
মাদ্রাসার ওয়াকফ সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা, আইনি সুরক্ষা ও শরয়ী দলিলের হেফাজত
কওমি ও দ্বীনি মাদ্রাসার ওয়াকফকৃত জমি, ভবন ও দোকান ব্যবস্থাপনা, ওয়াকফনামা দলিল রেজিস্ট্রেশন, বাংলাদেশ ওয়াকফ অর্ডিন্যান্স কমপ্লায়েন্স এবং শরয়ী আমানত রক্ষার পূর্ণাঙ্গ গাইড।

কওমি ও দ্বীনি মাদ্রাসার ওয়াকফকৃত জমি, ভবন ও দোকান ব্যবস্থাপনা, ওয়াকফনামা দলিল রেজিস্ট্রেশন, বাংলাদেশ ওয়াকফ অর্ডিন্যান্স কমপ্লায়েন্স এবং শরয়ী আমানত রক্ষার পূর্ণাঙ্গ গাইড।
পবিত্র ইসলাম ধর্মে ওয়াকফ (Waqf) হলো একটি অবিচ্ছিন্ন ও স্থায়ী সাদাকায়ে জারিয়া, যার মালিকানা আল্লাহ তায়ালার নামে সমর্পিত হয় এবং এর সুফল নির্দিষ্ট দ্বীনি ও জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যয় হয়। বাংলাদেশের অধিকাংশ কওমি, আলিয়া ও হাফেজিয়া মাদ্রাসা কোনো না কোনো দানশীল মুসলিমের ওয়াকফকৃত জমি, পুকুর, মার্কেট বা ভবনের ওপর প্রতিষ্ঠিত। কিন্তু বহু মাদ্রাসায় ওয়াকফনামার সুনির্দিষ্ট লিখিত দলিল না থাকা, জমি নামজারি (মিউটেশন) না করা, খতিয়ানে মাদ্রাসার নাম অন্তর্ভুক্ত না থাকা এবং মুতাওয়াল্লী কমিটির মাঝে বিরোধের কারণে ওয়াকফকৃত মূল্যবান সম্পত্তি বেদখল বা আইনি জটিলতায় পড়ে যায়।
মাদ্রাসার ওয়াকফ সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা ও আইনি হেফাজত (Madrasa Waqf Property & Legal Management) বলতে বোঝায় প্রতিষ্ঠানের সকল স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির সঠিক ওয়াকফনামা সম্পাদন, ভূমি রেকর্ড (সিএস, এসএ, আরএস ও সিটি জরিপ) হালনাগাদ রাখা, বাংলাদেশ ওয়াকফ প্রশাসন (Waqf Administration)-এর নিয়মাবলী পরিপালন এবং দোকান বা ভাড়ার আয়ের শতভাগ স্বচ্ছ শরয়ী হিসাব পরিচালনা করা। JamiaSoft এসেট ও ওয়াকফ মডিউল ব্যবহারের মাধ্যমে প্রতিটি জমির দাগ নম্বর, খাজনার দাখিলা, ভেন্যু চুক্তিনামা এবং মাসিক ভাড়ার ডিজিটাল রসিদ ক্লাউডে সুরক্ষিত থাকে। এর ফলে ওয়াকফ সম্পত্তি বেদখলের ঝুঁকি শূন্যে নেমে আসে এবং কিয়ামতের দিন খেয়ানতের ভয়াবহ অপরাধ থেকে মুক্ত থাকা যায়।
ওয়াকফের আমানত রক্ষা করা কেবল একটি আইনি দায়িত্বই নয়, বরং এটি দ্বীন ও আকাবীরদের আমানত রক্ষার এক পবিত্র ঈমানী পরীক্ষা।
১. ওয়াকফ সম্পত্তির শরয়ী মর্যাদা ও ৩টি প্রধান বিধান
ফিকহে ইসলামীর আলোকে ওয়াকফকৃত সম্পত্তির অপরিহার্য নীতিমালা:
