
মাদ্রাসায় অভিভাবক অভিযোগ ও পরামর্শ সেল গঠন: স্বচ্ছ ফিডব্যাক ও সংকট নিরসন এসওপি
কওমি ও আবাসিক মাদ্রাসায় অভিভাবক সন্তুষ্টি বৃদ্ধি, ডিজিটাল অভিযোগ ও পরামর্শ বক্স গঠন, দ্রুত সংকট নিরসন এবং প্রাতিষ্ঠানিক সুনাম রক্ষার পূর্ণাঙ্গ এসওপি।
কওমি ও আবাসিক মাদ্রাসায় অভিভাবক সন্তুষ্টি বৃদ্ধি, ডিজিটাল অভিযোগ ও পরামর্শ বক্স গঠন, দ্রুত সংকট নিরসন এবং প্রাতিষ্ঠানিক সুনাম রক্ষার পূর্ণাঙ্গ এসওপি।
একটি আধুনিক দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দীর্ঘমেয়াদী সাফল্য, ছাত্র সংখ্যা বৃদ্ধি এবং এলাকায় আস্থার মজবুত ভিত্তি গড়ে তোলার অন্যতম চাবিকাঠি হলো অভিভাবকদের সাথে খোলামেলা ও আন্তরিক যোগাযোগ ব্যবস্থা। কিন্তু বহু মাদ্রাসায় কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ বা পরামর্শ সেল না থাকা, অভিভাবকের সাধারণ মতামতকে অবহেলা করা কিংবা কোনো অসন্তোষ প্রকাশ পেলে তা শিক্ষকের সাথে ব্যক্তিগত বিরোধে রূপ নেওয়ার কারণে অনেক অভিভাবক ক্ষুব্ধ হয়ে সন্তানকে অন্য প্রতিষ্ঠানে নিয়ে যান। এর ফলে প্রতিষ্ঠানের সুনামে মারাত্মক আঁচড় পড়ে।
মাদ্রাসায় অভিভাবক অভিযোগ নিরসন ও ফিডব্যাক পদ্ধতি (Madrasa Parent Grievance Redressal & Feedback SOP) হলো একটি আধুনিক, মনস্তাত্ত্বিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংকট নিরসন মডেল, যার মাধ্যমে মোবাইল অ্যাপে ডিজিটাল অভিযোগ বক্স, ৩ সদস্যের নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কার্যকর সমাধান এবং অভিভাবকদের সাথে দ্বিমুখী আস্থার সম্পর্ক নিশ্চিত করা হয়। JamiaSoft প্যারেন্ট পোর্টাল ব্যবহারের মাধ্যমে অভিভাবকরা কোনো দ্বিধা ছাড়াই তাদের যেকোনো পরামর্শ ও মতামত সরাসরি মুহতামিম সাহেবের কাছে পাঠাতে পারেন। এর ফলে যেকোনো ভুল বোঝাবুঝি তাৎক্ষণিক দূর হয়।
শিক্ষার্থীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়তে অভিভাবককে কেবল গ্রাহক নয়, বরং দ্বীনি তরবিয়তের আজীবন সহযোগী মনে করা এক অনন্য প্রাতিষ্ঠানিক প্রজ্ঞা।
১. অভিভাবক অসন্তোষ তৈরি হওয়ার প্রধান ৪টি বাস্তব কারণ
মাদ্রাসায় সাধারণ ভুল বোঝাবুঝি ও ক্ষোভের মূল ক্ষেত্রসমূহ:
- •১. মেসের খাবারের মান নিয়ে শিক্ষার্থীর অভিযোগ: ছাত্র বাসায় গিয়ে খাবারের বিষয়ে নেতিবাচক কথা বলা এবং মাদ্রাসার কোনো স্পষ্ট জবাব না থাকা।
- •২. শিক্ষক কর্তৃক অতিরিক্ত শাসন বা অসৌজন্যমূলক আচরণ: ক্লাসে শিশুকে অতিরিক্ত বকাঝকা করা নিয়ে অভিভাবকের ক্ষোভ।
- •৩. শিক্ষার্থীর স্বাস্থ্য ও হঠাৎ অসুস্থতার খবর সময়মতো না জানানো: শিশু অসুস্থ হলেও অভিভাবককে না জানিয়ে অবহেলায় ফেলে রাখা।
