মসজিদ ও বাজারের মাদ্রাসা দানবাক্স (Donation Box) পরিচালনা: সিলগালা তালা, যৌথ গণনা ও ডিজিটাল কালেকশন এসওপি
মাদ্রাসা ফিন্যান্স⏱️ ১৭ মিনিট পড়ার সময়👁️ বার পঠিত

মসজিদ ও বাজারের মাদ্রাসা দানবাক্স (Donation Box) পরিচালনা: সিলগালা তালা, যৌথ গণনা ও ডিজিটাল কালেকশন এসওপি

মসজিদ, দোকান ও বাজারের মাদ্রাসা দানবাক্স (Donation Box) স্থাপন, সিলগালা তালা, ২ জন দায়িত্বশীলের যৌথ গণনা, ডিজিটাল রসিদ ও চুরিমুক্ত এসওপি।

মসজিদ ও বাজারের মাদ্রাসা দানবাক্স (Donation Box) পরিচালনা: সিলগালা তালা, যৌথ গণনা ও ডিজিটাল কালেকশন এসওপি
📌সংক্ষেপে (TL;DR)

মসজিদ, দোকান ও বাজারের মাদ্রাসা দানবাক্স (Donation Box) স্থাপন, সিলগালা তালা, ২ জন দায়িত্বশীলের যৌথ গণনা, ডিজিটাল রসিদ ও চুরিমুক্ত এসওপি।

একটি কওমি মাদ্রাসার এতিমখানা ও লিল্লাহ বোর্ডিংয়ের প্রতিদিনের খাদ্য খরচ মেটানো এবং এলাকার ধর্মপ্রাণ সাধারণ মানুষের কাছ থেকে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র দান ও সাদাকাহ সংগ্রহের অন্যতম প্রধান মাধ্যম হলো বিভিন্ন মসজিদ, দোকানপাট, মার্কেট ও বাসস্ট্যান্ডে স্থাপিত 'মাদ্রাসা দানবাক্স' (Madrasa Donation Box & Cash Collection SOP)। কিন্তু আমাদের দেশের বহু মাদ্রাসায় কোনো আনুষ্ঠানিক দানবাক্স রেজিস্ট্রি না থাকা, ১ জন কালেকশন কর্মীর একার হাতে তালা খুলে টাকা গুনে নিয়ে আসা, কোনো লিখিত ভাউচার বা সিলগালা নিরাপত্তা না থাকার কারণে তহবিল তছরুপ, ড্রপআউট এবং চুরির মতো মারাত্মক অভিযোগ তৈরি হয়। এর ফলে মাদ্রাসার আস্থার ভিত্তি নষ্ট হয়।

মাদ্রাসায় সুরক্ষিত দানবাক্স ও যৌথ ক্যাশ কালেকশন ফ্রেমওয়ার্ক (Madrasa Donation Box Security & Dual-Audit SOP) হলো একটি ফিকহসম্মত ও চার্টার্ড একাউন্ট্যান্সি মানসম্মত নিরাপত্তা মডেল, যার মাধ্যমে প্রতিটি বাক্সে ইউনিক সিরিয়াল নাম্বার ও কিউআর কোড ট্যাগিং, ডুয়াল-লক সিলগালা সিকিউরিটি, ন্যূনতম ২ জন দায়িত্বশীলের উপস্থিতিতে যৌথ গণনা (Dual Counting), দোকানদারকে তাৎক্ষণিক ডিজিটাল রসিদ প্রদান এবং ক্যাশবুক অটো-পোস্টিং নিশ্চিত করা হয়। JamiaSoft ডোনেশন বক্স ও কালেকশন মডিউল ব্যবহারের মাধ্যমে মোবাইল অ্যাপ থেকেই কোন বক্স থেকে কত টাকা সংগৃহীত হলো তা জিপিএস লোকেশনসহ ক্লাউডে রিয়েল-টাইমে সেভ হয়। এর ফলে দানবাক্সের তহবিল হয় ১০০% চুরিমুক্ত ও স্বচ্ছ।

উম্মাহর দান করা প্রতিটি পয়সার নিরাপত্তা রক্ষা করা এবং তা এতিমদের মুখে অন্ন হিসেবে পৌঁছে দেওয়া হিসাব বিভাগের এক পরম আমানত।

