
কওমি ও আলিয়া মাদ্রাসার পরীক্ষার প্রশ্নপত্র মডারেশন ও নিরপেক্ষ খাতা মূল্যায়ন পদ্ধতি
মাদ্রাসার সেমিস্টার ও বার্ষিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র প্রণয়ন, প্রশ্ন মডারেশন কমিটি, গোপনীয়তা রক্ষা, কোডিং-ডিকোডিং খাতা পরীক্ষণ এবং নিরপেক্ষ ফলাফল তৈরির পূর্ণাঙ্গ নির্দেশিকা।

মাদ্রাসার সেমিস্টার ও বার্ষিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র প্রণয়ন, প্রশ্ন মডারেশন কমিটি, গোপনীয়তা রক্ষা, কোডিং-ডিকোডিং খাতা পরীক্ষণ এবং নিরপেক্ষ ফলাফল তৈরির পূর্ণাঙ্গ নির্দেশিকা।
একটি দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার আসল মান ও শিক্ষার্থীদের মেধার বস্তুনিষ্ঠ মূল্যায়ন নির্ভর করে তার পরীক্ষা পদ্ধতির স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার ওপর। কওমি ও আলিয়া মাদ্রাসাগুলোতে ঐতিহ্যগতভাবে ষাণ্মাসিক, বার্ষিক ও কেন্দ্রীয় বেফাক পরীক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু অনেক প্রতিষ্ঠানে সুনির্দিষ্ট 'প্রশ্ন মডারেশন কমিটি' না থাকা, পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে পুনরাবৃত্তি, খাতা মূল্যায়নে ব্যক্তিগত পক্ষপাত এবং নম্বর গণনায় ম্যানুয়াল ভুলের কারণে প্রকৃত মেধাবী শিক্ষার্থীরা অবমূল্যায়িত হয়।
মাদ্রাসার প্রশ্নপত্র মডারেশন ও নিরপেক্ষ খাতা মূল্যায়ন পদ্ধতি (Question Moderation & Blind Marking Framework) হলো এমন একটি পেশাদার ও শরীয়াহসম্মত একাডেমিক ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে সিলেবাস কভারেজ অনুযায়ী ৩ সেট গোপনীয় প্রশ্ন তৈরি, প্রশ্নপত্র মডারেশন বোর্ডের অনুমোদন, খাতার কভার পেজে গোপন কোডিং সিস্টেম এবং প্রধান পরীক্ষকের দ্বারা দ্বিতীয় দফা নিরীক্ষা নিশ্চিত করা হয়। JamiaSoft তালীমাত ও পরীক্ষা মডিউলের মাধ্যমে নম্বর ইনপুটের সাথে সাথে স্বয়ংক্রিয় জিপিএ, বেফাক গ্রেডিং এবং মার্কশিট প্রস্তুত হয়। এর ফলে পরীক্ষার শতভাগ বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় থাকে এবং কোনো শিক্ষার্থী অবিচারের শিকার হয় না।
সুষ্ঠু ও ইনসাফপূর্ণ মূল্যায়ন প্রতিটি শিক্ষার্থীর মাঝে পড়াশোনার প্রতি গভীর আগ্রহ ও আত্মবিশ্বাস তৈরি করে।
১. মানসম্মত প্রশ্নপত্র প্রণয়নের ৫টি মৌলিক মূলনীতি
কওমি ও আলিয়া জামাতসমূহের জন্য প্রশ্নপত্র তৈরির আন্তর্জাতিক মানদণ্ড:
- •১. সম্পূর্ণ সিলেবাস কভারেজ (Syllabus Coverage): কোনো একটি নির্দিষ্ট অধ্যায় থেকে সব প্রশ্ন না করে কিতাবের শুরু, মধ্য ও শেষভাগ থেকে সুষম বণ্টন করা।
