
মাদ্রাসায় অভিভাবক-শিক্ষক মতবিনিময় সভা (PTM) আয়োজন ও পরিচালনা কৌশল
কওমি ও আবাসিক মাদ্রাসায় অভিভাবক-শিক্ষক মতবিনিময় সভা (PTM) আয়োজন, শিক্ষার্থীর ত্রৈমাসিক প্রগ্রেস শেয়ারিং, ফিডব্যাক সংগ্রহ ও শিক্ষক-অভিভাবক আস্থা সুদৃঢ়করণ গাইড।

কওমি ও আবাসিক মাদ্রাসায় অভিভাবক-শিক্ষক মতবিনিময় সভা (PTM) আয়োজন, শিক্ষার্থীর ত্রৈমাসিক প্রগ্রেস শেয়ারিং, ফিডব্যাক সংগ্রহ ও শিক্ষক-অভিভাবক আস্থা সুদৃঢ়করণ গাইড।
একটি শিশুর সার্বিক দ্বীনি তরবিয়ত, নৈতিক শিষ্টাচার এবং পড়াশোনার ধারাবাহিক অগ্রগতি কেবল মাদ্রাসার উস্তাদদের একমুখী মেহনতের ওপর নির্ভর করে না; বরং এর পেছনে পিতা-মাতার আন্তরিক সচেতনতা ও সার্বক্ষণিক সম্পৃক্ততা সমানভাবে অপরিহার্য। কিন্তু প্রচলিত ধারায় অধিকাংশ মাদ্রাসায় সারা বছরেও অভিভাবকদের সাথে কোনো আনুষ্ঠানিক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয় না। ফলে সন্তানের দুর্বলতা, মানসিক সমস্যা, স্বাস্থ্যগত অবস্থা বা আর্থিক সংকট সম্পর্কে উভয় পক্ষের মাঝে একটি বিশাল তথ্যগত ব্যবধান (Communication Gap) থেকে যায়।
মাদ্রাসায় অভিভাবক-শিক্ষক মতবিনিময় সভা ও ফিডব্যাক ফ্রেমওয়ার্ক (Madrasa Parent-Teacher Meeting & Feedback System) হলো একটি নিয়মতান্ত্রিক, উষ্ণ ও ফলপ্রসূ প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে প্রতি সেমিস্টার বা ত্রৈমাসিক পরীক্ষার পর পিতা-মাতাকে মাদ্রাসায় আমন্ত্রণ জানিয়ে সন্তানের সবক প্রগ্রেস, ক্লাসরুম হাজিরা, আচরণগত পয়েন্ট এবং মেসের সন্তুষ্টি নিয়ে মুখোমুখি খোলামেলা আলোচনা করা হয়। JamiaSoft অভিভাবক পোর্টাল ও ডিজিটাল নোটিশ মডিউল ব্যবহারের মাধ্যমে সভার তারিখ, সময়সূচি এবং শিক্ষার্থীর ডিজিটাল প্রগ্রেস কার্ড স্বয়ংক্রিয়ভাবে অভিভাবকদের মোবাইলে পৌঁছে যায়। এর ফলে মাদ্রাসার প্রতি অভিভাবকদের আন্তরিক ভালোবাসা বহুগুণ বৃদ্ধি পায় এবং ছাত্র ঝরে পড়ার হার শূন্যে নেমে আসে।
শিক্ষক ও অভিভাবক যখন একাত্ম হয়ে কাজ করেন, তখন একটি সাধারণ শিক্ষার্থীও অসাধারণ মেধার স্বাক্ষর রাখতে সক্ষম হয়।
১. অভিভাবক-শিক্ষক মতবিনিময় সভার (PTM) প্রধান ৫টি প্রাতিষ্ঠানিক লক্ষ্য
একটি সফল ও অর্থবহ পিটিএম সভার মূল উদ্দেশ্যসমূহ:
- •১. শিক্ষার্থীর বাস্তব একাডেমিক প্রগ্রেস উপস্থাপন: মুখস্থ সবক, পরীক্ষার নম্বর ও ক্লাসরুম পারফরম্যান্সের বস্তুনিষ্ঠ তথ্য পিতা-মাতার সামনে তুলে ধরা।
- •২. মানসিক ও মনস্তাত্ত্বিক অবস্থা পর্যালোচনা: ছাত্র কোনো কারণে বিষণ্ণতা, হোমসিকনেস বা শারীরিক কষ্টে ভুগছে কিনা তা পারস্পরিক আলোচনায় শনাক্তকরণ।