১. দানবাক্স অব্যবস্থাপনার কারণে তৈরি হওয়া ৪টি প্রধান সংকট

অরক্ষিত কালেকশনের সাধারণ ক্ষতিকর ক্ষেত্রসমূহ:

  • ১. কালেকশন কর্মী একাকী তালা খুলে টাকা আত্মসাৎ করার মারাত্মক ঝুঁকি: কোনো সাক্ষী না থাকায় চুরির সুযোগ তৈরি হওয়া।
  • ২. কতটি দানবাক্স কোন দোকানে ঝুলানো আছে তার কোনো তালিকা না থাকা: অনেক দানবাক্স হারিয়ে যাওয়া বা দোকান বন্ধ হয়ে নষ্ট হওয়া।
  • ৩. দোকানদার বা মসজিদ কমিটির কাছে কোনো জমার প্রমাণ না থাকা: সন্দেহের কারণে দানবাক্স সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ আসা।
  • ৪. সাধারণ অনুদান ও যাকাতের খুচরা টাকা একসাথে মিশে যাওয়া: শরয়ী তহবিল মিশ্রণের গুনাহ তৈরি হওয়া।

২. সনাতন অরক্ষিত কালেকশন বনাম JamiaSoft স্মার্ট দানবাক্স সিস্টেম

সনাতন খাতা পদ্ধতি ও আধুনিক ডিজিটাল কাঠামোর তুলনামূলক সুবিধা:

বৈশিষ্ট্যের ক্ষেত্রসনাতন প্রচলিত একা একা কালেকশনJamiaSoft সমন্বিত ডুয়াল-লক স্মার্ট দানবাক্স
দানবাক্সের তালিকা ও রেজিস্ট্রিকোনো রেকর্ড নেই (স্মৃতিতে রাখা)প্রতিটি বক্সের জিপিএস লোকেশন, দোকানের নাম ও ইউনিক বারকোড রেজিস্ট্রি
তালার নিরাপত্তা ও সিলগালাসাধারণ কমদামি তালা (সহজে খোলা যায়)ওয়ান-টাইম সিকিউরিটি প্লাস্টিক সিল ও ডুয়াল কি (মুহতামিম ও কালেকশন ইনচার্জ)
টাকা গণনার নিয়মাবলীকর্মী একান্তে বসে একা একা গোনাদোকানদার বা মসজিদ কমিটির সামনে ২ জন দায়িত্বশীলের যৌথ গণনা
দোকানদারকে ডিজিটাল রসিদ প্রদানমুখে বলা "টাকা পেয়েছি"টাকা জমা হতেই ২ সেকেন্ডে দোকানদারের মোবাইলে ধন্যবাদ ও জমার এসএমএস
ক্যাশবুকে পোস্টিং ও অডিট ট্রেইলমাস শেষে আন্দাজে এককালীন এন্ট্রিমোবাইল অ্যাপে বক্স স্ক্যান করে এন্ট্রি দিতেই সফটওয়্যারে লাইভ লেজার পোস্টিং

৩. একটি মাদ্রাসার দানবাক্স কালেকশনের আদর্শ ৪-পর্যায়ের সিকিউরিটি ছক

শতভাগ সুরক্ষিত ও স্বচ্ছ কালেকশন প্রোটোকল চার্ট:

কালেকশনের পর্যায় ও স্তরপালনীয় সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব ও কার্যক্রমঅংশগ্রহণকারী দায়িত্বশীল ব্যক্তি
১ম পর্যায়: মাসিক রুটিন শিডিউলপ্রতি মাসের নির্দিষ্ট তারিখে রুট ম্যাপ অনুযায়ী বাক্সের দোকানে গমনকালেকশন অফিসার ও ১ জন সহকারী উস্তাদ
২য় পর্যায়: সিল ভেঙে যৌথ গণনাদোকানদারের সামনে সিকিউরিটি সিল কেটে ক্যাশ মানি যৌথভাবে গণনা২ জন মাদ্রাসার প্রতিনিধি ও দোকানদার
৩য় পর্যায়: ডিজিটাল ইনভয়েস ইস্যুমোবাইল অ্যাপে বক্স নম্বর সিলেক্ট করে টাকার পরিমাণ এন্ট্রি ও এসএমএসতাৎক্ষণিক ডিজিটাল কনফার্মেশন
৪র্থ পর্যায়: নতুন সিলগালা লকবাক্সে নতুন সিরিয়াল নম্বরের সিল পরিয়ে পুনরায় দোকানে স্থাপননিরাপদ পরবর্তী মাসের সঞ্চয় শুরু

