
মাদ্রাসার মজলিসে শূরা ও কার্যকরী কমিটির বার্ষিক সভা পরিচালনা ও রেজুলেশন খাতা সংরক্ষণ
কওমি মাদ্রাসার মজলিসে শূরা ও পরিচালনা কমিটির বার্ষিক সাধারণ সভা পরিচালনা, এজেন্ডা নোটিশ, রেজুলেশন খাতা ডিজিটাল সংরক্ষণ ও প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন গাইড।
কওমি মাদ্রাসার মজলিসে শূরা ও পরিচালনা কমিটির বার্ষিক সাধারণ সভা পরিচালনা, এজেন্ডা নোটিশ, রেজুলেশন খাতা ডিজিটাল সংরক্ষণ ও প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন গাইড।
একটি দ্বীনি মাদ্রাসার নীতিগত সিদ্ধান্ত, অর্থনৈতিক বাজেট পাস, শিক্ষক নিয়োগ ও বহিস্কার এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনার সর্বোচ্চ আইনগত ও শরয়ী অভিভাবক পরিষদ হলো তার 'মজলিসে শূরা' (Majlis-e-Shura) বা কার্যকরী পরিচালনা কমিটি। কিন্তু বাংলাদেশের বহু মাদ্রাসায় নিয়মিত শূরার মিটিং না হওয়া, সভার আনুষ্ঠানিক কোনো লিখিত এজেন্ডা না থাকা, রেজুলেশন খাতায় অস্পষ্ট হাতে লেখা সিদ্ধান্ত রাখা এবং বছর ঘুরতেই সেই পুরোনো খাতা হারিয়ে যাওয়ার কারণে কমিটি ও মুহতামিমের মাঝে মারাত্মক মতবিরোধ ও দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়। এর ফলে অনেক ঐতিহাসিক প্রতিষ্ঠান ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে যাওয়ার মতো মর্মান্তিক ট্র্যাজেডি ঘটে।
মাদ্রাসায় মজলিসে শূরা পরিচালনা ও ডিজিটাল রেজুলেশন ফ্রেমওয়ার্ক (Madrasa Shura Governance & Digital Resolution Book SOP) হলো একটি আধুনিক ইসলামিক প্রশাসনিক ও আইনি সুশাসন মডেল, যার মাধ্যমে মিটিংয়ের লিখিত এজেন্ডা নোটিশ, কোরাম নিশ্চয়ন, রেজুলেশনের ক্লাউড আর্কাইভিং, সদস্যদের বায়োমেট্রিক/ডিজিটাল স্বাক্ষর এবং অডিট রিপোর্ট পাস নিশ্চিত করা হয়। JamiaSoft গভর্ন্যান্স মডিউল ব্যবহারের মাধ্যমে বিগত ১০ বছরের যেকোনো শূরার সিদ্ধান্ত ও রেজুলেশন ১ সেকেন্ডে পিডিএফ ফরম্যাটে বের করা যায়। এর ফলে প্রতিষ্ঠানে আজীবন শান্তি, ঐক্য ও শৃঙ্খলা বজায় থাকে।
শূরার সদস্যদের সাথে পরম পরামর্শের ভিত্তিতে দ্বীনি আমানত পরিচালনা করা পবিত্র কুরআনুল কারীমের এক সুমহান নির্দেশ ("ওয়া আমরাহুম শূরা বাইনাহুম")।
১. শূরার মিটিংয়ে বিশৃঙ্খলা ও বিরোধ সৃষ্টির প্রধান ৪টি কারণ
কমিটি পরিচালনায় সাধারণ আইনি ও প্রশাসনিক ভুলসমূহ:
- •১. লিখিত এজেন্ডা ছাড়া এলোমেলো মিটিং পরিচালনা: নির্দিষ্ট আলোচ্যসূচি না থাকায় অপ্রাসঙ্গিক তর্কে সময় নষ্ট।
- •২. সিদ্ধান্ত তাৎক্ষণিক রেজুলেশন খাতায় না লেখা: পরে লেখার আশায় ফেলে রাখায় পরবর্তীতে কথার হেরফের হওয়া।
