেন্ডার অ্যাকশন প্ল্যান
তালীমাত বোর্ডের রূপরেখা:
- •১. শাবান মাসেই পরবর্তী শিক্ষাবর্ষের ক্যালেন্ডার ড্রাফট অনুমোদন: শূরার মিটিংয়ে ছুটির তালিকা পাস করা।
- •২. বিশিষ্ট শিল্পীদের দিয়ে দৃষ্টিনন্দন ইসলামিক ক্যালেন্ডার ডিজাইন: আকর্ষণীয় দেওয়াল ও টেবিল ক্যালেন্ডার মুদ্রণ।
- •৩. ওয়েবসাইটে ইন্টারেক্টিভ গুগল ক্যালেন্ডার সিঙ্ক: মোবাইল ক্যালেন্ডারের সাথে স্বয়ংক্রিয় যুক্ত হওয়ার সুবিধা।
- •৪. শুভাকাঙ্ক্ষী ও দানশীলদের উপহার হিসেবে ক্যালেন্ডার বিতরণ: মাদ্রাসার বার্ষিক প্রচার ও শুভেচ্ছা বিনিময়।
- •৫. সুশৃঙ্খল দ্বীনি প্রজন্ম গড়ার সংকল্প: প্রতিটি দিন ও রাতকে আল্লাহর সন্তুষ্টির কাজে উৎসর্গ করা।
১০. সুপরিকল্পিত একাডেমিক ক্যালেন্ডারের সুদূরপ্রসারী ইতিবাচক প্রভাব
একটি প্রতিষ্ঠান যখন সুনির্দিষ্ট সময়সূচি অনুযায়ী চলে, তখন তার প্রতিটি অঙ্গনে শৃঙ্খলা, বরকত ও পেশাদারিত্বের ছাপ স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
- •১. শিক্ষকদের মানসিক স্বস্তি ও গভীর পাঠদান: কোন মাসে কতটুকু পড়াতে হবে তা স্পষ্ট থাকা।
- •২. শিক্ষার্থীদের মাঝে পরীক্ষার ভীতি দূরীকরণ: আগে থেকেই পরীক্ষার তারিখ জানা থাকায় মানসিক প্রস্তুতি।
- •৩. মেস ও প্রশাসনিক ব্যয়ের অভাবনীয় সাশ্রয়: ছুটির দিনগুলোতে অপ্রয়োজনীয় বাজার খরচ বন্ধ হওয়া।
- •৪. দেশব্যাপী প্রতিষ্ঠানের অভূতপূর্ব সুনাম: একটি আদর্শ মডেল জামিয়া হিসেবে স্বীকৃতি লাভ।
- •৫. আখেরাতের মহা সাফল্য অর্জন: সময়ের সঠিক সদ্ব্যবহার করে আল্লাহর সন্তুষ্টির অধিকারী হওয়া।
১১. দ্বীনি আমানত রক্ষা ও মুহতামিমের চূড়ান্ত দিকনির্দেশনা
সময় হলো মানুষের জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান মূলধন। এই মূলধনকে পবিত্র ইলমে দ্বীনের সুরক্ষায় সুপরিকল্পিতভাবে বিনিয়োগ করাই মুহতামিম ও তালীমাত বোর্ডের প্রধানতম আমানত।
সাধারণ জিজ্ঞাসা ও প্রশ্নোত্তর (FAQs)
- •প্রশ্ন ১: কওমি মাদ্রাসার শিক্ষাবর্ষ কোন মাস থেকে শুরু হয়? উত্তর: ঐতিহাসিক দেওবন্দি নিয়ম অনুসারে পবিত্র ঈদুল ফিতরের পর শাওয়াল মাসের ৭ থেকে ১০ তারিখের মধ্যে সেশন শুরু হয়।
- •প্রশ্ন ২: হিজরি ক্যালেন্ডারে চাঁদ দেখার কারণে তারিখ পরিবর্তন হলে কী করণীয়? উত্তর: JamiaSoft ডিজিটাল ক্যালেন্ডার চাঁদ দেখার সাথে সাথে ক্লাউডে ১ ক্লিকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ডেট সিঙ্ক করে নেয়।
- •প্রশ্ন ৩: বছরে কতটি সেমিস্টার পরীক্ষা নেওয়া আদর্শ? উত্তর: বছরে ৩টি পরীক্ষা—১ম সাময়িক, অর্ধবার্ষিক এবং বার্ষিক সমাপনী পরীক্ষা নেওয়া সবচেয়ে ইনসাফপূর্ণ।
- •প্রশ্ন ৪: রমজানের ছুটি সাধারণত কতদিনের হয়ে থাকে? উত্তর: সাধারণত শাবানের শেষ দশক থেকে শাওয়ালের শুরু পর্যন্ত প্রায় ৪০ থেকে ৫০ দিনের বার্ষিক ছুটি থাকে।
- •প্রশ্ন ৫: সফটওয়্যারে কি ক্যালেন্ডারের নোটিফিকেশন স্বয়ংক্রিয়ভাবে যায়? উত্তর: হ্যাঁ, যেকোনো পরীক্ষার বা ছুটির ৩ দিন পূর্বে অভিভাবক ও শিক্ষকের মোবাইলে অটো এসএমএস অ্যালার্ট যায়।
- •প্রশ্ন ৬: একাডেমিক ক্যালেন্ডার তৈরি করতে কোন বোর্ডের নিয়ম মানা উচিত? উত্তর: কওমি মাদ্রাসার জন্য বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া এবং আন্তর্জাতিক দেওবন্দি শিক্ষাবর্ষের গাইডলাইন অনুসরণ করা আদর্শ।
১২. সময়ের সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহার ও আদর্শ প্রতিষ্ঠান পরিচালনা
একটি সুবিন্যস্ত বাৎসরিক ক্যালেন্ডারের মাধ্যমেই একটি মাদ্রাসা সময়ের প্রতিটি মুহূর্তকে বরকতময় করে তোলে।
- •১. সেমিস্টার পরীক্ষার নির্ধারিত ফলাফল প্রকাশ: শিক্ষাবর্ষের শুরু থেকেই সুনির্দিষ্ট সময়সূচি অনুসরণ।
- •২. রমজান ও ঈদের ছুটিতে মেসের শতভাগ অর্থ সাশ্রয়: আগাম মিল অফ প্ল্যানিংয়ে খাদ্যের অপচয় বন্ধ।
- •৩. শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের পূর্ণ সন্তুষ্টি ও আস্থা: ছুটির তারিখ নিয়ে কোনো বিভ্রান্তি না থাকা।
- •৪. কেন্দ্রীয় বেফাক পরীক্ষায় শতভাগ সাফল্য: পরিকল্পিত ক্লাসরুম দিবসের মাধ্যমে পূর্ণ সিলেবাস সমাপ্তি।
- •৫. সুশৃঙ্খল দ্বীনি পরিচালনার মহান বরকত: নিয়ম মেনে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন।
JamiaSoft টিম
মাদ্রাসা ডিজিটালাইজেশন বিশেষজ্ঞ
JamiaSoft-এর সম্পাদক ও প্রযুক্তি দল — বাংলাদেশের কওমি, আলিয়া ও হিফজ মাদ্রাসার শরয়ী ফিন্যান্স, হিফজ ট্র্যাকিং ও ডিজিটাল অ্যাডমিশন নিয়ে নিয়মিত গাইড ও গবেষণা প্রকাশ করে।
আর্টিকেলটি ভালো লাগলে অন্যদের সাথে শেয়ার করুন
দ্বীনি প্রতিষ্ঠান ও মাদ্রাসার আর্থিক আমানতদারিতা ও আধুনিকায়নে তথ্যগুলো ছড়িয়ে দিন।
সম্পর্কিত প্রবন্ধ