- •১. মালিকানা হস্তান্তরহীনতা (Inalienability): ওয়াকফ সহীহ হওয়ার পর তা আর কোনো একক ব্যক্তির ব্যক্তিগত সম্পত্তি থাকে না; এটি বিক্রি করা, হেবা (উপহার) দেওয়া বা উত্তরাধিকারীদের মাঝে বণ্টন করা সম্পূর্ণ হারাম।
- •২. ওয়াকিফের শর্ত পূরণ (Waqif's Conditions): জমি বা সম্পত্তি দানকারী ব্যক্তি যে সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে ওয়াকফ করেছেন (যেমন: শুধুমাত্র হেফজখানা বা লিল্লাহ বোর্ডিং), সেই উদ্দেশ্যেই আয় ব্যয় করতে হবে; অন্য কোনো খাতে পরিবর্তন করা জায়েজ নেই।
- •৩. স্থায়ী সাদাকায়ে জারিয়া: ওয়াকফকৃত সম্পত্তি থেকে যে আয় (যেমন: দোকানের ভাড়া, পুকুরের মাছ বিক্রয়) আসবে, তা অনন্তকাল মাদ্রাসার শিক্ষাগত ও আবাসিক কল্যাণে ব্যয় হতে থাকবে।
- •৪. মুতাওয়াল্লীর আমানতদারিতা: মুতাওয়াল্লী বা পরিচালনা কমিটি কেবল একজন রক্ষক (Trustee), কোনো অবস্থাতেই সম্পত্তির অপব্যবহার বা ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিল করতে পারবেন না।
২. সনাতন ওয়াকফ ব্যবস্থাপনা বনাম ডিজিটাল জামিয়া এসেট সিস্টেম
সনাতন খাতার রেকর্ড বনাম আধুনিক ক্লাউড ওয়াকফ ম্যানেজমেন্টের বাস্তব পার্থক্য:
| বৈশিষ্ট্যের ক্ষেত্র | সনাতন খাতা ও আলমারি পদ্ধতি | JamiaSoft ডিজিটাল ওয়াকফ রেজিস্টার |
|---|---|---|
| মূল দলিলের নিরাপত্তা | উইপোকায় খাওয়া, ছেঁড়া বা অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি | ব্যাংকিং-গ্রেড এনক্রিপশনে আজীবন হাই-রেজ স্ক্যান ব্যাকআপ |
| জমির খাজনা ও কর অ্যালার্ট | খাজনা দিতে ভুলে গিয়ে জরিমানার শিকার হওয়া | প্রতি বছর খাজনা পরিশোধের ডিজিটাল অটো-রিমাইন্ডার |
| মার্কেটের দোকান ভাড়া কালেকশন | হাতে লেখা রসিদে ভাড়া আদায়ের গরমিল | ১-ক্লিকে ডিজিটাল মানি রিসিট ও স্বয়ংক্রিয় এসএমএস |
| দাগ ও খতিয়ান সার্চিং | দলিলের স্তূপ ঘেঁটে কয়েক ঘণ্টা সময় অপচয় | মৌজা, দাগ বা খতিয়ান নম্বর দিয়ে ২ সেকেন্ডে ইনস্ট্যান্ট সার্চ |
| শূরার নিকট স্বচ্ছ অডিট | অস্পষ্ট আয়-ব্যয় খতিয়ান | ওয়াকফ সম্পত্তির বাৎসরিক আয়-ব্যয়ের ১-ক্লিক অডিট রিপোর্ট |
৩. ওয়াকফকৃত জমি সুরক্ষায় ৫-দফা আইনি ও প্রশাসনিক চেকলিস্ট
বেদখল ও আইনি বিরোধ থেকে জমি সুরক্ষায় পরিচালনা কমিটির আশু করণীয়:
- •১. রেজিস্ট্রিকৃত ওয়াকফনামা দলিল সম্পাদন: শুধুমাত্র মৌখিক দান বা সাদা কাগজের ওপর নির্ভর না করে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে মাদ্রাসার নামে আনুষ্ঠানিক 'ওয়াকফ দলিল' বা 'দানপত্র দলিল' সম্পাদন করা।
