
কওমি পাঠ্যক্রমের পেসিং ক্যালেন্ডার ও কিতাব শেষ করার বার্ষিক একাডেমিক পরিকল্পনা
কওমি মাদ্রাসার দরসে নেজামি পাঠ্যক্রমের পেসিং ক্যালেন্ডার, কিতাব সময়মতো খতম করার বার্ষিক রুটিন, সাপ্তাহিক মোজাকারা এবং শিক্ষক লোড ব্যালান্সিং গাইড।

কওমি মাদ্রাসার দরসে নেজামি পাঠ্যক্রমের পেসিং ক্যালেন্ডার, কিতাব সময়মতো খতম করার বার্ষিক রুটিন, সাপ্তাহিক মোজাকারা এবং শিক্ষক লোড ব্যালান্সিং গাইড।
কওমি মাদ্রাসার ঐতিহ্যবাহী 'দরসে নেজামি' পাঠ্যক্রম মুসলিম বিশ্বের এক অনন্য ও সমৃদ্ধ একাডেমিক সিলেবাস। মিজান-মুনশাইব থেকে শুরু করে দাওরায়ে হাদিস পর্যন্ত প্রতিটি জামাতে গভীর তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক কিতাবসমূহ পড়ানো হয়। কিন্তু অনেক প্রতিষ্ঠানে শিক্ষাবর্ষের শুরুতে সুনির্দিষ্ট 'কারিকুলাম পেসিং ক্যালেন্ডার' না থাকার কারণে বছরের শেষভাগে এসে দেখা যায় কিতাবের বিশাল অংশ অপঠিত রয়ে গেছে। ফলে শেষ মুহূর্তে তাড়াহুড়ো করে কিতাব শেষ করতে গিয়ে শিক্ষার গভীরতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
কওমি পাঠ্যক্রমের পেসিং ক্যালেন্ডার ও বার্ষিক একাডেমিক পরিকল্পনা (Qawmi Curriculum Pacing & Lesson Plan) হলো একটি সুবিন্যস্ত একাডেমিক সময়সূচি, যেখানে প্রতিটি কিতাবের মোট পৃষ্ঠা সংখ্যাকে শিক্ষাবর্ষের মোট কর্মদিবস (Working Days) দিয়ে ভাগ করে মাসিক ও সাপ্তাহিক পাঠের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। JamiaSoft একাডেমিক মডিউলের মাধ্যমে নাজেমে তালীমাত প্রতিটি উস্তাদের দৈনিক পাঠদান অগ্রগতি, সিলেবাস কভারেজ পারসেন্টেজ এবং সাপ্তাহিক মোজাকারা লাইভ মনিটর করতে পারেন। এর ফলে শিক্ষাবর্ষের নির্ধারিত সময়ের অন্তত ১৫ দিন পূর্বেই প্রতিটি কিতাব গভীর মোতালাআর সাথে সফলভাবে সমাপ্ত করা সম্ভব হয়।
সুপরিকল্পিত শিক্ষাদান কওমি মাদ্রাসার ছাত্রদের মেধা ও যোগ্যতাকে যুগোপযোগী মানে উন্নীত করে।
১. কওমি জামাতসমূহের কিতাব পেসিং ও পৃষ্ঠা বণ্টন মডেল
একটি আদর্শ শিক্ষাবর্ষের (প্রায় ২০০–২২০টি কার্যকর কর্মদিবস) কিতাবভিত্তিক পেসিং বিশ্লেষণ:
| জামাতের নাম | প্রধান প্রধান কিতাবসমূহ | মোট পৃষ্ঠা সংখ্যা | দৈনিক টার্গেট (পৃষ্ঠা) | ষাণ্মাসিক পরীক্ষার লক্ষ্য |
|---|---|---|---|---|
| মিজান জামাত | মিজান-মুনশাইব, পাঞ্জেগাঞ্জ, ফার্সি কিতাব | প্রায় ৪০০ পৃষ্ঠা | ২–৩ পৃষ্ঠা | প্রথম ৫০% সিলেবাস সমাপ্ত |