- •৩. সদস্যদের উপস্থিতি ও স্বাক্ষরের প্রমাণ না থাকা: মিটিং শেষে কে কে একমত ছিলেন তার আইনি ডকুমেন্ট মিসিং।
- •৪. আর্থিক হিসাব পেশে অস্বচ্ছতা: হিসাবরক্ষকের মুখে মুখে বলা হিসাবকে শূরার সদস্যরা অবিশ্বাস করা।
২. সনাতন খাতা পদ্ধতি বনাম JamiaSoft ডিজিটাল শূরা গভর্ন্যান্স
সনাতন খাতা পদ্ধতি ও আধুনিক ডিজিটাল কাঠামোর তুলনামূলক সুবিধা:
| বৈশিষ্ট্যের ক্ষেত্র | সনাতন কাগজের রেজুলেশন খাতা | JamiaSoft সমন্বিত শূরা গভর্ন্যান্স সিস্টেম |
|---|---|---|
| সভার নোটিশ ও এজেন্ডা প্রেরণ | চিঠিতে ডাকযোগে পাঠানো (দেরিতে পৌঁছায়) | সদস্যের মোবাইলে হোয়াটসঅ্যাপ ও এসএমএসে পিডিএফ এজেন্ডা প্রেরণ |
| রেজুলেশনের স্থায়ী ক্লাউড ব্যাকআপ | খাতা হারিয়ে যাওয়া বা পাতা ছেঁড়ার ঝুঁকি | ব্লকচেইন-তুল্য অপরিবর্তনযোগ্য ডিজিটাল রেজুলেশন আর্কাইভ |
| আর্থিক ব্যালান্স শিট উপস্থাপন | হাতে লেখা অস্পষ্ট ভাউচার শিট | প্রজেক্টরে মাল্টিমিডিয়া চাররঙা পাই চার্ট ও অডিট স্টেটমেন্ট ডিসপ্লে |
| সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন ট্র্যাকিং | সিদ্ধান্ত খাতায় বন্দি থাকে, কাজ হয় না | সফটওয়্যারে প্রতিটি সিদ্ধান্তের টাস্ক এসাইন ও প্রগ্রেস মনিটরিং |
| আইনি বৈধতা ও সরকারি স্বীকৃতি | স্থানীয় পর্যায়ে বিরোধের ঝুঁকি | রেজিস্ট্রেশন নম্বর ও ডিজিটাল সিলযুক্ত অফিশিয়াল মিনিট্স শিট |
৩. মজলিসে শূরার বার্ষিক সাধারণ সভার আদর্শ ৫-পর্যায়ের সময়সূচি
পেশাদার ও সুশৃঙ্খল মিটিং পরিচালনার ধারাবাহিক স্তরবিন্যাস:
| সভার পর্যায় ও অধিবেশন | কার্যক্রম ও সুনির্দিষ্ট আলোচ্যসূচি | প্রধান দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি |
|---|---|---|
| ১ম পর্যায়: তিলাওয়াত ও কোরাম যাচাই | পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত ও মোট সদস্যের ২/৩ অংশের উপস্থিতি নিশ্চিতকরণ | সভাপতি ও সেক্রেটারি |
| ২য় পর্যায়: বিগত সভার রেজুলেশন পাঠ | পূর্ববর্তী সভার সিদ্ধান্তসমূহ পাঠ ও বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনা | মুহতামিম সাহেব |
| ৩য় পর্যায়: বার্ষিক আর্থিক ও অডিট রিপোর্ট পেশ | বিগত ১ বছরের আয়-ব্যয়, যাকাত ফান্ড ও অডিট স্টেটমেন্ট অনুমোদন | হিসাবরক্ষক ও কোষাধ্যক্ষ |
| ৪র্থ পর্যায়: নতুন সেশনের বাজেট ও নীতি পাস | শিক্ষক নিয়োগ, অবকাঠামো নির্মাণ ও ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ | সকল শূরা সদস্যবৃন্দ |
| ৫ম পর্যায়: রেজুলেশনে স্বাক্ষর ও মোনাজাত | প্রস্তুতকৃত রেজুলেশনে সদস্যদের স্বাক্ষর গ্রহণ ও খাস দোয়া | সভাপতি ও প্রধান আলেম |