- •৪. অতিরিক্ত অনাকাঙ্ক্ষিত ফি দাবি: কোনো পূর্ব ঘোষণা ছাড়া হঠাৎ বিশেষ চাঁদা বা ফি ধার্য করা।
২. সনাতন উপেক্ষা বনাম JamiaSoft ডিজিটাল অভিযোগ ও পরামর্শ সেল
সনাতন অবহেলা ও আধুনিক সুশৃঙ্খল অভিযোগ নিরসনের তুলনামূলক চিত্র:
| বৈশিষ্ট্যের ক্ষেত্র | সনাতন প্রচলিত ব্যবস্থা | JamiaSoft সমন্বিত গ্রিভেন্স সেল |
|---|---|---|
| অভিযোগ জমা দেওয়ার মাধ্যম | মুখে মুখে বা চিঠিতে (অধিকাংশ সময় হারিয়ে যায়) | মোবাইল অ্যাপে গোপনীয় ও ডিজিটাল টিকিট জেনারেশন |
| সমাধানের সময়সীমা | অনির্দিষ্টকাল ঝুলে থাকা বা কোনো উত্তর না দেওয়া | সিস্টেমে স্বয়ংক্রিয় ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার রেজোলিউশন এসএলএ |
| তদন্তের নিরপেক্ষতা | শিক্ষকের সাফাই শুনে অভিযোগ খারিজ | ৩ সদস্যের নিরপেক্ষ কমিটি দ্বারা সত্যতা যাচাই |
| মুহতামিম সাহেবের প্রত্যক্ষ তদারকি | পরিচালক জানতেও পারেন না | মুহতামিমের ড্যাশবোর্ডে প্রতিটি টিকিটের লাইভ স্ট্যাটাস |
| অভিভাবকের সাথে সম্পর্কের ফলাফল | ক্ষোভ ও সন্তান অন্য মাদ্রাসায় ট্রান্সফার | দ্রুত ন্যায়বিচার পেয়ে অভিভাবকের আস্থা দ্বিগুণ বৃদ্ধি |
৩. অভিভাবক অভিযোগ নিরসনের ৪-স্তরের আদর্শ এসওপি
সুশৃঙ্খল ও মর্যাদাপূর্ণ সমাধান প্রক্রিয়ার ধারাবাহিক ধাপ:
- •১ম স্তর: ডিজিটাল টিকিট ওপেনিং: অভিভাবক অ্যাপ থেকে অভিযোগের ক্যাটাগরি (মেস/পড়াশোনা/স্বাস্থ্য/ফি) সিলেক্ট করে সাবমিট করা।
- •২য় স্তর: অভিযোগের সত্যতা অনুসন্ধান: দায়িত্বশীল তদন্ত উস্তাদ কর্তৃক সংশ্লিষ্ট শিক্ষক, ছাত্র ও হোস্টেল সুপারের সাথে একান্তে কথা বলা।
- •৩য় স্তর: সংশোধনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ ও মুহতামিমের অনুমোদন: ভুল সংশোধন করে প্রয়োজনীয় প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা নেওয়া।
- •৪র্থ স্তর: অভিভাবককে ফোনে অবহিতকরণ ও ক্লোজিং: মুহতামিম বা সচিব কর্তৃক অভিভাবককে ফোন করে নেওয়া পদক্ষেপ জানানো ও দোয়া চাওয়া।
৪. প্রাতিষ্ঠানিক সুনাম অক্ষুণ্ণ রাখতে ৫টি সোনালী নির্দেশিকা
পরিচালনা কমিটি ও শিক্ষকদের জন্য গাইডলাইন:
- •১. অভিভাবকের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা: কখনোই কথার মাঝে বাধা না দিয়ে তাকে সম্পূর্ণ বক্তব্য প্রকাশের সুযোগ দেওয়া।
- •২. কোনো অবস্থাতেই ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ না করা: রাগ নিয়ন্ত্রণ করে নম্র ও স্নেহশীল কণ্ঠে কথা বলা।
- •৩. ভুল হলে প্রকাশ্যে স্বীকার করার সততা: প্রতিষ্ঠানের কোনো ত্রুটি থাকলে তা বিনীতভাবে স্বীকার করে তাৎক্ষণিক সমাধানের প্রতিশ্রুতি দেওয়া।