৪. সফল দানবাক্স পরিচালনায় ৫টি সোনালী অ্যাকাউন্টিং এসওপি

মুহতামিম ও প্রধান হিসাবরক্ষকের নির্দেশিকা:

  • ১. JamiaSoft কালেকশন ও ক্যাশবুক টুল ব্যবহার: jamiasoft.com/tools/templates/daily-khata লিংকে গিয়ে ভাউচার পোস্টিং দেখা।
  • ২. কোনো অবস্থাতেই কালেকশন কর্মীকে একাকী তালা খুলতে না দেওয়া: সর্বদা ২ জন দায়িত্বশীলের টিম থাকা।
  • ৩. প্রতিটি দানবাক্সের গায়ে মাদ্রাসার অফিশিয়াল হটলাইন ও বিকাশ নাম্বার প্রিন্ট: ডিজিটাল দানের বিকল্প রাখা।
  • ৪. প্রতি ৩ মাস পর পর সমস্ত দানবাক্সের ফিজিক্যাল অডিট: কোনো বক্স ক্ষতিগ্রস্ত হলে তাৎক্ষণিক রিপ্লেস।
  • ৫. আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে আমানত রক্ষা: প্রতিটি পয়সার নিখুঁত হিসাব আল্লাহর জন্য রাখা।

৫. বিভিন্ন অঞ্চলের মাদ্রাসায় দানবাক্স ফ্রেমওয়ার্কের বাস্তব কেস স্টাডি

বাংলাদেশের সেরা প্রতিষ্ঠানগুলোর অনুপ্রেরণামূলক ফলাফল:

  • ঢাকার একটি মডেল জামিয়া: স্মার্ট দানবাক্স ও ডিজিটাল এসএমএস রসিদ চালু করায় তাদের মাসিক খুচরা অনুদান ২ লাখ টাকা থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ৬ লাখ টাকায় পৌঁছেছে।
  • চট্টগ্রামের একটি শীর্ষস্থানীয় মাদ্রাসা: ডুয়াল-লক সিকিউরিটি দেওয়ায় কালেকশন থেকে টাকা চুরির অভিযোগ শতভাগ শূন্যে নেমে এসেছে।
  • সিলেটের একটি গ্রামীণ কওমি মাদ্রাসা: বাজারের ব্যবসায়ীদের আস্থার প্রতীক হিসেবে ২০০টি ডিজিটাল দানবাক্স সফলভাবে পরিচালনা করছে।

৬. কালেকশন ইনচার্জ উস্তাদের জন্য ৫-দফা মাসিক ফিল্ড চেকলিস্ট

কালেকশনের দিনে দায়িত্বশীল শিক্ষকের করণীয়:

  • ১. সকাল ৮:৩০ এ কালেকশন ব্যাগ, নতুন সিকিউরিটি সিল ও মোবাইল অ্যাপ চেক: প্রস্তুতি সম্পন্ন করা।
  • ২. নির্ধারিত রুটের প্রতিটি দোকানে গিয়ে হাসিমুখে সালাম ও কুশল বিনিময়: ব্যবসায়ীদের সাথে উষ্ণ সম্পর্ক রাখা।
  • ৩. দোকানদারের সামনে টাকা গুনে কাউন্টিং শিটে স্বাক্ষর গ্রহণ: শতভাগ স্বচ্ছতা।
  • ৪. মাদ্রাসায় ফিরে মূল ক্যাশিয়ারের কাছে নগদ টাকা বুঝিয়ে দিয়ে রসিদ গ্রহণ: দিনশেষে ক্যাশ ক্লোজিং।
  • ৫. সকল দানশীল ব্যবসায়ীদের রিজিকের বরকতের জন্য খাস দোয়া: আল্লাহর কাছে কল্যাণের মোনাজাত।

৭. প্রাতিষ্ঠানিক আমানত ও আধুনিক শৃঙ্খলার ৫টি চিরস্থায়ী মূলনীতি

প্রতিষ্ঠানের সুনাম, বরকত ও দীর্ঘমেয়াদী স্থায়িত্ব বজায় রাখতে উস্তাদ ও পরিচালনা কমিটির দায়িত্ব:

  • ১. শতভাগ শরয়ী স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা: হিসাব-নিকাশ ও তালীমাতের প্রতিটি পদক্ষেপে আল্লাহর ভয় ও মুহতামিমের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধান বজায় রাখা।
  • ২. শিক্ষার্থীদের পিতা-মাতাতুল্য স্নেহ প্রদান: কোনো কঠোরতা বা অসৌজন্যমূলক আচরণ না করে ভালোবাসার সাথে শিক্ষাদান নিশ্চিত করা।
  • ৩. তথ্যের নিরাপদ ও স্থায়ী ডিজিটাল ব্যাকআপ: খাতা হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি এড়াতে JamiaSoft ক্লাউড সার্ভারে সমস্ত ডাটা সংরক্ষণ।
  • ৪. অভিভাবকদের সাথে নিয়মিত নিবিড় যোগাযোগ: শিক্ষার্থীর সবক অগ্রগতি ও মেসের সন্তুষ্টি নিয়ে প্রতি মাসে অন্তত একবার মতবিনিময়।
  • ৫. পরিচালনা কমিটির ত্রৈমাসিক রিভিউ অধিবেশন: প্রতিষ্ঠানের আর্থিক বাজেট ও পরীক্ষা ফলাফলের সার্বিক অগ্রগতি পর্যালোচনা।

৮. সাদাকাহর ফজিলত ও ব্যবসায়ীদের জন্য দোয়ার সুন্নাত

হাদীস শরীফে এসেছে: "সাদাকাহ মানুষের বিপদ দূর করে এবং ধন-সম্পদে অলৌকিক বরকত বৃদ্ধি করে।"

  • ১. ব্যবসায়ীদের ব্যবসায় বরকতের জন্য নিয়মিত দোয়া: মাদ্রাসার পক্ষ থেকে তাদের কল্যাণে মোনাজাত।
  • ২. দানকারীদের নাম গোপন রাখার স্বাধীনতা প্রদান: ইখলাসের সাথে দান করার সুযোগ।
  • ৩. ক্ষুদ্র দানকেও পরম শ্রদ্ধায় গ্রহণ: ৫ বা ১০ টাকার দানকেও সম্মান জানানো।
  • ৪. পরকালীন অনন্ত ভাণ্ডার সমৃদ্ধকরণ: সাদাকায়ে জারিয়ার সওয়াব লাভ।

৯. ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষের ডোনেশন বক্স আধুনিকায়ন অ্যাকশন প্ল্যান

পরিচালনা কমিটির রূপরেখা:

  • ১. সমস্ত পুরাতন টিনের বক্স বদলে মেটালিক কিউআর-কোডেড স্মার্ট বক্স স্থাপন: আধুনিক ডিজাইন ও লোগো।
  • ২. দানবাক্সের কালেকশন টিমের জন্য ডেডিকেটেড ট্যাব ও ব্লুটুথ প্রিন্টার সরবরাহ: তাৎক্ষণিক প্রিন্টেড মেমো।
  • ৩. ব্যবসায়ী দাতাদের জন্য বাৎসরিক 'সাদাকাহ সম্মাননা সনদ' বিতরণ: সম্পর্কের দৃঢ়তা।
  • ৪. কালেকশন ফান্ডের শতভাগ অর্থ সরাসরি এতিমখানা অ্যাকাউন্টে অটো-ট্রান্সফার: শরয়ী সুরক্ষা।
  • ৫. সততা ও বিশ্বস্ততার শ্রেষ্ঠ মডেল চ্যারিটি হিসেবে প্রতিষ্ঠার শপথ: দ্বীনের ভাবমূর্তি সমুন্নত রাখা।

১০. সুশৃঙ্খল দানবাক্স ব্যবস্থাপনার সুদূরপ্রসারী অর্থনৈতিক সুফল

যখন একটি প্রতিষ্ঠানের দানবাক্স থেকে প্রতিটি পয়সা নিরাপদে মাদ্রাসার তহবিলে জমা হয়, তখন আর্থিক সংকট চিরতরে দূর হয়।