৪. শূরার ঐক্য ও স্থায়িত্ব রক্ষায় ৫টি সোনালী প্রাতিষ্ঠানিক এসওপি
মুহতামিম ও সভাপতির অনুসরণের দিকনির্দেশনা:
- •১. মিটিংয়ের অন্তত ৭ দিন পূর্বে এজেন্ডা নোটিশ পাঠানো: সদস্যদের চিন্তা ও প্রস্তুতির সুযোগ দেওয়া।
- •২. ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে দ্বীনের স্বার্থকে অগ্রাধিকার: কোনো আত্মীয়কে অন্যায্য সুযোগ না দেওয়া।
- •৩. মিটিংয়ে সকলের স্বাধীন মত প্রকাশের সুযোগ: প্রবীণ ও তরুণ সকল আলেমের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনা।
- •৪. রেজুলেশনের প্রতিটি পাতায় সভাপতির স্বাক্ষর নিশ্চিতকরণ: ভবিষ্যতে কোনো বিতর্ক এড়াতে সিলমোহর দেওয়া।
- •৫. সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর সম্মিলিতভাবে বাস্তবায়নে ঐক্যবদ্ধ থাকা: শূরার সিদ্ধান্তের প্রতি শতভাগ আনুগত্য প্রদর্শন।
৫. বিভিন্ন অঞ্চলের মাদ্রাসায় ডিজিটাল শূরার বাস্তব কেস স্টাডি
বাংলাদেশের সেরা প্রতিষ্ঠানগুলোর অনুপ্রেরণামূলক ফলাফল:
- •ঢাকার একটি মডেল জামিয়া: ডিজিটাল রেজুলেশন ও প্রজেক্টেড অডিট রিপোর্ট চালু করায় শূরার মিটিংয়ে শতভাগ সন্তুষ্টি অর্জন করে ৩ কোটি টাকার নতুন ভবন প্রকল্প পাস করে।
- •চট্টগ্রামের একটি শীর্ষস্থানীয় কওমি মাদ্রাসা: বিগত ২০ বছরের সমস্ত রেজুলেশন ডিজিটালাইজড করায় মাদ্রাসা সম্পত্তির আইনি বিরোধে শতভাগ বিজয় লাভ করে।
- •সিলেটের একটি গ্রামীণ বালিকা মাদ্রাসা: শূরার স্বচ্ছতার কারণে স্থানীয় দানশীলদের আস্থা বৃদ্ধি পেয়ে প্রতিষ্ঠানের ফান্ড দ্বিগুণ হয়।
৬. শূরা সেক্রেটারির জন্য ৫-দফা চেকলিস্ট
মিটিংয়ের দিনে দায়িত্বশীল আলেমের করণীয়:
- •১. সকাল ৯:০০ টায় কনফারেন্স রুম প্রস্তুতকরণ: নিরিবিলি ও সুসজ্জিত পরিবেশ নিশ্চিত করা।
- •২. সদস্যদের উপস্থিতি খাতায় স্বাক্ষর গ্রহণ: কোরাম পূর্ণ হয়েছে কিনা তা নিশ্চিত করা।
- •৩. ল্যাপটপে সরাসরি রেজুলেশনের ড্রাফট টাইপ: আলোচনার সাথে সাথে সিদ্ধান্ত লিপিবদ্ধ করা।
- •৪. মিটিং শেষে তাৎক্ষণিক প্রিন্ট দিয়ে স্বাক্ষর গ্রহণ: সভা শেষ হওয়ার পূর্বেই স্বাক্ষর সম্পন্ন।
- •৫. ডিজিটাল কপিতে ক্লাউডে আপলোড: JamiaSoft সিস্টেমে রেজুলেশনের স্ক্যান কপি সংরক্ষণ।
৭. প্রাতিষ্ঠানিক আমানত ও আধুনিক শৃঙ্খলার ৫টি চিরস্থায়ী মূলনীতি
প্রতিষ্ঠানের সুনাম, বরকত ও দীর্ঘমেয়াদী স্থায়িত্ব বজায় রাখতে উস্তাদ ও পরিচালনা কমিটির দায়িত্ব:
- •১. শতভাগ শরয়ী স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা: হিসাব-নিকাশ ও তালীমাতের প্রতিটি পদক্ষেপে আল্লাহর ভয় ও মুহতামিমের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধান বজায় রাখা।