- •৩. পিতা-মাতার সুচিন্তিত পরামর্শ ও ফিডব্যাক গ্রহণ: মেসের খাবার, হোস্টেলের পরিবেশ বা পাঠদান নিয়ে অভিভাবকদের গঠনমূলক মতামত গ্রহণ।
- •৪. বকেয়া বেতন ও ভবিষ্যৎ আর্থিক পরিকল্পনা সমন্বয়: কোনো অভিভাবক সাময়িক আর্থিক সমস্যায় থাকলে তাকে সহজ কিস্তি বা লিল্লাহ ফান্ডের সুবিধা প্রদান।
- •৫. দ্বীনি পারিবারিক পরিবেশ রক্ষার তাগিদ: ছুটির দিনে বাসায় গিয়ে সন্তান যাতে মোবাইল আসক্তি বা অনৈসলামিক পরিবেশে নষ্ট না হয় সে বিষয়ে পিতা-মাতাকে নসিহত।
২. সনাতন অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগ বনাম আধুনিক ডিজিটাল পিটিএম সিস্টেম
সনাতন পদ্ধতি ও আধুনিক ক্লাউড পিটিএম কাঠামোর তুলনামূলক সুবিধা:
| বৈশিষ্ট্যের ক্ষেত্র | সনাতন অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগ | JamiaSoft ডিজিটাল পিটিএম ফ্রেমওয়ার্ক |
|---|---|---|
| সভার আমন্ত্রণপত্র প্রেরণ | মুখে মুখে বলা যা অধিকাংশ অভিভাবক ভুলে যান | স্বয়ংক্রিয় বাংলা ইউনিকোড এসএমএস ও হোয়াটসঅ্যাপ ইনভাইটেশন |
| প্রগ্রেস রিপোর্ট প্রদর্শন | হাতে লেখা অস্পষ্ট খাতা ঘেঁটে সময় নষ্ট | ছবি ও কিউআর কোডযুক্ত চাররঙা ডিজিটাল একাডেমিক রিপোর্ট |
| অভিভাবকদের উপস্থিতি ট্র্যাকিং | কে এলো আর কে এলো না কোনো রেকর্ড নেই | ১-ক্লিকে ডিজিটাল হাজিরা ও অনুপস্থিত অভিভাবকদের ফলোআপ তালিকা |
| সময় ব্যবস্থাপনা | ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিশৃঙ্খল ভিড় ও দীর্ঘ অপেক্ষা | রোল নম্বর অনুযায়ী নির্দিষ্ট টাইম স্লট বরাদ্দ (Time-slot Allocation) |
| গোপনীয় অভিযোগ ও ফিডব্যাক | জনসম্মুখে কথা বলায় অস্বস্তিবোধ | অভিভাবক পোর্টালে সম্পূর্ণ গোপনীয় অনলাইন ফিডব্যাক সাবমিশন |
৩. একটি সফল পিটিএম সভার ৩-পর্যায়ের আদর্শ সময়সূচি ও কার্যবিবরণী
সভার সুশৃঙ্খল ও মার্জিত পরিচালনা মডেল:
- •১ম পর্যায়: সাধারণ যৌথ উদ্বোধনী অধিবেশন (সকাল ৯:০০ – ৯:৪৫):
- •পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত ও হামদ-নাত পরিবেশন।
- •মুহতামিম সাহেবের পক্ষ থেকে স্বাগত বক্তব্য ও মাদ্রাসার সার্বিক উন্নয়ন প্রতিবেদন পেশ।
- •সন্তানের সহীহ ইসলামি লালন-পালনের ওপর সিনিয়র শায়খুল হাদিসের গুরুত্বপূর্ণ নসিহত।
- •২য় পর্যায়: ওয়ান-অন-ওয়ান ব্যক্তিগত মতবিনিময় (সকাল ৯:৪৫ – দুপুর ১২:৩০):
- •প্রতিটি জামাতের নির্ধারিত ক্লাসরুমে শ্রেণি উস্তাদের সাথে অভিভাবকের একান্ত ৫–৭ মিনিটের বৈঠক।