- •২. তিন স্তরের মেধাভিত্তিক প্রশ্ন কাঠামো:
- •সহজ স্তর (৪০% নম্বর): সাধারণ মেধার শিক্ষার্থীরা যাতে পাস নম্বর অর্জন করতে পারে (মৌলিক সংজ্ঞা, অনুবাদ ও কাওয়ায়েদ)।
- •মাঝারি স্তর (৪০% নম্বর): ভালো ছাত্রদের মেধার গভীরতা যাচাই (বিশ্লেষণ, তারকিব ও হাদিসের ব্যাখ্যা)।
- •উচ্চ মেধা স্তর (২০% নম্বর): প্রথম স্থান নির্ধারণের জন্য জটিল তাহকিক ও তুলনামূলক ফিকহি মাসআলা।
- •৩. প্রশ্নের ভাষা ও আরবি ইবারতের শতভাগ বিশুদ্ধতা: প্রশ্নপত্রে যেন কোনো প্রকার বানান ভুল, অস্পষ্ট হরকত বা বিভ্রান্তিকর বাক্য না থাকে।
- •৪. বিকল্প প্রশ্নের পর্যাপ্ত সুযোগ (Choice of Questions): শিক্ষার্থীদের সুবিধার জন্য পর্যাপ্ত অতিরিক্ত অপশন বা বিকল্প প্রশ্ন রাখা।
- •৫. সময় ও নম্বরের যৌক্তিক সামঞ্জস্য: নির্ধারিত ৩ ঘণ্টার মধ্যে যেন একজন ছাত্র ধীরস্থিরে পূর্ণ উত্তর লিখতে পারে সেই মাপে প্রশ্নের পরিধি রাখা।
২. প্রশ্নপত্র মডারেশন কমিটির দায়িত্ব ও গোপনীয়তা রক্ষা
নকল ও ফাঁসমুক্ত পরীক্ষা নিশ্চিতে মডারেশন বোর্ডের করণীয়:
- •৩ সেট প্রশ্নপত্র আহ্বান: সংশ্লিষ্ট জামাতের শিক্ষকের কাছ থেকে সিলগালা খামে সম্পূর্ণ আলাদা ৩ সেট প্রশ্নপত্র সংগ্রহ করা।
- •মডারেশন বোর্ডের স্ক্রিনিং: প্রধান মুহাদ্দিস ও জ্যেষ্ঠ শিক্ষকদের নিয়ে গঠিত বোর্ড ৩ সেট থেকে সেরা প্রশ্নগুলো বেছে নিয়ে চূড়ান্ত ১ সেট প্রশ্ন প্রস্তুত করবেন।
- •মাদ্রাসার নিজস্ব মেশিনে সিকিউরড প্রিন্টিং: কোনো সাধারণ বাণিজ্যিক প্রেস বা বাইরের দোকানে প্রশ্ন না পাঠিয়ে মাদ্রাসার নিজস্ব প্রিন্টারে পরীক্ষার মাত্র ২ ঘণ্টা পূর্বে প্রশ্ন প্রিন্ট ও সিলগালা করা।
- •প্রশ্নপত্রের কঠোর পাহারা: প্রধান পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের ব্যক্তিগত ভল্ট বা মাদ্রাসার সিকিউরড রুমে প্রশ্ন সংরক্ষণ।
৩. পক্ষপাতহীন খাতা মূল্যায়নে গোপন কোডিং ও ডিকোডিং সিস্টেম
শিক্ষকের ব্যক্তিগত পছন্দ বা অপছন্দের প্রভাবমুক্ত খাতা পরীক্ষার বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি:
| পরীক্ষার ধাপ | বাস্তবায়ন পদ্ধতি | দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি | নিরাপত্তার সুবিধা |
|---|---|---|---|
| ধাপ ১: খাতা সংগ্রহ | হল থেকে খাতা গুনে পরীক্ষা অফিসে জমা | হল পরিদর্শক উস্তাদ | খাতা হারানোর ঝুঁকি শূন্য |
| ধাপ ২: গোপন কোডিং | রোল নম্বরের ওপর আঠা দিয়ে বিশেষ বারকোড/গোপন নম্বর সাঁটানো | পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দল | পরীক্ষক ছাত্রের নাম ও রোল জানতে পারেন না |