- •২. শিক্ষার্থীদের পিতা-মাতাতুল্য স্নেহ প্রদান: কোনো কঠোরতা বা অসৌজন্যমূলক আচরণ না করে ভালোবাসার সাথে শিক্ষাদান নিশ্চিত করা।
- •৩. তথ্যের নিরাপদ ও স্থায়ী ডিজিটাল ব্যাকআপ: খাতা হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি এড়াতে JamiaSoft ক্লাউড সার্ভারে সমস্ত ডাটা সংরক্ষণ।
- •৪. অভিভাবকদের সাথে নিয়মিত নিবিড় যোগাযোগ: শিক্ষার্থীর সবক অগ্রগতি ও মেসের সন্তুষ্টি নিয়ে প্রতি মাসে অন্তত একবার মতবিনিময়।
- •৫. পরিচালনা কমিটির ত্রৈমাসিক রিভিউ অধিবেশন: প্রতিষ্ঠানের আর্থিক বাজেট ও পরীক্ষা ফলাফলের সার্বিক অগ্রগতি পর্যালোচনা।
৮. মাদ্রাসার সংবিধান (দস্তুরুল আমল) প্রণয়ন ও আইনি ফ্রেমওয়ার্ক
একটি দ্বীনি প্রতিষ্ঠানকে ব্যক্তিপূজা বা স্বেচ্ছাচারিতা থেকে মুক্ত রাখতে একটি লিখিত লিখিত সংবিধান বা 'দস্তুরুল আমল' থাকা অপরিহার্য।
- •১. প্রতিষ্ঠানের আকিদা ও মূল লক্ষ্য ঘোষণা: দারুল উলূম দেওবন্দের আকিদা ও আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের নীতিমালার ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকার স্পষ্ট বিধান।
- •২. মুহতামিম ও শিক্ষকমণ্ডলীর দায়িত্ব ও ক্ষমতা: কে কোন দায়িত্ব পালন করবেন তার লিখিত টার্মস অব রেফারেন্স (ToR)।
- •৩. সম্পত্তি ও ওয়াকফ দলিলের আইনি মালিকানা: কোনো ব্যক্তির নামে না হয়ে মাদ্রাসার ট্রাস্টি বোর্ডের নামে রেজিস্ট্রি থাকা।
- •৪. জরুরি পরিস্থিতিতে শূরা ডাকার নিয়ম: সভাপতির অনুমোদনক্রমে বিশেষ জরুরি সভা ডাকার পদ্ধতি।
৯. ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষের সুশাসন অ্যাকশন প্ল্যান
পরিচালনা কমিটির রূপরেখা:
- •১. ত্রৈমাসিক কার্যনির্বাহী কমিটির সভা নিশ্চিতকরণ: ৩ মাস পর পর নিয়মিত কাজের ফলোআপ।
- •২. হিসাবের নিরপেক্ষ এক্সটার্নাল অডিট সম্পন্ন: রেজিস্টার্ড চার্টার্ড একাউন্ট্যান্ট বা অভিজ্ঞ মুফতি বোর্ড দ্বারা অডিট।
- •৩. মাদ্রাসার জমি ও ভবনের আধুনিক ডিজিটাল সার্ভে: সমস্ত সীমানা চিহ্নিত করে সরকারি নামজারি সম্পন্ন করা।
- •৪. শুভাকাঙ্ক্ষীদের সাথে নিয়মিত সুধী সমাবেশ: এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের পরামর্শ গ্রহণ।
- •৫. ইখলাস ও তাওবাভিত্তিক পরিবেশ রক্ষা: সকল কাজের মূল উদ্দেশ্য একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা।
১০. ঐক্যবদ্ধ শূরার সুদূরপ্রসারী বরকত ও শান্তি
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: "যে ব্যক্তি পরামর্শ করে কাজ করে, সে কখনো লজ্জিত হয় না।"