  • ১. মাদ্রাসার এতিমখানার জন্য স্থায়ী ও নির্ভরযোগ্য মাসিক আয়ের উৎস: প্রতিদিনের বাজার খরচ নিশ্চিত হওয়া।
  • ২. তহবিল আত্মসাৎ ও চুরির সুযোগ চিরতরে নির্মূল: শতভাগ স্বচ্ছ অডিট ট্রেইল।
  • ৩. এলাকার ব্যবসায়ী ও জনসাধারণের মাঝে গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা: অনুদানের পরিমাণ বৃদ্ধি।
  • ৪. পরিচালনা কমিটির সামনে নির্দ্বিধায় হিসাব পেশের সক্ষমতা: কোনো সন্দেহের অবকাশ না থাকা।
  • ৫. আখেরাতের মহা হিসাবের দিনে সফল আমানতদার হিসেবে জান্নাত লাভ: আল্লাহর দরবারে পুরস্কার লাভ।

১১. দ্বীনি আমানত রক্ষা ও মুহতামিমের চূড়ান্ত দিকনির্দেশনা

দানবাক্সের প্রতিটি খুচরা পয়সা সাধারণ মানুষের ঘাম ঝরানো হালাল উপার্জনের দান। এর সুরক্ষায় নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বজায় রাখাই মুহতামিম ও হিসাব বিভাগের পরমতম দ্বীনি ও পরকালীন আমানত।

সাধারণ জিজ্ঞাসা ও প্রশ্নোত্তর (FAQs)

  • প্রশ্ন ১: একটি দানবাক্স কতদিন পর পর খোলা উচিত? উত্তর: প্রতি ইংরেজি বা হিজরি মাসের নির্দিষ্ট তারিখে (মাসে ১ বার) খোলা সবচেয়ে আদর্শ ও নিয়ন্ত্রণের উপযোগী।
  • প্রশ্ন ২: দানবাক্সে ছেঁড়া বা অচল টাকা থাকলে কী করণীয়? উত্তর: ব্যাংকের মাধ্যমে পরিবর্তন করে সমপরিমাণ টাকা এন্ট্রি দিতে হবে এবং অডিট নোটে তা উল্লেখ করতে হবে।
  • প্রশ্ন ৩: দানবাক্সে কি কিউআর কোড রাখা যায়? উত্তর: হ্যাঁ, বাক্সের গায়ে বিকাশ, নগদ ও ব্যাংকিং কিউআর কোড প্রিন্ট রাখলে ক্যাশলেস দাতারা সহজে দান করতে পারেন।
  • প্রশ্ন ৪: সফটওয়্যারে কি প্রতিটি বক্সের পৃথক কালেকশন দেখা যায়? উত্তর: হ্যাঁ, JamiaSoft-এ বক্স নম্বর দিলে বিগত ৫ বছরের সমস্ত কালেকশনের গ্রাফিক্যাল চার্ট দেখা যায়।
  • প্রশ্ন ৫: দোকানদার দানবাক্স রাখতে রাজি না হলে কী করণীয়? উত্তর: জোর না করে মাদ্রাসার এতিমদের খেদমতের গুরুত্ব বুঝিয়ে বলা এবং তাদের সম্মতির ভিত্তিতেই স্থাপন করা সুন্নাত।
  • প্রশ্ন ৬: কালেকশনের সময় মাদ্রাসার অফিশিয়াল আইডি কার্ড থাকা কি বাধ্যতামূলক? উত্তর: হ্যাঁ, জালিয়াতি রোধে কালেকশন কর্মীদের গলায় মাদ্রাসার কিউআর কোডযুক্ত অফিশিয়াল আইডি কার্ড থাকা আবশ্যক।

১২. দানবাক্সের নিরাপত্তা ও এতিমদের রিজিকের বরকত

ডুয়াল-লক ও যৌথ গণনার মাধ্যমে যখন দানবাক্সের তহবিল সংগৃহীত হয়, তখন প্রতিটি পয়সা নিরাপদে এতিমদের পাতে যায়।

  • ১. কালেকশন থেকে টাকা চুরি বা আত্মসাতের সুযোগ শূন্য: শতভাগ ডিজিটাল স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা।
  • ২. এতিমখানা মেসের জন্য নির্ভরযোগ্য মাসিক আয়ের ধারা: প্রতিদিনের খাদ্য খরচ নিশ্চিত হওয়া।
  • ৩. ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের অকৃত্রিম ভালোবাসা লাভ: সততার কারণে অনুদানের পরিমাণ বৃদ্ধি।
  • ৪. পরিচালনা কমিটির সামনে নির্ভুল রিপোর্ট পেশ: কোনো সন্দেহ বা কানাঘুষার অবসান।
  • ৫. আখেরাতের মহা হিসাবের দিনে পুণ্যবান আমানতদার হিসেবে জান্নাত লাভ: আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন।
  • দানবাক্স অডিট ও জিপিএস কালেকশন হিস্ট্রি: প্রতি মাসের কালেকশন স্লিপ ও সিকিউরিটি সিল নাম্বার JamiaSoft ফিন্যান্স পোর্টালে এনক্রিপ্টেড থাকে।
📅প্রকাশিত:
মাওলানা তানভীর আহমেদ