| ধাপ ৩: খাতা পরীক্ষণ | প্রতিটি প্রশ্নের পাশে লাল কালিতে নম্বর ও স্বাক্ষর প্রদান | পরীক্ষক উস্তাদ | শতভাগ নিরপেক্ষ মূল্যায়ন |
| ধাপ ৪: ডিকোডিং ও এন্ট্রি | কোড খুলে মূল রোল নম্বরের বিপরীতে সফটওয়্যারে নম্বর এন্ট্রি | নাজেমে তালীমাত | সর্বোচ্চ গোপনীয়তা ও নির্ভুল ফলাফল |
| ধাপ ৫: সেকেন্ড রিভিউ | ফেল করা ও সর্বোচ্চ নম্বর পাওয়া খাতাগুলো প্রধান পরীক্ষকের চেক | প্রধান মুহাদ্দিস | কোনো অন্যায্য নম্বর বাদ না পড়া |
৪. বেফাক ও কওমি গ্রেডিং স্কেল অটোমেশন
JamiaSoft সফটওয়্যারে স্বয়ংক্রিয় গ্রেডিং সিস্টেম:
- •মুমতাজ (Star Marks / A+): ৮০% থেকে ১০০% নম্বর অর্জনকারী।
- •জায়্যিদ জিদ্দান (First Division / A): ৬৫% থেকে ৭৯% নম্বর অর্জনকারী।
- •জায়্যিদ (Second Division / B): ৫০% থেকে ৬৪% নম্বর অর্জনকারী।
- •মাকবুল (Pass / C): ৪০% থেকে ৪৯% নম্বর অর্জনকারী।
- •রাসিব (Fail / F): ৪০% এর নিচে নম্বর পেলে অকৃতকার্য গণ্য।
৫. জেলা ও বিভাগ ভিত্তিক মাদ্রাসা পরীক্ষা অটোমেশনের বাস্তব কেস স্টাডি
বাংলাদেশের শীর্ষ দ্বীনি প্রতিষ্ঠানগুলোর সফল অভিজ্ঞতা:
- •ঢাকার একটি প্রাচীন জামিয়া: কোডিং সিস্টেম চালু করার পর পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে ছাত্রদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ চিরতরে বন্ধ হয় এবং অভিভাবকরা প্রতিষ্ঠানের ইনসাফের ভূয়সী প্রশংসা করেন।
- •চট্টগ্রামের একটি শীর্ষস্থানীয় আলিয়া মাদ্রাসা: জামিয়া সফটওয়্যারের মাধ্যমে নম্বর ইনপুট নেওয়ায় মাত্র ২ ঘণ্টার মধ্যে ৫০০ ছাত্রের সম্মিলিত মেধা তালিকা ও মার্কশিট প্রিন্ট করা সম্ভব হয়।
- •সিলেটের একটি মহিলা মাদ্রাসা: পরীক্ষার পরপরই সকল অভিভাবকের মোবাইলে বিস্তারিত বিষয়ভিত্তিক নম্বর এসএমএসে পৌঁছানোয় পরবর্তী সেশনের ভর্তি চাহিদা দ্বিগুণ বৃদ্ধি পায়।
৬. পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটির জন্য ৫-দফা অন্তর্বর্তী চেকলিস্ট
সফল পরীক্ষা সমাপনীতে কমিটির করণীয়:
- •১. অতিরিক্ত খাতার হিসাব সংরক্ষণ: কোন শিক্ষককে কয়টি খাতা দেওয়া হলো এবং কয়টি ফেরত এলো তার লিখিত রেজিস্টার রাখা।
- •২. খাতা মূল্যায়নের সুনির্দিষ্ট সময়সীমা: পরীক্ষা শেষ হওয়ার সর্বোচ্চ ৭ দিনের মধ্যে খাতা দেখে নম্বর শিট জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা।
- •৩. উত্তরপত্রের নিরাপদ ক্লাউড ব্যাকআপ: ছাত্রদের নম্বর ও ফলাফল সফটওয়্যারের ডাটাবেজে ক্লাউডে স্থায়ী সংরক্ষণ।