- •১. শয়তানি ফিতনা ও বিভেদ থেকে চিরতরে মুক্তি: একক সিদ্ধান্তের অহংকার দূর হয়ে রহমতের আবহ তৈরি হওয়া।
- •২. প্রতিষ্ঠানের শতবর্ষী স্থায়িত্ব নিশ্চিতকরণ: কোনো ব্যক্তি মারা গেলেও সিস্টেমের কারণে মাদ্রাসা যুগ যুগ টিকে থাকা।
- •৩. দেশি ও আন্তর্জাতিক মহলে গভীর আস্থা: একটি কর্পোরেট সুশাসনে চলা প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিশ্বমঞ্চে মর্যাদা লাভ।
- •৪. শিক্ষক ও ছাত্রদের মাঝে স্বস্তি ও মনোযোগ: প্রশাসনিক কোনো বিরোধ না থাকায় নিশ্চিন্তে পাঠদান অব্যাহত থাকা।
- •৫. পরকালীন মহা সাফল্য লাভ: আমানতদারিতার সাথে দায়িত্ব পালন করে আল্লাহর দরবারে কামিয়াব হওয়া।
১১. দ্বীনি আমানত রক্ষা ও মুহতামিমের চূড়ান্ত দিকনির্দেশনা
মজলিসে শূরা হলো একটি দ্বীনি আমানত। সদস্যদের পারস্পরিক পরামর্শ, বিনয় ও খোদাভীতির মাধ্যমেই একটি মাদ্রাসায় আল্লাহর বিশেষ নূসরত ও বরকত নাযিল হয়।
সাধারণ জিজ্ঞাসা ও প্রশ্নোত্তর (FAQs)
- •প্রশ্ন ১: শূরার মিটিং কতদিন পর পর হওয়া বাধ্যতামূলক? উত্তর: কার্যকরী কমিটির সভা প্রতি ৩ মাসে অন্তত একবার এবং পূর্ণাঙ্গ মজলিসে শূরার সভা বছরে অন্তত একবার অনুষ্ঠিত হওয়া আবশ্যক।
- •প্রশ্ন ২: রেজুলেশন খাতা হারিয়ে গেলে আইনি সুরক্ষার উপায় কী? উত্তর: JamiaSoft ডিজিটাল আর্কাইভে রেজুলেশনের স্ক্যান কপি ও ডিজিটাল হিস্ট্রি ক্লাউডে সংরক্ষিত থাকলে কোনো আইনি ঝুঁকি থাকে না।
- •প্রশ্ন ৩: শূরার সদস্য নির্বাচনের প্রধান মাপকাঠি কী? উত্তর: খোদাভীতি (তাকওয়া), শরয়ী জ্ঞান, মাদ্রাসার প্রতি নিঃস্বার্থ ভালোবাসা এবং কোনো ব্যক্তিগত আর্থিক স্বার্থ না থাকা।
- •প্রশ্ন ৪: কোনো সিদ্ধান্তে মতবিরোধ হলে কীভাবে সমাধান করা হয়? উত্তর: সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যদের সম্মতিক্রমে এবং প্রয়োজনে প্রধান মুরুব্বি ও আলেমদের ফয়সালা মেনে সমাধান করা সুন্নাত।
- •প্রশ্ন ৫: সফটওয়্যারে কি শূরার সদস্যদের ডাটাবেজ রাখা যায়? উত্তর: হ্যাঁ, JamiaSoft-এ 'Governing Body Directory'-তে সদস্যদের নাম, পদবি, মোবাইল ও মেয়াদের তালিকা সংরক্ষিত থাকে।
- •প্রশ্ন ৬: বার্ষিক অডিট রিপোর্ট কি শূরার রেজুলেশনে অন্তর্ভুক্ত করতে হয়? উত্তর: হ্যাঁ, অডিট স্টেটমেন্টের একটি স্বাক্ষরিত কপি রেজুলেশন বইয়ের সাথে সংযুক্ত করে রাখা আইনি ও শরয়ী কমপ্লায়েন্স।
১২. ঐতিহাসিক প্রতিষ্ঠানের শতবর্ষী স্থায়িত্ব ও ন্যায়পরায়ণ সুশাসন
একটি প্রতিষ্ঠান যখন ব্যক্তিকেন্দ্রিক না হয়ে প্রাতিষ্ঠানিক শূরা ব্যবস্থার ওপর পরিচালিত হয়, তখন আল্লাহ তাআলা সেই প্রতিষ্ঠানে হাজার বছরের বরকত ঢেলে দেন।