- •শিক্ষার্থীর ডিজিটাল প্রগ্রেস কার্ড হস্তান্তর ও নির্দিষ্ট দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠার রূপরেখা নির্ধারণ।
- •৩য় পর্যায়: যৌথ দোয়া মাহফিল ও তাবাররুক গ্রহণ (দুপুর ১২:৩০ – ১:১৫):
- •সকল শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের জন্য যৌথ বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা।
- •মাদ্রাসার পক্ষ থেকে আগত মেহমান অভিভাবকদের জন্য চা-নাস্তা বা মধ্যাহ্নভোজের আপ্যায়ন।
৪. পিটিএম সভায় শিক্ষকদের জন্য ৫টি পেশাদার আচরণবিধি
অভিভাবকদের সাথে উস্তাদগণের মার্জিত ও স্নেহপূর্ণ যোগাযোগের নীতিমালা:
| আচরণবিধির ক্ষেত্র | যা করা সম্পূর্ণ অনুচিত | যা করা অত্যন্ত প্রশংসনীয় ও পেশাদার |
|---|---|---|
| দুর্বলতা তুলে ধরা | সবার সামনে ছাত্রের বদনাম ও কঠোর তিরস্কার | একান্তে ডেকে ইতিবাচক কথার মাঝে দুর্বলতা সংশোধন |
| কথা বলার অনুপাত | শিক্ষক একাই পুরো সময় কথা বলে যাওয়া | শতকরা ৬০% সময় ধৈর্য ধরে অভিভাবকের কথা শোনা |
| আর্থিক আলোচনা | ফি বকেয়ার জন্য ছাত্রের সামনে অভিভাবককে লজ্জা দেওয়া | হিসাবরক্ষণ কক্ষে একান্তে মার্জিতভাবে বিল বুঝিয়ে দেওয়া |
| ভবিষ্যৎ সমাধান | নিছক অভিযোগ করে ছেড়ে দেওয়া | দুর্বলতা দূর করতে সুনির্দিষ্ট হোমওয়ার্ক ও রুটিন দেওয়া |
| শারীরিক ভাষা | উদাসীন বা বিরক্তি প্রকাশ করা | হাসিমুখে সালাম দিয়ে উষ্ণ অভ্যর্থনা ও আন্তরিক হ্যান্ডশেক |
৫. বিভিন্ন অঞ্চলের মাদ্রাসায় পিটিএম সভার বাস্তব কেস স্টাডি
বাংলাদেশের শীর্ষ দ্বীনি প্রতিষ্ঠানগুলোর বাস্তব সাফল্য:
- •ঢাকার একটি মডেল হিফজ একাডেমি: প্রতি সেমিস্টারে পিটিএম বাধ্যতামূলক করার পর অভিভাবকদের স্বতঃস্ফূর্ত অনুদান ও মাসিক ফি আদায়ের হার শতভাগ নিশ্চিত হয়।
- •চট্টগ্রামের একটি শীর্ষস্থানীয় কওমি মাদ্রাসা: পিটিএমের মাধ্যমে অভিভাবকদের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলায় গত ৩ বছরে অত্র প্রতিষ্ঠান থেকে একজন ছাত্রও ড্রপআউট হয়নি।
- •সিলেটের একটি আবাসিক বালিকা মাদ্রাসা: প্রবাসে থাকা পিতাদের জন্য জুম মিটিংয়ে বিশেষ 'ভার্চুয়াল পিটিএম' আয়োজন করায় লন্ডন ও মধ্যপ্রাচ্য প্রবাসীদের আস্থা অনন্য উচ্চতায় পৌঁছায়।
৬. পিটিএম পরবর্তী ফলোআপে নাজেমে তালীমাতের ৫-দফা চেকলিস্ট
সভা শেষ হওয়ার পর প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্ব:
- •১. অনুপস্থিত অভিভাবকদের ফলোআপ: যেসব অভিভাবক সভায় আসতে পারেননি তাদের তালিকা করে টেলিফোনে যোগাযোগ করা।