- •৪. বার্ষিক পুরস্কার বিতরণী প্রস্তুতি: পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকারীদের জন্য ক্রেস্ট ও কিতাব রেডি রাখা।
- •৫. দুর্বল ছাত্রদের জন্য বিশেষ রিকোভারি ক্লাস: যারা কোনো বিষয়ে ফেল করেছে তাদের জন্য পরবর্তী সেশনের পূর্বে বিশেষ টিউটোরিয়াল ক্লাস পরিচালনা।
৭. কওমি ও আলিয়া মাদ্রাসা পরীক্ষার গ্রেডিং ও ফলাফল প্রস্তুতের ৭-দফা গাইডলাইন
একটি আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ও নিরপেক্ষ ফলাফল প্রণয়ন প্রক্রিয়ার রূপরেখা:
- •১. নম্বর যোগফলে শতভাগ নির্ভুলতা: কোনো প্রশ্নের নম্বর যেন বাদ না পড়ে বা অতিরিক্ত যোগ না হয় সে জন্য প্রধান পরীক্ষকের তত্ত্বাবধানে ডাবল-চেকিং টিম গঠন।
- •২. ওএমআর ও ডিজিটাল এন্ট্রি: শিক্ষকরা সরাসরি JamiaSoft মোবাইল অ্যাপ বা ট্যাবে প্রবেশ করে কোড নম্বরের বিপরীতে প্রাপ্ত নম্বর দ্রুত এন্ট্রি প্রদান।
- •৩. ফলাফলের ক্রস-ম্যাচিং: এন্ট্রি শেষ হওয়ার পর মূল খাতার সাথে সফটওয়্যারের ডাটা স্ক্রিনে মিলিয়ে ফাইনাল লক করা।
- •৪. মেধা তালিকা প্রস্তুতকরণ: সমান নম্বর পেলে মূল কিতাব (হাদিস/ফিকহ) এবং উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে মেধা ক্রম নির্ধারণ।
- •৫. একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট ও প্রশংসাপত্র মুদ্রণ: সোনালী বর্ডার ও কিউআর কোডসহ চাররঙা প্রফেশনাল মার্কশিট প্রিন্ট।
- •৬. অভিভাবক এসএমএস ডেলিভারি: ফলাফল প্রকাশের সাথে সাথে শত শত অভিভাবকের মোবাইলে বাংলা ইউনিকোড এসএমএসে রেজাল্ট প্রেরণ।
- •৭. বার্ষিক অভিভাবক সম্মেলন: পরীক্ষার পরদিন পিতা-মাতাকে মাদ্রাসায় আমন্ত্রণ জানিয়ে ফলাফল প্রদান ও মতবিনিময়।
৮. প্রশ্নপত্র প্রণয়নে উস্তাদদের জন্য ৫টি আচরণগত সতর্কতা
পরীক্ষার মর্যাদা ও শিক্ষার্থীবান্ধব প্রশ্ন নিশ্চিতে করণীয়:
| সতর্কতার ক্ষেত্র | যা করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ | যা করা উচিত ও প্রাতিষ্ঠানিক নিয়ম |
|---|---|---|
| সিলেবাসের ভারসাম্য | ক্লাসে না পড়ানো অংশ থেকে প্রশ্ন দেওয়া | শতভাগ পঠিত সিলেবাস থেকে ভারসাম্যপূর্ণ প্রশ্ন |
| প্রশ্নের ভাষা | অস্পষ্ট হাতের লেখা বা জটিল ভাষা ব্যবহার | স্পষ্ট কম্পিউটারে টাইপ করা প্রমিত আরবি/বাংলা |
| সময়ের সামঞ্জস্য | অতিরিক্ত দীর্ঘ প্রশ্ন যা ৩ ঘণ্টায় লেখা অসম্ভব | সময় মেপে বাস্তবসম্মত দৈর্ঘ্যের প্রশ্ন প্রণয়ন |
| বিকল্প প্রশ্নের সংখ্যা | কোনো বিকল্প প্রশ্ন না দিয়ে বাধ্য করা | প্রতিটি বিভাগে পর্যাপ্ত অথবা/বিকল্প প্রশ্ন রাখা |