| নাহবেমীর জামাত | নাহবেমীর, মিরকাত, নূরুল ইযাহ | প্রায় ৫০০ পৃষ্ঠা | ২.৫ পৃষ্ঠা | কিতাবের অর্ধেক খতম |
| হেদায়াতুন্নাহু | হেদায়াতুন্নাহু, কাফিয়া, কুদুরী | প্রায় ৬৫০ পৃষ্ঠা | ৩ পৃষ্ঠা | ফিকহ ও নাহুর মূল অংশ |
| জালালাইন জামাত | তাফসিরে জালালাইন (১ম ও ২য় খণ্ড), উসুলুস শাশী | প্রায় ১,০০০ পৃষ্ঠা | ৪–৫ পৃষ্ঠা | ১ম খণ্ড সম্পূর্ণ সমাপ্ত |
| মেশকাত জামাত | মেশকাতুল মাসাবিহ, হিদায়া (আখেরাইন) | প্রায় ১,২০০ পৃষ্ঠা | ৫–৬ পৃষ্ঠা | কিতাবুল বুয়ূ ও কিতাবুন নিকাহ |
| দাওরায়ে হাদিস | বুখারি, মুসলিম, তিরমিজি, আবু দাউদ, নাসাঈ | প্রায় ৪,৫০০ পৃষ্ঠা | ১৫–২০ পৃষ্ঠা (যৌথ দারস) | হাদিসের মূল কিতাবসমূহ |
২. পেসিং ক্যালেন্ডার বাস্তবায়নের ৪টি প্রধান ধাপ
নাজেমে তালীমাতের জন্য একাডেমিক মনিটরিংয়ের ব্যবহারিক কাঠামো:
- •১. কার্যকর কর্মদিবস গণনা: শিক্ষাবর্ষের মোট দিন থেকে রমজান, ঈদ, শুক্রবার ও সরকারি ছুটি বাদ দিয়ে প্রকৃত পাঠদানের দিন সংখ্যা বের করা।
- •২. সাপ্তাহিক মোজাকারা রুটিন: প্রতি বৃহস্পতিবার রাতে ছাত্রদের জন্য সাপ্তাহিক পঠিত কিতাবের যৌথ পুনরাবৃত্তি বাধ্যতামূলক করা।
- •৩. মাসিক সিলেবাস অডিট: প্রতি মাসের শেষ দিনে নাজেমে তালীমাত প্রতিটি উস্তাদের কিতাবের অগ্রগতি রেজিস্টার চেক করে অগ্রগতি শতাংশ সফটওয়্যারে এন্ট্রি করবেন।
- •৪. অতিরিক্ত ক্লাসের সমন্বয়: যদি কোনো কারণে কোনো কিতাব পিছিয়ে পড়ে, তবে আসর পর বা ছুটির দিনে অতিরিক্ত ক্লাসের মাধ্যমে তা পুষিয়ে নেওয়া।
৩. শিক্ষক লোড ব্যালান্সিং ও ঘণ্টার বণ্টন
উস্তাদদের ক্লান্তি দূর করতে ক্লাস বণ্টনের আদর্শ অনুপাত:
- •সিনিয়র মুহাদ্দিসদের লোড: দৈনিক সর্বোচ্চ ৩ থেকে ৪টি ভারী কিতাবের দারস প্রদান (গভীর গবেষণার সুবিধার্থে)।
- •সহকারী ও জুনিয়র শিক্ষকদের লোড: দৈনিক ৪ থেকে ৫টি পিরিয়ড এবং ছাত্রদের মোজাকারা তদারকির দায়িত্ব।
- •ক্লাসের সময়সীমা: প্রতিটি দরসের আদর্শ সময় ৪৫ থেকে ৫০ মিনিট নির্ধারণ করা।
৪. লাইব্রেরি মোতালাআ ও রেফারেন্স গ্রন্থ অধ্যয়নের বাধ্যবাধকতা
কওমি শিক্ষার্থীদের গবেষণামূলক মেধা বিকাশে বিশেষ পদক্ষেপ:
- •শায়খুল হাদিস কর্তৃক কিতাবের রেফারেন্স প্রদান: দরসের সময় প্রাসঙ্গিক প্রাচীন শরাহ ও ফতোয়া গ্রন্থের রেফারেন্স দিয়ে ছাত্রদের কুতুবখানায় গিয়ে খোঁজার নির্দেশ দেওয়া।
- •ছাত্রদের নিজস্ব তাকরির (নোট) তৈরি: দরসে উস্তাদের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শুনে তা সুন্দর হস্তাক্ষরে ডায়েরিতে লিপিবদ্ধ করার অভ্যাস গড়ে তোলা।