- •৪. ত্রৈমাসিক অভিভাবক সমাবেশ আয়োজন: ৩ মাস পর পর সকল অভিভাবককে নিয়ে পরামর্শ ও মোজাকারা সভা করা।
- •৫. আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে আমানত রক্ষা: অভিভাবকের সন্তুষ্টি অর্জনের মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অন্বেষণ।
৫. বিভিন্ন অঞ্চলের মাদ্রাসায় অভিযোগ সেলের বাস্তব কেস স্টাডি
বাংলাদেশের সেরা প্রতিষ্ঠানগুলোর অনুপ্রেরণামূলক ফলাফল:
- •ঢাকার একটি মডেল জামিয়া: ডিজিটাল অভিযোগ সেল চালুর পর তাদের ছাত্র ছাড়িয়ে নেওয়ার হার বা ড্রপআউট ৯৫% হ্রাস পায় এবং অভিভাবক সন্তুষ্টি শতভাগে পৌঁছায়।
- •চট্টগ্রামের একটি শীর্ষস্থানীয় হিফজ একাডেমি: মেসের খাবার নিয়ে অভিযোগ আসতেই ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে মেন্যু সংস্কার করে অভিভাবক মহলে প্রশংসিত হয়।
- •সিলেটের একটি গ্রামীণ বালিকা মাদ্রাসা: অভিভাবকদের সরাসরি মুহতামিমের কাছে মেসেজ পাঠানোর সুবিধা দেওয়ায় এলাকায় প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি আকাশচুম্বী হয়।
৬. পাবলিক রিলেশন ইনচার্জের জন্য ৫-দফা দৈনিক চেকলিস্ট
প্রতিদিনের তদারকিতে দায়িত্বশীল শিক্ষকের করণীয়:
- •১. সকাল ১০:০০ টায় নতুন ফিডব্যাক টিকিট চেক: কোনো নতুন অভিযোগ বা পরামর্শ জমা পড়েছে কিনা তা দেখা।
- •২. জরুরি অভিযোগ তাৎক্ষণিক মুহতামিমের নজরে আনা: স্বাস্থ্য বা নিরাপত্তা সংক্রান্ত টিকিট অগ্রাধিকার দেওয়া।
- •৩. তদন্তের অগ্রগতি রিপোর্ট সিস্টেমে আপডেট: কোন পর্যায়ে আছে তা সফটওয়্যারে সেভ রাখা।
- •৪. অভিভাবকের সাথে হাসিমুখে ফোনে যোগাযোগ: মিষ্টি ভাষায় কথা বলে সন্তুষ্টি নিশ্চিত করা।
- •৫. দিনশেষে সমাধানকৃত টিকিটের ফাইল ক্লোজ: সফল সমাপ্তির পর আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায়।
৭. প্রাতিষ্ঠানিক আমানত ও আধুনিক শৃঙ্খলার ৫টি চিরস্থায়ী মূলনীতি
প্রতিষ্ঠানের সুনাম, বরকত ও দীর্ঘমেয়াদী স্থায়িত্ব বজায় রাখতে উস্তাদ ও পরিচালনা কমিটির দায়িত্ব:
- •১. শতভাগ শরয়ী স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা: হিসাব-নিকাশ ও তালীমাতের প্রতিটি পদক্ষেপে আল্লাহর ভয় ও মুহতামিমের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধান বজায় রাখা।
- •২. শিক্ষার্থীদের পিতা-মাতাতুল্য স্নেহ প্রদান: কোনো কঠোরতা বা অসৌজন্যমূলক আচরণ না করে ভালোবাসার সাথে শিক্ষাদান নিশ্চিত করা।
- •৩. তথ্যের নিরাপদ ও স্থায়ী ডিজিটাল ব্যাকআপ: খাতা হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি এড়াতে JamiaSoft ক্লাউড সার্ভারে সমস্ত ডাটা সংরক্ষণ।