| গোপনীয়তা রক্ষা | পরীক্ষার পূর্বে ছাত্রদের গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দেওয়া | শতভাগ নিরপেক্ষতা ও পূর্ণ গোপনীয়তা বজায় রাখা |
৯. বিভিন্ন মাদ্রাসার নিরপেক্ষ পরীক্ষা পদ্ধতির সফল কেস স্টাডি
বাংলাদেশের শীর্ষ দ্বীনি প্রতিষ্ঠানগুলোর বাস্তব ফলাফল:
- •ঢাকার একটি প্রাচীন জামিয়া: কোডিং সিস্টেম চালু করার পর পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে ছাত্রদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ চিরতরে বন্ধ হয় এবং অভিভাবকরা প্রতিষ্ঠানের ইনসাফের ভূয়সী প্রশংসা করেন।
- •চট্টগ্রামের একটি শীর্ষস্থানীয় আলিয়া মাদ্রাসা: জামিয়া সফটওয়্যারের মাধ্যমে নম্বর ইনপুট নেওয়ায় মাত্র ২ ঘণ্টার মধ্যে ৫০০ ছাত্রের সম্মিলিত মেধা তালিকা ও মার্কশিট প্রিন্ট করা সম্ভব হয়।
- •সিলেটের একটি মহিলা মাদ্রাসা: পরীক্ষার পরপরই সকল অভিভাবকের মোবাইলে বিস্তারিত বিষয়ভিত্তিক নম্বর এসএমএসে পৌঁছানোয় পরবর্তী সেশনের ভর্তি চাহিদা দ্বিগুণ বৃদ্ধি পায়।
১০. পরীক্ষায় মেধার সঠিক মূল্যায়নে 'রুব্রিক স্কোরিং' পদ্ধতির কার্যকারিতা
নম্বর প্রদানে ব্যক্তিগত পক্ষপাতের অবসান ঘটাতে আধুনিক রুব্রিক ফ্রেমওয়ার্ক:
- •১. আরবি সাহিত্যের ইবারত ও তারকিব রুব্রিক: বিশুদ্ধ ব্যাকরণ ও এরাবের জন্য ৪০%, শব্দের শাব্দিক ও পারিভাষিক অর্থের জন্য ৩০% এবং তুলনামূলক বিশ্লেষণের জন্য ৩০% নম্বর বণ্টন।
- •২. ফিকহ ও ফতোয়ার মাসআলা রুব্রিক: দলিল ও মূল মতন উল্লেখের জন্য ৫০%, আধুনিক বাস্তব সমস্যার সাথে প্রয়োগের জন্য ৩০% এবং ভাষার প্রাঞ্জলতার জন্য ২০% নম্বর বরাদ্দ।
- •৩. উত্তরপত্র ৩ বছর সংরক্ষণের প্রাতিষ্ঠানিক নীতি: ফাইনাল পরীক্ষার উত্তরপত্র মাদ্রাসার আর্কাইভে সুরক্ষিত রাখা যাতে যেকোনো অডিট বা গবেষণায় রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহার করা যায়।
সাধারণ জিজ্ঞাসা ও প্রশ্নোত্তর (FAQs)
- •প্রশ্ন ১: কওমি মাদ্রাসার পরীক্ষায় কি গ্রেস মার্কস (Grace Marks) দেওয়ার নিয়ম আছে? উত্তর: কোনো ছাত্র মাত্র ১ বা ২ নম্বরের জন্য ফেল করলে প্রধান পরীক্ষকের বিশেষ বিবেচনায় সর্বোচ্চ ২ নম্বর গ্রেস দিয়ে পাস করানোর প্রাতিষ্ঠানিক সুযোগ রাখা যায়।
- •প্রশ্ন ২: কোনো ছাত্র খাতা পুনর্নিরীক্ষণের (Re-scrutiny) আবেদন করতে পারে কি? উত্তর: হ্যাঁ, ফলাফল প্রকাশের ৩ দিনের মধ্যে নির্ধারিত ফি জমা দিয়ে আবেদন করলে প্রধান পরীক্ষক খাতার যোগফল পুনরায় গণনা করে দেখেন।
- •প্রশ্ন ৩: সফটওয়্যারে কি বাংলা, আরবি ও ইংরেজি ৩ ভাষার বিষয় একসাথে যোগ করা যায়? উত্তর: হ্যাঁ, JamiaSoft-এ ইসলামিক কিতাবের পাশাপাশি সাধারণ বিষয়ের নম্বর যুক্ত করে পূর্ণাঙ্গ সমন্বিত মার্কশিট তৈরি করা যায়।