- •ত্রৈমাসিক কিতাব প্রতিযোগিতা: কিতাবের নির্দিষ্ট জটিল বহাসের ওপর ছাত্রদের মাঝে গবেষণামূলক প্রবন্ধ লেখার প্রতিযোগিতা আয়োজন।
৫. JamiaSoft একাডেমিক ড্যাশবোর্ডের ভূমিকা
প্রযুক্তির মাধ্যমে কওমি পাঠ্যক্রমের তদারকি:
- •লাইভ সিলেবাস প্রগ্রেস বার: সফটওয়্যারে প্রতিটি কিতাব কত শতাংশ শেষ হলো তা রঙিন প্রগ্রেস বারে দেখা যায়।
- •শিক্ষক ডায়েরি অটো-সিঙ্ক: শিক্ষক ক্লাসে বসেই মোবাইল অ্যাপ থেকে 'আজকের পঠিত পৃষ্ঠা' সেভ করতে পারেন।
- •পরীক্ষার প্রশ্নপত্র জেনারেশন: সিলেবাসের পঠিত অংশ থেকে প্রশ্নপত্র প্রস্তুত করার ডিজিটাল টেমপ্লেট।
৭. দরসে নেজামি সিলেবাসের গভীরতা ও মোতালাআ পদ্ধতির আধুনিক রূপরেখা
কওমি পাঠ্যক্রমের তাত্ত্বিক ও বাস্তবিক মেধার সুষম সমন্বয়:
- •১. মূল মতন মুখস্থকরণ (হেফজুল মতন): কাফিয়া, নূরুল ইযাহ বা উসুলুস শাশীর মৌলিক কাওয়ায়েদ মুখস্থ করার ওপর জোর দেওয়া।
- •২. সমকালীন মাসায়েলের সাথে কিতাবের সংযোগ: কুদুরী ও হিদায়ার প্রাচীন ব্যবসা-বাণিজ্যের অধ্যায়গুলোকে বর্তমান শেয়ারবাজার, ইসলামি ব্যাংকিং ও ই-কমার্সের আলোকে বিশ্লেষণ।
- •৩. আরবি ভাষার ব্যবহারিক কথন ও লিখন: শুধু অনুবাদ না শিখিয়ে আরবি ভাষায় সরাসরি কথা বলা ও প্রবন্ধ লেখার বিশেষ কর্মশালা পরিচালনা।
৮. শিক্ষক মূল্যায়ন ও বার্ষিক একাডেমিক অডিট
নাজেমে তালীমাতের সার্বিক তদারকি কৌশল:
- •সাপ্তাহিক রুটিন পরিদর্শন: শিক্ষকরা যথাসময়ে ক্লাসে উপস্থিত হচ্ছেন কিনা এবং সিলেবাস অনুযায়ী সঠিক গতিতে এগোচ্ছেন কিনা তা নিয়মিত দেখা।
- •ছাত্রদের গোপন ফিডব্যাক গ্রহণ: বছর শেষে শিক্ষকদের পাঠদান পদ্ধতি সম্পর্কে ছাত্রদের কাছ থেকে গঠনমূলক মতামত সংগ্রহ।
- •অগ্রবর্তী জামাতের প্রস্তুতি: বার্ষিক পরীক্ষার পরেই আগামী সেশনের সিলেবাসের কিতাবগুলো আগে থেকেই সংগ্রহ করে রাখা।
৯. কওমি মাদ্রাসার বার্ষিক ছুটির ক্যালেন্ডার ও একাডেমিক শিডিউল
শিক্ষাবর্ষের বিভিন্ন পর্বের সময়সীমা ও কিতাব সমাপ্তির রূপরেখা:
| শিক্ষাবর্ষের পর্ব | সময়কাল (হিজরি/বাংলা) | মূল কার্যক্রম | কিতাব সমাপ্তির টার্গেট |
|---|---|---|---|
| ১ম প্রান্তিক (শাওয়াল–জিলহজ্জ) | ৩ মাস | মৌলিক দরস ও তাত্ত্বিক আলোচনা | প্রথম ২৫% সিলেবাস সমাপ্ত |
| ২য় প্রান্তিক (মুহররম–রবিউস সানি) | ৪ মাস | গভীর মোতালাআ ও ষাণ্মাসিক পরীক্ষা | মোট ৬০% সিলেবাস সমাপ্ত |
| ৩য় প্রান্তিক (জমাদিউস সানি–শাবান) | ৩ মাস | চূড়ান্ত কিতাব খতম ও রিভিশন | ১০০% সিলেবাস সফল সমাপ্ত |