- •৪. অভিভাবকদের সাথে নিয়মিত নিবিড় যোগাযোগ: শিক্ষার্থীর সবক অগ্রগতি ও মেসের সন্তুষ্টি নিয়ে প্রতি মাসে অন্তত একবার মতবিনিময়।
- •৫. পরিচালনা কমিটির ত্রৈমাসিক রিভিউ অধিবেশন: প্রতিষ্ঠানের আর্থিক বাজেট ও পরীক্ষা ফলাফলের সার্বিক অগ্রগতি পর্যালোচনা।
৮. প্রবাসী অভিভাবকদের জন্য বিশেষ ভার্চুয়াল হেল্পডেস্ক
যে সমস্ত অভিভাবক মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ বা আমেরিকায় প্রবাসে অবস্থান করে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে মাদ্রাসার খরচ পাঠান, তাদের মানসিক শান্তির জন্য একটি বিশেষ ডিজিটাল ব্যবস্থা থাকা অপরিহার্য।
- •১. সরাসরি হোয়াটসঅ্যাপ ও ভিডিও কলিং স্লট: মাসে অন্তত একবার প্রবাসী পিতার সাথে সন্তানের ভিডিও মোজাকারার সুযোগ দেওয়া।
- •২. ডিজিটাল ফলাফল ও পারফরম্যান্স রিপোর্ট প্রদান: হোয়াটসঅ্যাপে চাররঙা প্রগ্রেস কার্ড পাঠিয়ে সন্তানের অগ্রগতি অবহিত করা।
- •৩. রেমিট্যান্স ও ফি পেমেন্টের তাৎক্ষণিক রসিদ: প্রবাসীর অ্যাকাউন্টে টাকা জমা হতেই ইনস্ট্যান্ট ডিজিটাল ভাউচার পাঠানো।
- •৪. প্রবাসীর পরিবারের জন্য বিশেষ দোয়া মাহফিল: জুমার পর প্রবাসী ভাইদের নেক হায়াত ও হালাল উপার্জনের জন্য মোনাজাত।
৯. ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষের অভিভাবক সম্পর্ক অ্যাকশন প্ল্যান
প্রতিষ্ঠানের আধুনিকায়নে কমিটির করণীয়:
- •১. ভর্তি মৌসুমে প্রতিটি অভিভাবককে ওয়েলকাম কিট প্রদান: মাদ্রাসার হ্যান্ডবুক ও হেল্পলাইন নম্বর হস্তান্তর।
- •২. নিয়মিত এসএমএস নোটিফিকেশনে আপডেট রাখা: ক্লাসের ছুটি, পরীক্ষা ও বিশেষ অনুষ্ঠান সময়মতো জানানো।
- •৩. বার্ষিক অভিভাবক সন্তুষ্টি সমীক্ষা (NPS Survey) পরিচালনা: সফটওয়্যার থেকে ফিডব্যাক ফর্ম পাঠিয়ে মতামত সংগ্রহ।
- •৪. বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অভিভাবকদের নিয়ে উপদেষ্টা কমিটি গঠন: তাদের মেধাকে মাদ্রাসার উন্নয়নে কাজে লাগানো।
- •৫. শিক্ষার্থীদের সামগ্রিক তারবিয়াতে পিতা-মাতার অবদানকে স্বীকৃতি: বার্ষিক অনুষ্ঠানে সেরা অভিভাবকদের সম্মাননা প্রদান।
১০. আধুনিক ফিডব্যাক ব্যবস্থাপনার সুদূরপ্রসারী সুফল
একটি প্রতিষ্ঠান তখনই শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করে যখন তার ভেতর ভুল সংশোধনের সাহস ও মানসিকতা থাকে।
- •১. সামাজিক আস্থা ও সুনামের স্থায়ী বিকাশ: এলাকায় মাদ্রাসা সম্পর্কে কোনো নেতিবাচক গুজব ছড়াতে পারে না।
- •২. শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর মধুর সম্পর্ক: কোনো ভুল বোঝাবুঝি থাকলে তা দ্রুত নিরসন হয়ে ক্লাসরুমে আনন্দ ফিরে আসে।