- •২. অভিভাবকদের গঠনমূলক পরামর্শের তালিকা প্রস্তুত: মেস বা ক্লাস সম্পর্কিত যেসকল ভালো সুপারিশ এসেছে তা শূরার মিটিংয়ে উপস্থাপন।
- •৩. দুর্বল ছাত্রদের জন্য বিশেষ মনিটরিং: পিটিএমের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পিছিয়ে থাকা ছাত্রদের জন্য বিশেষ টিউটোরিয়াল ক্লাস শুরু করা।
- •৪. সোশ্যাল মিডিয়ায় সভার স্থিরচিত্র প্রকাশ: অভিভাবকদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতির সুন্দর ও মার্জিত ছবি মাদ্রাসার ফেসবুক পেজে শেয়ার।
- •৫. ডাটাবেজে পিটিএম নোট সংরক্ষণ: প্রতিটি ছাত্রের প্রোফাইলে উস্তাদ কর্তৃক 'PTM Discussion Summary' সেভ রাখা।
৭. প্রবাসী পিতা-মাতার জন্য ভার্চুয়াল পিটিএম (Virtual PTM) পরিচালনার প্রটোকল
মধ্যপ্রাচ্য ও দূরদেশে অবস্থানরত অভিভাবকদের সম্পৃক্ত করার গাইডলাইন:
- •১. জুম বা গুগল মিটে লাইভ সেশন: দেশভিত্তিক সময় মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্য বা ইউরোপ প্রবাসীদের নিয়ে ত্রৈমাসিক অনলাইন পিটিএম আয়োজন।
- •২. সন্তানের হিফজ তিলাওয়াত সরাসরি প্রদর্শন: প্রবাসে থাকা পিতার সামনে স্ক্রিনে সন্তানকে এনে সরাসরি মনজিল তিলাওয়াত শুনিয়ে আশ্বস্ত করা।
- •৩. ডিজিটাল মার্কশিট ও মেস রিপোর্টের পিডিএফ প্রেরণ: এক ক্লিকে অভিভাবকের হোয়াটসঅ্যাপে সম্পূর্ণ প্রগ্রেস রিপোর্ট পৌঁছে দেওয়া।
৮. পিটিএম পরবর্তী শিক্ষার্থী মনস্তাত্ত্বিক কাউন্সেলিং ও অ্যাকশন প্ল্যান
অভিভাবকের সাথে আলোচনার পর শিক্ষক কর্তৃক গৃহীত পদক্ষেপ:
- •১. গোপনীয়তা রক্ষা: পিতা-মাতা যে পারিবারিক গোপন কথা শেয়ার করেছেন তা ক্লাসে অন্য ছাত্রদের সামনে কখনোই প্রকাশ না করা।
- •২. দুর্বলতার বাস্তবসম্মত সমাধান: পড়ায় পিছিয়ে থাকা ছাত্রের জন্য আলাদা সিনিয়র সহপাঠী মেন্টর নির্ধারণ করে দেওয়া।
- •৩. ১৫ দিন পর পর অভিভাবককে আপডেট: গৃহীত পদক্ষেপের ফলে ছাত্রের পড়াশোনায় কতটুকু উন্নতি হলো তা অভিভাবককে ফোন বা এসএমএসে জানানো।
৯. পিটিএম সভার সফল পরিচালনায় ৫-দফা অভ্যর্থনা প্রটোকল
মাদ্রাসার সম্মান ও আতিথেয়তা সমুন্নত রাখতে করণীয়:
- •১. গেটে হাসিমুখে অভ্যর্থনা টিম: আগত সম্মানিত অভিভাবকদের সালাম দিয়ে নির্দিষ্ট বসার স্থানে পৌঁছে দেওয়া।
- •২. সুপেয় চা-নাস্তার মার্জিত ব্যবস্থা: মাদ্রাসার পক্ষ থেকে অভিভাবকদের জন্য উষ্ণ আপ্যায়ন নিশ্চিত করা।
- •৩. মাদ্রাসার বার্ষিক স্মারক প্রকাশনা উপহার: প্রতিষ্ঠানের শিক্ষাগত সাফল্য সম্বলিত ম্যাগাজিন বা ক্যালেন্ডার অভিভাবকদের হাতে তুলে দেওয়া।