| বার্ষিক পরীক্ষা ও ফলাফল | শাবান ১৫–২৫ | কেন্দ্রীয় পরীক্ষা ও মেধা মূল্যায়ন | ফলাফল প্রকাশ ও সমাপনী |
১০. দরসে নেজামি শিক্ষায় আধুনিক রেফারেন্স সফটওয়্যারের ব্যবহার
কিতাব মোতালাআ ও দরসের প্রস্তুতিতে প্রযুক্তির সমন্বয়:
- •শামেলা ও মাকতাবায়ে শামেলা সফটওয়্যার: হাদিস ও ফতোয়ার মূল কিতাব থেকে রেফারেন্স অনুসন্ধানের জন্য শিক্ষকদের ডিজিটাল লাইব্রেরি ব্যবহার।
- •নাহু-সরফের ইন্টারঅ্যাক্টিভ চার্ট: ক্লাসরুমে জটিল তাহকিক ও তারকিব সহজে বোঝাতে ডিজিটাল প্রজেক্টর বা চার্ট প্রদর্শন।
১১. কওমি মাদ্রাসার শিক্ষক কর্মশালা ও আধুনিক পাঠদান পেডাগোজি
উস্তাদদের পাঠদান দক্ষতা যুগোপযোগী করতে নাজেমে তালীমাতের বিশেষ উদ্যোগ:
- •১. শিক্ষাবর্ষের শুরুতে ৩ দিনের টিচার্স ট্রেনিং: ছাত্রদের মনোবিজ্ঞান, সহনশীল আচরণ ও শ্রেণিকক্ষ নিয়ন্ত্রণের ওপর শীর্ষ ওলামায়ে কেরামের দ্বারা প্রশিক্ষণ।
- •২. বোর্ডে নকশা ও চার্ট এঁকে বোঝানো: নাহু-সরফের জটিল বিষয়গুলো ব্ল্যাকবোর্ডে বা হোয়াইটবোর্ডে ছক কেটে প্রাঞ্জল ভাষায় উপস্থাপন।
- •৩. ছাত্রদের প্রশ্ন করার সুযোগ প্রদান: ক্লাসরুমে কোনো ভীতি না রেখে ছাত্রদের মনের দ্বিধাদ্বন্দ্ব দূর করতে প্রশ্নোত্তর পর্বের জন্য শেষ ১০ মিনিট বরাদ্দ রাখা।
- •৪. নিয়মিত তাকরির মোজাকারা: ছাত্ররা যেন উস্তাদের পড়া নিজের ভাষায় অন্যকে বুঝিয়ে বলতে পারে সে জন্য সাপ্তাহিক গ্রুপ ডিসকাশন।
১২. কওমি তালীমাত বিভাগের জন্য ৫-দফা বার্ষিক একাডেমিক চেকলিস্ট
সফল শিক্ষাবর্ষ পরিচালনায় নাজেমে তালীমাতের সার্বক্ষণিক করণীয়:
- •১. সিলেবাসের ত্রৈমাসিক পর্যালোচনা: প্রতি ৩ মাস পর পর শিক্ষকদের সাথে বসে কিতাবের গতি ও ছাত্রদের বোঝাপড়া মূল্যায়ন।
- •২. মেধাবী ও দুর্বল ছাত্রদের জন্য পৃথক মোজাকারা: পড়াশোনায় পিছিয়ে পড়া ছাত্রদের জন্য সিনিয়র উস্তাদদের বিশেষ তদারকি ক্লাস।
- •৩. নিয়মিত হস্তাক্ষর ও রচনা প্রতিযোগিতা: আরবি ও বাংলায় সুন্দর লেখা ও বিশুদ্ধ বাক্য গঠনের ওপর ছাত্রদের পুরস্কৃত করা।
- •৪. কিতাব সংরক্ষণ ও যত্ন: পাঠ্যবই ছেঁড়া বা নষ্ট না করে সুন্দর বাঁধাই ও যত্নে রাখার প্রশিক্ষণ প্রদান।
- •৫. কেন্দ্রীয় বেফাক পরীক্ষার শতভাগ প্রস্তুতি: বিগত ১০ বছরের প্রশ্নপত্র সমাধানের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি করা।
প্রাতিষ্ঠানিক আমানত ও আধুনিক শৃঙ্খলার ৫টি চিরস্থায়ী মূলনীতি