- •৩. নতুন ছাত্র ভর্তিতে অভাবনীয় সাড়া: সন্তুষ্ট অভিভাবকরাই মাদ্রাসার সবচেয়ে বড় ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হয়ে কাজ করেন।
- •৪. প্রাতিষ্ঠানিক অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি: অভিভাবকরা সানন্দে ও সময়মতো সকল ফি পরিশোধ করেন।
- •৫. আল্লাহর রহমত ও বরকত লাভ: ন্যায়বিচার ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আল্লাহর খাস রহমতের ছায়া লাভ হয়।
১১. দ্বীনি আমানত রক্ষা ও মুহতামিমের চূড়ান্ত দিকনির্দেশনা
অভিভাবকদের ভালোবাসা ও দোয়াই হলো মাদ্রাসার এগিয়ে চলার পাথেয়। তাদের পরামর্শকে গুরুত্ব দিয়ে এবং আল্লাহর ওপর অবিচল তাওয়াক্কুল রেখে কাজ করলে প্রতিষ্ঠান শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে সমাজে দ্বীনের আলোকবর্তিকা হয়ে বেঁচে থাকবে ইনশাআল্লাহ।
সাধারণ জিজ্ঞাসা ও প্রশ্নোত্তর (FAQs)
- •প্রশ্ন ১: ডিজিটাল কমপ্লেইন বক্সে অভিযোগকারী কি নিজের নাম গোপন রাখতে পারেন? উত্তর: হ্যাঁ, JamiaSoft-এ 'Anonymous Complaint' সিলেক্ট করলে পরিচয় গোপন রেখেই অভিযোগ সাবমিট করা যায়।
- •প্রশ্ন ২: তদন্ত কমিটিতে কাদের রাখা উচিত? উত্তর: মুহতামিম সাহেব, একজন সিনিয়র মুহাদ্দিস এবং নিরপেক্ষ পরিচালনা কমিটির সদস্য নিয়ে ৩ জনের টিম।
- •প্রশ্ন ৩: অভিযোগের উত্তর দিতে কত সময় নেওয়া উচিত? উত্তর: সাধারণ বিষয়ে সর্বোচ্চ ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সমাধান জানানো আদর্শ।
- •প্রশ্ন ৪: কোনো অভিভাবক উত্তেজিত হয়ে অফিসে আসলে কী করণীয়? উত্তর: তাকে শান্তভাবে বসিয়ে পানি ও চা পান করিয়ে মৃদু কণ্ঠে কথা শুনে সমস্যার সমাধান করা।
- •প্রশ্ন ৫: সফটওয়্যারে কি অভিযোগের রেকর্ড সংরক্ষিত থাকে? উত্তর: হ্যাঁ, 'Grievance History'-তে কোন তারিখে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল তা আজীবন সেভ থাকে।
- •প্রশ্ন ৬: অভিভাবক কি মোবাইলে রেজোলিউশন রিপোর্ট দেখতে পান? উত্তর: হ্যাঁ, টিকিট ক্লোজ হওয়ার সাথে সাথে অভিভাবকের অ্যাপে বিস্তারিত সমাধান বার্তা ভেসে ওঠে।
১২. অভিভাবক সন্তুষ্টি ও মাদ্রাসার স্থায়ী সামাজিক ভিত্তি
অভিভাবকদের আস্থা ও দোয়াই একটি মাদ্রাসার সর্বাধিক কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদী জনসংযোগ।
- •১. ত্রৈমাসিক শিক্ষক-অভিভাবক ওরিয়েন্টেশন সমাবেশ: শিক্ষার্থীর সার্বিক মেধা ও চারিত্রিক তারবিয়াত নিয়ে খোলামেলা আলোচনা।
- •২. মেধাবী ছাত্রদের মা-বাবাকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান: সন্তানের কৃতিত্বের জন্য পিতা-মাতাকে মঞ্চে ডেকে ক্রেস্ট ও উপহার হস্তান্তর।