- •১. শতভাগ জবাবদিহিতা ও ইনসাফপূর্ণ প্রশাসন: পরিচালনা কমিটির প্রতিটি সিদ্ধান্তে আল্লাহর ভয় ও প্রতিষ্ঠানের স্বার্থ সর্বোচ্চ রাখা।
- •২. সমস্ত নথিপত্র ও রেজুলেশনের আজীবন ক্লাউড সংরক্ষণ: প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা দুর্যোগেও আইনি অধিকার সুরক্ষিত রাখা।
- •৩. শিক্ষক ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের সাথে মজবুত আস্থার বন্ধন: কোনো ধরনের গোপনীয়তা বা দুর্নীতিমুক্ত স্বচ্ছ পরিবেশ।
- •৪. ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি আদর্শ মডেল নির্মাণ: বাংলাদেশের প্রতিটি দ্বীনি প্রতিষ্ঠানের জন্য সুশাসনের রোল মডেল হওয়া।
- •৫. আখেরাতের মহা হিসাবের দিনে সফল হওয়া: প্রতিটি পয়সা ও আমানতের পুঙ্খানুপুঙ্খ হিসাব দিয়ে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন।
মাওলানা তানভীর আহমেদ
শরয়ী অডিট ও ফিন্যান্স কনসালট্যান্ট
বাংলাদেশের প্রখ্যাত শরয়ী ফিন্যান্স বিশেষজ্ঞ। কওমি ও আলিয়া মাদ্রাসার যাকাত, লিল্লাহ ও সাধারণ ফান্ডের পৃথক ব্যবস্থাপনা ও অডিটে এক দশকের অভিজ্ঞতা রেখেছেন। JamiaSoft-এর শরয়ী কমপ্লায়েন্স আর্কিটেকচারের প্রধান পরামর্শদাতা।
আর্টিকেলটি ভালো লাগলে অন্যদের সাথে শেয়ার করুন
দ্বীনি প্রতিষ্ঠান ও মাদ্রাসার আর্থিক আমানতদারিতা ও আধুনিকায়নে তথ্যগুলো ছড়িয়ে দিন।
সম্পর্কিত প্রবন্ধ

কওমি মাদ্রাসার ওয়াকফ সম্পত্তি ও স্থাবর সম্পদ ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা এসওপি
কওমি মাদ্রাসার আওতাধীন ওয়াকফ জমি, দোকান, মার্কেট, ভবন ও কৃষিজমির অবৈধ দখল রোধ, ডিজিটাল নামজারি ট্র্যাকিং এবং শতভাগ স্বচ্ছ ভাড়া আদায়ের প্রাতিষ্ঠানিক নির্দেশিকা।

কওমি মাদ্রাসায় ক্ষুদ্র দান ও মাসিক সাবস্ক্রিপশন ডোনেশন বক্স অটোমেশন এসওপি
কওমি মাদ্রাসায় বড় বড় অনুদানের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে হাজার হাজার সাধারণ শুভাকাঙ্ক্ষীর কাছ থেকে মাসিক ১০০-৫০০ টাকার মাইক্রো ডোনেশন ও স্মার্ট বক্স কালেকশনের স্বয়ংক্রিয় রূপরেখা।

কওমি মাদ্রাসার ইমার্জেন্সি কন্টিনজেন্সি রিজার্ভ ফান্ড ব্যবস্থাপনা এসওপি: প্রাতিষ্ঠানিক আর্থিক নিরাপত্তা
দুর্যোগ, বন্যা বা অনুদান ঘাটতির সময় মাদ্রাসার শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন ও মেসের খাবার নিরবচ্ছিন্ন রাখতে ইমার্জেন্সি রিজার্ভ ফান্ড এসওপি।
আপনার মাদ্রাসায় JamiaSoft ব্যবহার করতে চান?
হিফজ ট্র্যাকিং, শরয়ী ফিন্যান্স ও অনলাইন ভর্তির আধুনিক অভিজ্ঞতা পেতে আজই ফ্রি ডেমো বুক করুন।