প্রতিষ্ঠানের সুনাম, বরকত ও দীর্ঘমেয়াদী স্থায়িত্ব বজায় রাখতে উস্তাদ ও পরিচালনা কমিটির দায়িত্ব:
- •১. শতভাগ শরয়ী স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা: হিসাব-নিকাশ ও তালীমাতের প্রতিটি পদক্ষেপে আল্লাহর ভয় ও মুহতামিমের তত্ত্বাবধান বজায় রাখা।
- •২. শিক্ষার্থীদের পিতা-মাতাতুল্য স্নেহ প্রদান: কোনো কঠোরতা বা অসৌজন্যমূলক আচরণ না করে ভালোবাসার সাথে শিক্ষাদান।
- •৩. তথ্যের নিরাপদ ও স্থায়ী ডিজিটাল ব্যাকআপ: খাতা হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি এড়াতে JamiaSoft ক্লাউড সার্ভারে সমস্ত ডাটা সংরক্ষণ।
- •৪. অভিভাবকদের সাথে নিয়মিত নিবিড় যোগাযোগ: শিক্ষার্থীর সবক অগ্রগতি ও মেসের সন্তুষ্টি নিয়ে প্রতি মাসে অন্তত একবার মতবিনিময়।
- •৫. পরিচালনা কমিটির ত্রৈমাসিক রিভিউ অধিবেশন: প্রতিষ্ঠানের আর্থিক বাজেট ও পরীক্ষা ফলাফলের সার্বিক অগ্রগতি পর্যালোচনা।
দ্বীনি আমানত রক্ষা ও প্রাতিষ্ঠানিক উৎকর্ষ সাধনে শিক্ষক ও কমিটির যৌথ শপথ
মাদ্রাসার প্রতিটি পদক্ষেপকে যুগোপযোগী ও বরকতময় করে তুলতে সার্বক্ষণিক অনুসরণীয় দিকনির্দেশনা:
- •১. শিক্ষার্থীদের আত্মিক ও চারিত্রিক তারবিয়াত নিশ্চিতকরণ: শুধু পাঠ্যবই বা মুখস্থ করানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে শিক্ষার্থীদের খাঁটি সুন্নাহভিত্তিক চরিত্র ও বিনয়ী আখলাক গঠনে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া।
- •২. প্রাতিষ্ঠানিক সমস্ত তথ্যের চিরস্থায়ী ক্লাউড সংরক্ষণ: প্রাকৃতিক দুর্যোগ, অগ্নিকাণ্ড বা খাতা হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি এড়াতে সমস্ত একাডেমিক ফলাফল, ফি আদায় ও ছাত্র প্রোফাইল ডিজিটাল ডাটাবেজে সংরক্ষণ করা।
- •৩. শিক্ষক-অভিভাবক আস্থা ও পারস্পরিক সম্মান বৃদ্ধি: শিক্ষার্থীদের মেধা ও দুর্বলতার বিষয়ে নিয়মিত খোলামেলা আলোচনার মাধ্যমে দ্বিমুখী সহযোগিতার সেতুবন্ধন রচনা করা।
সাধারণ জিজ্ঞাসা ও প্রশ্নোত্তর (FAQs)
- •প্রশ্ন ১: কোনো শিক্ষক অসুস্থ হলে পেসিং ক্যালেন্ডার কীভাবে সমন্বয় করা হবে? উত্তর: সফটওয়্যারে 'Proxy Teacher Assignment' ফিচারের মাধ্যমে অন্য সমমানের শিক্ষককে তাৎক্ষণিক বদলি ক্লাস নেওয়ার নোটিফিকেশন পাঠানো যায়।
- •প্রশ্ন ২: পেসিং ক্যালেন্ডার কি রমজানের ছুটির আগে শেষ করতে হবে? উত্তর: শাবান মাসের ১৫ তারিখের পূর্বেই বার্ষিক পরীক্ষার উপযোগী করে পূর্ণাঙ্গ কিতাব সমাপ্ত করার লক্ষ্য নিয়ে ক্যালেন্ডার সাজানো হয়।