- •৩. অভিভাবক প্রতিনিধিদের নিয়ে উপদেষ্টা প্যানেল গঠন: মাদ্রাসার অবকাঠামো ও মেস উন্নয়নে গঠনমূলক পরামর্শ গ্রহণ।
- •৪. কোনো গুজব বা অপপ্রচারের তাৎক্ষণিক খণ্ডন: সত্য তথ্য প্রচার করে মাদ্রাসার ভাবমূর্তি সমুন্নত রাখা।
- •৫. বিশ্বস্ততা ও ইনসাফের ওপর অটল থাকা: প্রতিটি পরিবারের আস্থা রক্ষা করে পরকালীন জবাবদিহিতার জন্য প্রস্তুতি।
- •ডিজিটাল ফিডব্যাক এনালাইটিক্স ও ত্রৈমাসিক রিপোর্ট: প্রতি ৩ মাস পর পর কোন কোন বিভাগে অভিভাবকরা সবচেয়ে বেশি সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন এবং কোথায় উন্নতির সুযোগ রয়েছে তার সার্বিক গ্রাফিকাল বিশ্লেষণ JamiaSoft ড্যাশবোর্ড থেকে ডাউনলোড করে পরিচালনা কমিটির মিটিংয়ে উপস্থাপন করা যায়। এর ফলে প্রতিষ্ঠানের প্রাতিষ্ঠানিক মান উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পায়।
JamiaSoft টিম
মাদ্রাসা ডিজিটালাইজেশন বিশেষজ্ঞ
JamiaSoft-এর সম্পাদক ও প্রযুক্তি দল — বাংলাদেশের কওমি, আলিয়া ও হিফজ মাদ্রাসার শরয়ী ফিন্যান্স, হিফজ ট্র্যাকিং ও ডিজিটাল অ্যাডমিশন নিয়ে নিয়মিত গাইড ও গবেষণা প্রকাশ করে।
আর্টিকেলটি ভালো লাগলে অন্যদের সাথে শেয়ার করুন
দ্বীনি প্রতিষ্ঠান ও মাদ্রাসার আর্থিক আমানতদারিতা ও আধুনিকায়নে তথ্যগুলো ছড়িয়ে দিন।
সম্পর্কিত প্রবন্ধ

মাদ্রাসায় প্যারেন্টস-টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন (পিটিএ) ও মাসিক পেরেন্টিং কাউন্সেলিং এসওপি
কওমি ও হিফজ মাদ্রাসায় ছাত্রের সার্বিক চরিত্র গঠন, পড়াশোনার মানোন্নয়ন ও মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় অভিভাবক-শিক্ষক পরিষদ (পিটিএ) গঠন ও মাসিক দ্বীনি কাউন্সেলিং আয়োজনের প্রাতিষ্ঠানিক নির্দেশিকা।

বেফাক ও মাদ্রাসা অভ্যন্তরীণ পরীক্ষার রেজাল্ট শিট ও মুমতাজ গ্রেডিং অটোমেশন গাইড
বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়ার মানদণ্ডে কওমি মাদ্রাসার সাময়িক ও বার্ষিক পরীক্ষার রেজাল্ট শিট, মেধা তালিকা ও মুমতাজ গ্রেডিং ১-ক্লিকে তৈরির পূর্ণাঙ্গ অটোমেশন গাইড।

প্রবাসী অভিভাবকদের কাছে সন্তানের হিফজ ও পরীক্ষার লাইভ রিপোর্ট পাঠানোর আধুনিক পদ্ধতি
সৌদি, দুবাই, কাতার বা যুক্তরাজ্যে থাকা প্রবাসী অভিভাবকের কাছে সন্তানের প্রতিদিনের সবক, হাজিরা ও পরীক্ষার ফলাফল লাইভ পাঠানোর স্বয়ংক্রিয় অভিভাবক পোর্টাল গাইড।
আপনার মাদ্রাসায় JamiaSoft ব্যবহার করতে চান?
হিফজ ট্র্যাকিং, শরয়ী ফিন্যান্স ও অনলাইন ভর্তির আধুনিক অভিজ্ঞতা পেতে আজই ফ্রি ডেমো বুক করুন।