- •৪. পরিষ্কার ও পরিচ্ছন্ন ওয়াশরুম সুবিধা: মেহমানদের জন্য সুনির্দিষ্ট ও পরিষ্কার টয়লেটের ব্যবস্থা রাখা।
- •৫. প্রবীণ ওলামায়ে কেরামের সাথে মোলাকাত: মাদ্রাসার শীর্ষ বুজুর্গদের সান্নিধ্যে বসে বিশেষ দোয়া নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা।
১০. পিটিএম পরবর্তী ফলোআপ ও অভিভাবক সন্তুষ্টি বৃদ্ধির ৫টি নিয়ম
শিক্ষক-অভিভাবক ঐক্য সুদৃঢ় করার উপায়:
- •১. সভার সিদ্ধান্তসমূহ এসএমএসে প্রেরণ: পিটিএমের গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ ও রেজাল্ট অভিভাবকের মোবাইলে পাঠানো।
- •২. দুর্বল ছাত্রদের সাপ্তাহিক ট্র্যাকিং: সভায় চিহ্নিত দুর্বলতা দূর করতে শিক্ষকের বিশেষ যত্ন নেওয়া।
- •৩. ত্রৈমাসিক অভিভাবক ফিডব্যাক জরিপ: মাদ্রাসার শিক্ষা ও মেস ব্যবস্থা সম্পর্কে অভিভাবকদের গোপন রেটিং গ্রহণ।
- •৪. প্রবাসী অভিভাবকদের নিয়মিত ভার্চুয়াল আপডেট: ভিডিও কলে সন্তানের কুরআন তিলাওয়াত শুনিয়ে আশ্বস্ত করা।
- •৫. মাদ্রাসার বার্ষিক মাহফিলে অভিভাবকদের সম্মাননা: দায়িত্বশীল সচেতন অভিভাবকদের বিশেষ সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান।
১১. পিটিএম সভার সফল পরিচালনায় শিক্ষক-কর্মচারী সমন্বয় প্রটোকল
প্রতিষ্ঠানের আতিথেয়তা ও সুনাম রক্ষায় ৫টি অভ্যন্তরীণ পদক্ষেপ:
- •১. শিক্ষদের জন্য ড্রেস কোড: পরিষ্কার সাদা জুব্বা, মার্জিত পাগড়ি বা টুপি পরিধান করে সুসজ্জিত থাকা।
- •২. প্রতিটি ডেস্কে পর্যাপ্ত কলম ও প্রগ্রেস শিট: আলোচনার সময় প্রয়োজনীয় নোট নেওয়ার জন্য টেবিল প্রস্তুত রাখা।
- •৩. জরুরি হেল্পডেস্ক স্থাপন: কোনো অভিভাবক নির্দিষ্ট ক্লাসরুম খুঁজে না পেলে সাহায্য করার জন্য ভলান্টিয়ার ছাত্র রাখা।
- •৪. অভিভাবকদের জন্য ফিডব্যাক বক্স: লিখিত মতামত ড্রপ করার জন্য সুন্দর ড্রপবক্স স্থাপন করা।
- •৫. দিনশেষে শিক্ষক মূল্যায়ন সভা: পিটিএমের সকল অভিজ্ঞতার ওপর মুহতামিম সাহেবের সভাপতিত্বে পোস্ট-ইভেন্ট রিভিউ মিটিং।
সাধারণ জিজ্ঞাসা ও প্রশ্নোত্তর (FAQs)
- •প্রশ্ন ১: কওমি মাদ্রাসায় বছরে কতবার পিটিএম সভা করা আদর্শ? উত্তর: শিক্ষাবর্ষে অন্তত ৩ বার (শাওয়াল ভর্তির পর, ষাণ্মাসিক পরীক্ষার পর এবং বার্ষিক পরীক্ষার পূর্বে) পিটিএম করা অত্যন্ত ফলপ্রসূ।
- •প্রশ্ন ২: কোনো অভিভাবক উস্তাদের সাথে তর্কে জড়ালে কীভাবে সমাধান করতে হবে? উত্তর: উস্তাদ নিজে শান্ত থাকবেন এবং সাথে সাথে প্রধান শিক্ষক বা মুহতামিম সাহেবের কক্ষে নিয়ে গিয়ে আন্তরিক আলোচনার মাধ্যমে ভুল বোঝাবুঝি দূর করবেন।