- •২. সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিসে নামজারি (Mutation): দলিলের ভিত্তিতে এসিল্যান্ড অফিস থেকে মাদ্রাসার নামে পৃথক খতিয়ান (পর্চা) প্রস্তুত করে নামজারি সম্পন্ন করা।
- •৩. নিয়মিত ভূমি উন্নয়ন কর (খাজনা) পরিশোধ: প্রতি বছর সরকারি খাজনা পরিশোধ করে দাখিলা সংগ্রহ ও ডিজিটাল আর্কাইভে স্ক্যান কপি সেভ রাখা।
- •৪. সীমানা নির্ধারণ ও স্থায়ী সীমানা প্রাচীর: কোনো ওয়াকফ জমি অনাবাদী বা উন্মুক্ত না রেখে কংক্রিট পিলার বা বাউন্ডারি ওয়াল দিয়ে সুরক্ষিত রাখা এবং মাদ্রাসার সাইনবোর্ড লাগানো।
- •৫. বাংলাদেশ ওয়াকফ প্রশাসনে তালিকাভুক্তি: সরকারি ওয়াকফ তালিকাভুক্তির নিয়মাবলী যথাযথভাবে সম্পন্ন করে ওয়াকফ এস্টেট নম্বর সংরক্ষণ করা।
৪. মাদ্রাসার মার্কেট ও দোকান ভাড়ার স্বচ্ছ হিসাব মডেল
ওয়াকফ মার্কেট বা দোকান থেকে আসা আয়ের সঠিক পরিচালনার ফ্রেমওয়ার্ক:
| দোকানের নম্বর ও বিবরণ | মাসিক নির্ধারিত ভাড়া | চুক্তির মেয়াদ ও নবায়ন | ভাড়ার খাতের সুনির্দিষ্ট ব্যয় |
|---|---|---|---|
| দোকান ০১: ফার্মেসি | ৳৮,০০০ | ৩ বছর মেয়াদী চুক্তিপত্র | লিল্লাহ বোর্ডিংয়ের ছাত্রদের চিকিৎসা ফান্ড |
| দোকান ০২: লাইব্রেরি | ৳৬,৫০০ | ২ বছর মেয়াদী চুক্তিপত্র | কুতুবখানার নতুন কিতাব ক্রয় |
| দোকান ০৩: জেনারেল স্টোর | ৳১০,০০০ | ৩ বছর মেয়াদী চুক্তিপত্র | আবাসিক মেসের মাসিক বাজার ভর্তুকি |
| পুকুর ইজারা (বার্ষিক) | ৳৫০,০০০ (এককালীন) | ১ বছরের মাছ চাষ ইজারা | মাদ্রাসার বিদ্যুৎ ও পানির ইউটিলিটি বিল |
| মোট বার্ষিক ওয়াকফ আয় | ৳৪,১০,০০০ | শতভাগ ব্যাংকিং চ্যানেলে জমা | মজলিসে শূরা অনুমোদিত খাতে ব্যয় |
৫. ওয়াকফ সংক্রান্ত বিরোধ নিরসনে শরীয়াহ ও আইনি সালিশি প্রটোকল
কমিটির মাঝে মতবিরোধ বা উত্তরাধিকারীদের দাবির আইনি সমাধান:
- •শরীয়াহ বোর্ডের মধ্যস্থতা: শীর্ষ মুফতিয়ানে কেরামের সামনে মূল ওয়াকফনামা উপস্থাপন করে ফতোয়া গ্রহণ ও সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন।
- •কমিটি রেজুলেশন বুক সংরক্ষণ: সম্পত্তি সম্পর্কিত পরিচালনা কমিটির প্রতিটি সভার কার্যবিবরণী ও স্বাক্ষর রেজিস্টারে সংরক্ষণ।
- •দলিল জালিয়াতি প্রতিরোধ: সরকারি ভূমি রেকর্ড অফিসের খতিয়ানের সাথে মিলিয়ে মূল দলিলের সঠিকতা নিয়মিত প্রতি ৫ বছর পর পর ভেরিফাই করা।
৬. জেলা ও বিভাগ ভিত্তিক ওয়াকফ সম্পত্তি সুরক্ষার বাস্তব কেস স্টাডি
বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মাদ্রাসায় ওয়াকফ ব্যবস্থাপনার সফলতা:
- •চট্টগ্রামের একটি প্রাচীন জামিয়া: প্রায় ৫ একর ওয়াকফ জমি দীর্ঘ ২০ বছর ধরে বেদখল ছিল। ডিজিটাল রেকর্ড ও রেজিস্ট্রিকৃত ওয়াকফনামার আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে কোটি টাকার সম্পত্তি উদ্ধার করে নতুন হিফজ ভবন নির্মাণ করা হয়।
- •সিলেটের একটি গ্রামীণ মাদ্রাসা: প্রবাসীদের দানকৃত মার্কেটের দোকান ভাড়া জামিয়া সফটওয়্যারের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয় এসএমএস রসিদে আদায় করায় ভাড়া আদায়ের হার ৯৫% থেকে ১০০%-এ উন্নীত হয়।
- •ঢাকার একটি আধুনিক মাদ্রাসা: ক্লাউডে দলিলের স্ক্যান কপি থাকায় আকস্মিক অগ্নিকাণ্ডে মূল কাগজপত্র ক্ষতিগ্রস্ত হলেও আইনি জটিলতা ছাড়াই ডুপ্লিকেট সার্টিফাইড কপি উত্তোলন করতে সক্ষম হয়।
৭. ওয়াকফ তত্ত্বাবধায়কদের জন্য ৫টি স্থায়ী দিকনির্দেশনা
ওয়াকফের প্রতিটি টাকার পবিত্রতা রক্ষায় করণীয়:
- •১. ব্যক্তিগত ব্যবসার সাথে ওয়াকফ অর্থ না মেশানো: ওয়াকফের টাকা সম্পূর্ণ আলাদা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা রাখা।
- •২. বাজার মূল্যের সাথে সামঞ্জস্য রেখে ভাড়া নির্ধারণ: অতি স্বল্পমূল্যে স্বজনদের দোকান বরাদ্দ না দিয়ে উন্মুক্ত টেন্ডারে ন্যায্য ভাড়া নির্ধারণ।
- •৩. নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামত: ওয়াকফ ভবন ও মার্কেট যাতে ক্ষয়প্রাপ্ত না হয় সে জন্য ভাড়ার একটি অংশ দিয়ে নিয়মিত সংস্কার করা।
- •৪. ওয়াকিফের রুহের মাগফিরাতে দোয়া: ওয়াকফকারী দানশীল ব্যক্তিদের জন্য প্রতি জুমার পর হাফেজ ছাত্রদের নিয়ে বিশেষ মোনাজাত করা।
- •৫. বার্ষিক ওয়াকফ অডিট রিপোর্ট প্রকাশ: শূরার সামনে ওয়াকফ সম্পত্তির প্রতিটি টাকার আয়-ব্যয় বিবরণী পেশ করা।
৮. ওয়াকফ এস্টেটের জমি অধিগ্রহণ ও ক্ষতিপূরণের শরয়ী ও আইনি প্রক্রিয়া
রাষ্ট্রীয় মেগা প্রজেক্ট বা সড়ক সম্প্রসারণে ওয়াকফ জমি ক্ষতিগ্রস্ত হলে করণীয়:
- •১. ক্ষতিপূরণের টাকা ব্যক্তিগত তহবিলে না নেওয়া: সরকার কর্তৃক প্রদত্ত ক্ষতিপূরণের প্রতিটি পয়সা মাদ্রাসার ওয়াকফ তহবিলে সমর্পণ করা।
- •২. সমমূল্যের বিকল্প জমি ক্রয়: ক্ষতিপূরণের অর্থ ফেলে না রেখে নিকটবর্তী সুবিধাজনক স্থানে সমমূল্য বা বৃহত্তর জমি ক্রয় করে পুনরায় মাদ্রাসার নামে ওয়াকফ করা।
- •৩. শরীয়াহ বোর্ডের অনুমোদন: দারুল ইফতার বিজ্ঞ মুফতিগণের উপস্থিতিতে ক্ষতিপূরণের অর্থ ব্যয়ের সুনির্দিষ্ট রেজুলেশন অনুমোদন।