- •প্রশ্ন ৪: পরীক্ষার হলে কি শিক্ষকদের মোবাইল রাখা নিষিদ্ধ? উত্তর: হ্যাঁ, পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের গোপনীয়তা ও হলের নিস্তব্ধতা রক্ষায় পরিদর্শক শিক্ষকদের মোবাইল ফোন পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ কক্ষে জমা রাখা বাধ্যতামূলক।
- •প্রশ্ন ৫: খাতা মূল্যায়নে ভুল হলে পরীক্ষক শিক্ষকের কি কোনো জবাবদিহিতা আছে? উত্তর: প্রধান পরীক্ষক যোগফলে মারাত্মক ভুল পেলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষককে সতর্ক করেন এবং সংশোধিত নম্বর চূড়ান্ত করেন।
- •প্রশ্ন ৬: ডিজিটাল মার্কশিটে কি মাদ্রাসার জলছাপ ও সিল যুক্ত থাকে? উত্তর: হ্যাঁ, সফটওয়্যার থেকে অটোমেটিক প্রতিষ্ঠানের অফিসিয়াল জলছাপ, মনোগ্রাম ও নাজেমে তালীমাতের স্বাক্ষরযুক্ত চাররঙা মার্কশিট প্রিন্ট হয়।
JamiaSoft টিম
মাদ্রাসা ডিজিটালাইজেশন বিশেষজ্ঞ
JamiaSoft-এর সম্পাদক ও প্রযুক্তি দল — বাংলাদেশের কওমি, আলিয়া ও হিফজ মাদ্রাসার শরয়ী ফিন্যান্স, হিফজ ট্র্যাকিং ও ডিজিটাল অ্যাডমিশন নিয়ে নিয়মিত গাইড ও গবেষণা প্রকাশ করে।
আর্টিকেলটি ভালো লাগলে অন্যদের সাথে শেয়ার করুন
দ্বীনি প্রতিষ্ঠান ও মাদ্রাসার আর্থিক আমানতদারিতা ও আধুনিকায়নে তথ্যগুলো ছড়িয়ে দিন।
সম্পর্কিত প্রবন্ধ

মাদ্রাসার সেমিস্টার পরীক্ষার হল সিটিং প্ল্যান ও হল পরিদর্শক এসওপি: নকলমুক্ত পরিবেশ ও রোল নম্বর ম্যানেজমেন্ট
কওমি ও আবাসিক মাদ্রাসার সেমিস্টার পরীক্ষার হল সিটিং প্ল্যান, জিকজ্যাক আসন বিন্যাস, পরিদর্শক উস্তাদগণের দায়িত্ব ও নকলমুক্ত পরীক্ষার এসওপি।
পড়ুন →
কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের আরবি প্রবন্ধ ও ইনশা (Insha) লিখন দক্ষতা: আরবি সাহিত্য ও সৃজনশীল রচনা পেডাগজি
কওমি মাদ্রাসায় আরবি ইনশা ও সৃজনশীল প্রবন্ধ রচনা শিক্ষা, আল-ইনশাউত তলকী উল-আরাবিয়্যাহ, শব্দভাণ্ডার বৃদ্ধি ও আন্তর্জাতিক আরবি লেখক তৈরির গাইড।
পড়ুন →
কওমি ও আবাসিক মাদ্রাসার বাৎসরিক একাডেমিক ক্যালেন্ডার ও টার্ম ব্রেকডাউন: ছুটি, পরীক্ষা ও সিলেবাস ট্র্যাকিং গাইড
কওমি ও আবাসিক মাদ্রাসার শিক্ষাবর্ষের একাডেমিক ক্যালেন্ডার প্রণয়ন, ৩টি টার্ম পরীক্ষা, রমজান-কোরবানি ছুটি সমন্বয় ও সিলেবাস ট্র্যাকিং গাইড।
পড়ুন →আপনার মাদ্রাসায় JamiaSoft ব্যবহার করতে চান?
হিফজ ট্র্যাকিং, শরয়ী ফিন্যান্স ও অনলাইন ভর্তির আধুনিক অভিজ্ঞতা পেতে আজই ফ্রি ডেমো বুক করুন।