কওমি মাদ্রাসায় আরবি ক্যালিগ্রাফি ও সুন্দর হস্তাক্ষর প্রশিক্ষণ একাডেমি এসওপি
কওমি মাদ্রাসায় আরবি, উর্দু ও বাংলা হস্তাক্ষর সুন্দরীকরণ, খাত্তাত তৈরি এবং আর্ন্তজাতিক ইসলামিক ক্যালিগ্রাফি একাডেমি প্রতিষ্ঠার প্রাতিষ্ঠানিক কারিকুলাম ও প্রশিক্ষণ এসওপি।

মিশকাতুল মাসাবিহ স্তরে হাদিসের সনদ ও ফিকহি তাদরীস পদ্ধতি এসওপি
কওমি মাদ্রাসায় দাওরায়ে হাদিসের পূর্ববর্তী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্তর মিশকাতুল মাসাবিহ দরসে আসমাউর রিজাল, সনদের শ্রেণিভেদ ও আইম্মায়ে মুজতাহিদগণের ফিকহি ইস্তিম্বাত শিক্ষাদানের আধুনিক নির্দেশিকা।

প্রবাসী ও দূরবর্তী শিক্ষার্থীদের জন্য অনলাইন কুরআন ক্লাস ও দাওয়াত এসওপি: বিশ্বব্যাপী ইলমের আলো
ইউরোপ, আমেরিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের প্রবাসী শিশু এবং দূরবর্তী শিক্ষার্থীদের জন্য আধুনিক অনলাইন নাজেরা ও হিফজ পাঠদানের প্রাতিষ্ঠানিক এসওপি।
আপনার মাদ্রাসায় JamiaSoft ব্যবহার করতে চান?
হিফজ ট্র্যাকিং, শরয়ী ফিন্যান্স ও অনলাইন ভর্তির আধুনিক অভিজ্ঞতা পেতে আজই ফ্রি ডেমো বুক করুন।