৯. স্থায়ী ওয়াকফ তহবিল (Cash Waqf) গঠনের আধুনিক রূপরেখা
জমি বা ভবনের পাশাপাশি নগদ অর্থ ওয়াকফ করার শরয়ী সুযোগ:
- •ক্যাশ ওয়াকফ সার্টিফিকেট প্রদান: বিত্তবান মুসল্লিদের জন্য ১০,০০০, ৫০,০০০ বা ১,০০,০০০ টাকার আজীবন 'ক্যাশ ওয়াকফ' সার্টিফিকেট ইস্যু করা।
- •সুদমুক্ত লাভজনক শরয়ী বিনিয়োগ: ক্যাশ ওয়াকফের মূল টাকা অক্ষুণ্ণ রেখে তা ইসলামি ব্যাংকের মুদারাবা বা লাভজনক হালাল সম্পদে বিনিয়োগ করে অর্জিত লভ্যাংশ দিয়ে এতিমদের লালন-পালন করা।
১০. ওয়াকফ এস্টেট পরিচালনায় মুতাওয়াল্লী কমিটির ৫-দফা শপথ ও দায়বদ্ধতা
পরিচালনা কমিটির সদস্যদের জন্য আজীবন অনুসরণীয় দিকনির্দেশনা:
- •১. কোনো প্রকার ব্যক্তিস্বার্থ না রাখা: ওয়াকফ সম্পত্তি থেকে কোনো সদস্য ব্যক্তিগতভাবে কোনো আর্থিক বা বাণিজ্যিক সুবিধা গ্রহণ করবেন না।
- •২. প্রতি ৬ মাসে ওয়াকফ সীমানা ফিজিক্যাল পরিদর্শন: মাদ্রাসার ওয়াকফকৃত সকল দাগ ও খতিয়ানের জমি স্বচক্ষে ঘুরে দেখে সীমানা খুঁটি যাচাই করা।
- •৩. ব্যাংক হিসাবের ডাবল সিগনেচার: ওয়াকফ ফান্ডের প্রতিটি চেক মুহতামিম ও কমিটির সভাপতি/সেক্রেটারির যৌথ স্বাক্ষরে পরিচালনা করা।
- •৪. জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত অডিট নোটিশ: ওয়াকফ থেকে কত টাকা আয় হলো এবং কত টাকা শিক্ষায় খরচ হলো তা প্রতি বছর জনসম্মুখে প্রকাশ।
- •৫. চিরস্থায়ী ওয়াকফ রেজিস্টার সংরক্ষণ: সকল জমির মূল দলিল ব্যাংকের লকার বা মাদ্রাসার ফায়ারপ্রুফ সেফে স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ।
সাধারণ জিজ্ঞাসা ও প্রশ্নোত্তর (FAQs)
- •প্রশ্ন ১: মৌখিকভাবে ওয়াকফ করা জমি কি আইনগতভাবে বৈধ? উত্তর: শরীয়তের দৃষ্টিতে মৌখিক ওয়াকফ সহীহ হলেও বর্তমান রাষ্ট্রীয় আইনে সুরক্ষার জন্য সাব-রেজিস্ট্রি দলিলের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক রেজিস্ট্রেশন ও নামজারি করা বাধ্যতামূলক।
- •প্রশ্ন ২: মাদ্রাসার ওয়াকফকৃত জমি কি অন্য কোনো মাদ্রাসার সাথে বিনিময় (ইবতাল/ইসতিবদাল) করা যায়? উত্তর: অত্যন্ত জরুরি দ্বীনি প্রয়োজন ছাড়া ওয়াকফ সম্পত্তি পরিবর্তন করা যায় না; করতে হলে বিজ্ঞ দারুল ইফতার শীর্ষ মুফতিগণের সুস্পষ্ট লিখিত ফতোয়া ও শর্তাবলী মেনে করতে হয়।
- •প্রশ্ন ৩: ওয়াকফ সম্পত্তির দলিল কি সফটওয়্যারে নিরাপদ থাকে? উত্তর: হ্যাঁ, JamiaSoft-এর এনক্রিপ্টেড ক্লাউড স্টোরেজে দলিল, পর্চা ও খাজনার রশিদ আজীবনের জন্য সুরক্ষিত থাকে।