মাওলানা তানভীর আহমেদ

শরয়ী অডিট ও ফিন্যান্স কনসালট্যান্ট

সকল প্রবন্ধ →

বাংলাদেশের প্রখ্যাত শরয়ী ফিন্যান্স বিশেষজ্ঞ। কওমি ও আলিয়া মাদ্রাসার যাকাত, লিল্লাহ ও সাধারণ ফান্ডের পৃথক ব্যবস্থাপনা ও অডিটে এক দশকের অভিজ্ঞতা রেখেছেন। JamiaSoft-এর শরয়ী কমপ্লায়েন্স আর্কিটেকচারের প্রধান পরামর্শদাতা।

আর্টিকেলটি ভালো লাগলে অন্যদের সাথে শেয়ার করুন

দ্বীনি প্রতিষ্ঠান ও মাদ্রাসার আর্থিক আমানতদারিতা ও আধুনিকায়নে তথ্যগুলো ছড়িয়ে দিন।

সম্পর্কিত প্রবন্ধ

কওমি মাদ্রাসায় বহিরাগত চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট ও বিজ্ঞ শূরা অডিট: শতভাগ স্বচ্ছ হিসাব ও বার্ষিক রিপোর্ট এসওপি

কওমি মাদ্রাসায় বহিরাগত চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট ও বিজ্ঞ শূরা অডিট: শতভাগ স্বচ্ছ হিসাব ও বার্ষিক রিপোর্ট এসওপি

কওমি মাদ্রাসায় বহিরাগত প্রফেশনাল চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট (CA) ও বিজ্ঞ শূরা কমিটির বার্ষিক অডিট, ইন্টারনাল কন্ট্রোল ও স্বচ্ছ হিসাব প্রকাশ এসওপি।

পড়ুন →
মাদ্রাসার সম্মানিত শিক্ষকবৃন্দের প্রভিডেন্ট ফান্ড ও গ্র্যাচুইটি স্কিম: শরয়ী বিনিয়োগ ও অবসরকালীন সুরক্ষা এসওপি

মাদ্রাসার সম্মানিত শিক্ষকবৃন্দের প্রভিডেন্ট ফান্ড ও গ্র্যাচুইটি স্কিম: শরয়ী বিনিয়োগ ও অবসরকালীন সুরক্ষা এসওপি

কওমি মাদ্রাসার সম্মানিত শিক্ষক-কর্মচারীদের প্রভিডেন্ট ফান্ড (PF), গ্র্যাচুইটি ট্রাস্ট, সুদমুক্ত শরয়ী বিনিয়োগ ও অবসরকালীন আর্থিক সুরক্ষা এসওপি।

পড়ুন →
রমজান মাসে মাদ্রাসার জাকাত ও ফিতরা কালেকশন: সিলযুক্ত রসিদ বই, ডিজিটাল এন্ট্রি ও অডিট এসওপি

রমজান মাসে মাদ্রাসার জাকাত ও ফিতরা কালেকশন: সিলযুক্ত রসিদ বই, ডিজিটাল এন্ট্রি ও অডিট এসওপি

পবিত্র রমজান মাসে কওমি মাদ্রাসার জাকাত, ফিতরা ও দান সংগ্রহ, সিলযুক্ত ক্রমিক রসিদ বই বণ্টন, ডিজিটাল এন্ট্রি ও শতভাগ ক্যাশ রিকনসিলিয়েশন এসওপি।

পড়ুন →
স্মার্ট মাদ্রাসা সলিউশন

আপনার মাদ্রাসায় JamiaSoft ব্যবহার করতে চান?

হিফজ ট্র্যাকিং, শরয়ী ফিন্যান্স ও অনলাইন ভর্তির আধুনিক অভিজ্ঞতা পেতে আজই ফ্রি ডেমো বুক করুন।

ফ্রি ডেমো বুক করুন →