- •প্রশ্ন ৩: বেফাক পরীক্ষার জন্য কি বিশেষ রিভিশন সময় রাখা যায়? উত্তর: হ্যাঁ, সিলেবাস শেষ করার পর অন্তত ২০ দিন বেফাকের বিগত বছরের প্রশ্নপত্র সমাধানের জন্য ডেডিকেটেড রিভিশন সময় বরাদ্দ থাকে।
- •প্রশ্ন ৪: পেসিং ক্যালেন্ডার কি ছাত্রদের দেওয়া উচিত? উত্তর: হ্যাঁ, শিক্ষাবর্ষের শুরুতেই প্রতিটি ছাত্রকে তাদের সিলেবাসের বার্ষিক পেসিং শিট দিলে তাদের মাঝে পড়ার পরিকল্পনা তৈরি হয়।
- •প্রশ্ন ৫: সফটওয়্যারে কি কিতাবের আরবি নাম ও লেখকের নাম সংরক্ষণ করা যায়? উত্তর: হ্যাঁ, দরসে নেজামির সমস্ত ক্লাসিক্যাল কিতাবের নাম ও খণ্ড সফটওয়্যারের ক্যাটালগে আগে থেকেই প্রিলোডেড থাকে।
- •প্রশ্ন ৬: কিতাব শেষ না হলে কি শিক্ষকের জবাবদিহিতা থাকে? উত্তর: নাজেমে তালীমাত মাসিক মিটিংয়ে পিছিয়ে থাকা কিতাবের কারণ পর্যালোচনা করে উস্তাদকে প্রয়োজনীয় অতিরিক্ত সহায়তা প্রদান করেন।
JamiaSoft টিম
মাদ্রাসা ডিজিটালাইজেশন বিশেষজ্ঞ
JamiaSoft-এর সম্পাদক ও প্রযুক্তি দল — বাংলাদেশের কওমি, আলিয়া ও হিফজ মাদ্রাসার শরয়ী ফিন্যান্স, হিফজ ট্র্যাকিং ও ডিজিটাল অ্যাডমিশন নিয়ে নিয়মিত গাইড ও গবেষণা প্রকাশ করে।
আর্টিকেলটি ভালো লাগলে অন্যদের সাথে শেয়ার করুন
দ্বীনি প্রতিষ্ঠান ও মাদ্রাসার আর্থিক আমানতদারিতা ও আধুনিকায়নে তথ্যগুলো ছড়িয়ে দিন।
সম্পর্কিত প্রবন্ধ

মাদ্রাসার সেমিস্টার পরীক্ষার হল সিটিং প্ল্যান ও হল পরিদর্শক এসওপি: নকলমুক্ত পরিবেশ ও রোল নম্বর ম্যানেজমেন্ট
কওমি ও আবাসিক মাদ্রাসার সেমিস্টার পরীক্ষার হল সিটিং প্ল্যান, জিকজ্যাক আসন বিন্যাস, পরিদর্শক উস্তাদগণের দায়িত্ব ও নকলমুক্ত পরীক্ষার এসওপি।
পড়ুন →
কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের আরবি প্রবন্ধ ও ইনশা (Insha) লিখন দক্ষতা: আরবি সাহিত্য ও সৃজনশীল রচনা পেডাগজি
কওমি মাদ্রাসায় আরবি ইনশা ও সৃজনশীল প্রবন্ধ রচনা শিক্ষা, আল-ইনশাউত তলকী উল-আরাবিয়্যাহ, শব্দভাণ্ডার বৃদ্ধি ও আন্তর্জাতিক আরবি লেখক তৈরির গাইড।
পড়ুন →
কওমি ও আবাসিক মাদ্রাসার বাৎসরিক একাডেমিক ক্যালেন্ডার ও টার্ম ব্রেকডাউন: ছুটি, পরীক্ষা ও সিলেবাস ট্র্যাকিং গাইড
কওমি ও আবাসিক মাদ্রাসার শিক্ষাবর্ষের একাডেমিক ক্যালেন্ডার প্রণয়ন, ৩টি টার্ম পরীক্ষা, রমজান-কোরবানি ছুটি সমন্বয় ও সিলেবাস ট্র্যাকিং গাইড।
পড়ুন →আপনার মাদ্রাসায় JamiaSoft ব্যবহার করতে চান?
হিফজ ট্র্যাকিং, শরয়ী ফিন্যান্স ও অনলাইন ভর্তির আধুনিক অভিজ্ঞতা পেতে আজই ফ্রি ডেমো বুক করুন।