- •প্রশ্ন ৪: দোকানদার ভাড়া বকেয়া রাখলে সফটওয়্যার কি নোটিশ পাঠায়? উত্তর: হ্যাঁ, মাসের নির্দিষ্ট তারিখ পেরিয়ে গেলে সংশ্লিষ্ট ভাড়াটিয়ার মোবাইলে স্বয়ংক্রিয় বকেয়া ভাড়ার এসএমএস রিমাইন্ডার যায়।
- •প্রশ্ন ৫: ওয়াকফকৃত মার্কেটের ভাড়া কি শিক্ষকদের বেতনে দেওয়া যায়? উত্তর: হ্যাঁ, ওয়াকিফ যদি সাধারণ মাদ্রাসা কল্যাণে ওয়াকফ করে থাকেন তবে তা শিক্ষকদের সম্মানজনক বেতনে ব্যয় করা সম্পূর্ণরূপে শরীয়াহসম্মত।
- •প্রশ্ন ৬: ওয়াকফ জমি কি সরকারি অধিগ্রহণে পড়লে ক্ষতিপূরণের টাকা কীভাবে খরচ হবে? উত্তর: সরকারি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণের সম্পূর্ণ অর্থ দিয়ে সমমানের নতুন জমি ক্রয় করে পুনরায় মাদ্রাসার নামে ওয়াকফ করতে হবে।
মাওলানা তানভীর আহমেদ
শরয়ী অডিট ও ফিন্যান্স কনসালট্যান্ট
বাংলাদেশের প্রখ্যাত শরয়ী ফিন্যান্স বিশেষজ্ঞ। কওমি ও আলিয়া মাদ্রাসার যাকাত, লিল্লাহ ও সাধারণ ফান্ডের পৃথক ব্যবস্থাপনা ও অডিটে এক দশকের অভিজ্ঞতা রেখেছেন। JamiaSoft-এর শরয়ী কমপ্লায়েন্স আর্কিটেকচারের প্রধান পরামর্শদাতা।
আর্টিকেলটি ভালো লাগলে অন্যদের সাথে শেয়ার করুন
দ্বীনি প্রতিষ্ঠান ও মাদ্রাসার আর্থিক আমানতদারিতা ও আধুনিকায়নে তথ্যগুলো ছড়িয়ে দিন।
সম্পর্কিত প্রবন্ধ

মাদ্রাসার জরুরি আপদকালীন সঞ্চয় তহবিল (Emergency Reserve Fund): প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও সংকট মোকাবেলায় শরয়ী ফিন্যান্সিয়াল এসওপি
বন্যা, মহামারী বা অর্থনৈতিক সংকটে মাদ্রাসার বেতন ও খোরাকি সচল রাখতে শরয়ী আপদকালীন রিজার্ভ ফান্ড গঠন ও পরিচালনার বিস্তারিত এসওপি।
পড়ুন →
মাদ্রাসার নির্মাণ ও সম্প্রসারণে বিশেষ ফান্ড ড্রাইভ: ডোনারদের জন্য ডিজিটাল ইট-সাদাকাহ ও প্রকল্পের পর্যায়ক্রমিক হিসাব এসওপি
মাদ্রাসার বহুতল ভবন নির্মাণ ও ওয়াকফ প্রকল্প বাস্তবায়নে ডিজিটাল ইট-সাদাকাহ ক্যাম্পেইন, ডোনার ট্র্যাকিং ও শতভাগ স্বচ্ছ হিসাবরক্ষণ এসওপি।
পড়ুন →
মাদ্রাসার বাৎসরিক শুভাকাঙ্ক্ষী সম্মেলন ও দাতা সম্মাননা: আমানতদারিতার হিসাব পেশ ও স্থায়ী ওয়াকফ তহবিল গঠন এসওপি
কওমি মাদ্রাসার বার্ষিক দাতা ও শুভাকাঙ্ক্ষী সম্মেলন, অডিট রিপোর্ট পেশ, আজীবন ডোনার সম্মাননা ও স্থায়ী ওয়াকফ তহবিল (Endowment Fund) গঠন এসওপি।
পড়ুন →আপনার মাদ্রাসায় JamiaSoft ব্যবহার করতে চান?
হিফজ ট্র্যাকিং, শরয়ী ফিন্যান্স ও অনলাইন ভর্তির আধুনিক অভিজ্ঞতা পেতে আজই ফ্রি ডেমো বুক করুন।