- •প্রশ্ন ৩: কর্মজীবী বা দূরবর্তী অভিভাবকরা কি অনলাইনে পিটিএমে যোগ দিতে পারেন? উত্তর: হ্যাঁ, JamiaSoft-এর ভার্চুয়াল মিটিং লিংকের মাধ্যমে দূরবর্তী বা প্রবাসী অভিভাবকরা মোবাইল দিয়েই লাইভ সভায় যুক্ত হতে পারেন।
- •প্রশ্ন ৪: পিটিএম সভার জন্য কি আলাদা ফি নেওয়া উচিত? উত্তর: না, এটি মাদ্রাসার নিয়মিত প্রাতিষ্ঠানিক সেবার অংশ; কোনো অবস্থাতেই এর জন্য আলাদা ফি ধার্য করা উচিত নয়।
- •প্রশ্ন ৫: ছাত্রদের কি পিটিএমের সময় ক্লাসরুমে উপস্থিত রাখা উচিত? উত্তর: ব্যক্তিগত আলোচনার শুরুতে ছাত্রকে সাথে রাখা যেতে পারে, তবে কোনো সংবেদনশীল পরামর্শের সময় ছাত্রকে বাইরে রাখা উত্তম।
- •প্রশ্ন ৬: পিটিএমের রেজাল্ট শিটে কি উস্তাদের মন্তব্য লেখা যায়? উত্তর: হ্যাঁ, সফটওয়্যারে প্রতিটি বিষয়ের জন্য শিক্ষকের লিখিত উৎসাহমূলক মন্তব্য (Teacher's Remarks) প্রিন্ট হয়ে আসে।
JamiaSoft টিম
মাদ্রাসা ডিজিটালাইজেশন বিশেষজ্ঞ
JamiaSoft-এর সম্পাদক ও প্রযুক্তি দল — বাংলাদেশের কওমি, আলিয়া ও হিফজ মাদ্রাসার শরয়ী ফিন্যান্স, হিফজ ট্র্যাকিং ও ডিজিটাল অ্যাডমিশন নিয়ে নিয়মিত গাইড ও গবেষণা প্রকাশ করে।
আর্টিকেলটি ভালো লাগলে অন্যদের সাথে শেয়ার করুন
দ্বীনি প্রতিষ্ঠান ও মাদ্রাসার আর্থিক আমানতদারিতা ও আধুনিকায়নে তথ্যগুলো ছড়িয়ে দিন।
সম্পর্কিত প্রবন্ধ

মাদ্রাসায় অভিভাবক অভিযোগ প্রতিকার ও কমপ্লেন বক্স এসওপি: ৭২ ঘণ্টায় সমাধান ও মুহতামিমের তত্ত্বাবধান গাইড
কওমি ও আবাসিক মাদ্রাসায় অভিভাবক অভিযোগ প্রতিকার ব্যবস্থা (Grievance Redressal), ডিজিটাল কমপ্লেন পোর্টাল, ৭২ ঘণ্টায় তদন্ত ও সমাধান এসওপি।
পড়ুন →
মাদ্রাসার মাসিক প্রগ্রেস রিপোর্ট কার্ড ও প্যারেন্ট ফিডব্যাক: সবক, চরিত্র ও হাজিরার চাররঙা ডিজিটাল মার্কশিট
কওমি ও আবাসিক মাদ্রাসায় প্রতি মাসের শিক্ষার্থী প্রগ্রেস রিপোর্ট কার্ড (Monthly Progress Report), সবক অগ্রগতি, চারিত্রিক মূল্যায়ন ও প্যারেন্ট ফিডব্যাক এসওপি।
পড়ুন →
মাদ্রাসার প্রাক্তন ছাত্র পুনর্মিলনী ও বার্ষিক দস্তারবন্দী সম্মেলন: অ্যালামনাই নেটওয়ার্ক ও তহবিল গঠন গাইড
কওমি ও আলিয়া মাদ্রাসায় প্রাক্তন কৃতি শিক্ষার্থীদের অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন গঠন, বার্ষিক পুনর্মিলনী ও দস্তারবন্দী সম্মেলন আয়োজন এবং ওয়াকফ তহবিল গাইড।
পড়ুন →আপনার মাদ্রাসায় JamiaSoft ব্যবহার করতে চান?
হিফজ ট্র্যাকিং, শরয়ী ফিন্যান্স ও অনলাইন ভর্তির আধুনিক অভিজ্ঞতা পেতে আজই ফ্রি ডেমো বুক করুন।