
কওমি মাদ্রাসার দরসে নিজামী পাঠ্যক্রমের বার্ষিক পেসিং চার্ট: কিতাব সমাপ্তি ও ক্লাসরুম মনিটরিং গাইড
কওমি মাদ্রাসার দারসে নিজামী কারিকুলামের বার্ষিক পেসিং চার্ট, কিতাবভিত্তিক পৃষ্ঠা বিভাজন, পিরিয়ড ট্র্যাকিং, সেমিস্টার পরীক্ষার পূর্বে সিলেবাস সমাপ্তি এসওপি।
কওমি মাদ্রাসার দারসে নিজামী কারিকুলামের বার্ষিক পেসিং চার্ট, কিতাবভিত্তিক পৃষ্ঠা বিভাজন, পিরিয়ড ট্র্যাকিং, সেমিস্টার পরীক্ষার পূর্বে সিলেবাস সমাপ্তি এসওপি।
কওমি মাদ্রাসার শতবর্ষী ঐতিহ্যবাহী 'দরসে নিজামী' কারিকুলাম হলো মুসলিম বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ গভীর ইলমি শিক্ষাব্যবস্থা। কিন্তু আধুনিক যুগে অনেক প্রতিষ্ঠানে একটি সুনির্দিষ্ট বাৎসরিক পেসিং চার্ট (Syllabus Pacing & Lesson Plan) না থাকা, কোন মাসে কিতাবের কত পৃষ্ঠা পর্যন্ত পাঠদান সম্পন্ন হবে তার কোনো লিখিত লক্ষ্যমাত্রা না থাকা এবং শিক্ষকদের ব্যক্তিগত অনুমানের ওপর ক্লাস চলার কারণে প্রায়ই পরীক্ষার পূর্বে সিলেবাস অসম্পূর্ণ থেকে যায়। শেষ মুহূর্তে দ্রুত পৃষ্ঠা উল্টিয়ে কিতাব শেষ করতে গিয়ে শিক্ষার্থীরা গভীর এবারত ও মাসআলার তাহকীক থেকে বঞ্চিত হয়।
কওমি মাদ্রাসার দরসে নিজামী পেসিং ও ক্লাসরুম মনিটরিং পদ্ধতি (Dars-e-Nizami Academic Pacing & Lesson Planning SOP) হলো একটি আধুনিক পেডাগোজিক্যাল ও স্ট্রাকচার্ড কারিকুলাম ট্র্যাকিং মডেল, যার মাধ্যমে প্রতিটি কিতাবের মোট পৃষ্ঠাকে কর্মদিবস অনুযায়ী দৈনিক ও সাপ্তাহিক ভাগে বিভক্ত করা, তালীমাত বোর্ড কর্তৃক লাইভ মনিটরিং এবং শতভাগ সিলেবাস সময়মতো সমাপ্তি নিশ্চিত করা হয়। JamiaSoft তালীমাত ও কারিকুলাম মডিউল ব্যবহারের মাধ্যমে নাজেমে তালীমাত মাত্র ১ ক্লিকে কোন জামাতে কোন কিতাবের কত শতাংশ পড়া শেষ হয়েছে তা দেখতে পারেন। এর ফলে শিক্ষার মান আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পৌঁছায়।
ইলমে ওহীর প্রতিটি কিতাবকে গভীর তাহকীক, ইনসাফ ও পরিকল্পিত মেহনতের সাথে শিক্ষার্থীদের অন্তরে পৌঁছে দেওয়া সকল উস্তাদগণের এক পবিত্র আমানত।
১. পেসিং চার্ট না থাকার কারণে তৈরি হওয়া ৪টি প্রধান একাডেমিক সংকট
পরিকল্পনাহীন ক্লাসরুম পরিচালনার সাধারণ ক্ষতিসমূহ:
- •১. সেমিস্টার পরীক্ষার পূর্বে সিলেবাস অর্ধেক বাকি থাকা: শেষ মুহূর্তে তাড়াহুড়া করে পৃষ্ঠা বাদ দিয়ে পড়ানো।
- •২. জটিল এবারত ও বাহাস বাদ দিয়ে যাওয়া: নাহু, ফিকহ বা মানতিকের কঠিন স্থানগুলো না বুঝিয়ে এড়িয়ে যাওয়া।
- •৩. শিক্ষক অনুপস্থিত থাকলে কিতাবের ক্ষতি: ছুটি কাটালে পরবর্তীতে অতিরিক্ত ক্লাস নিয়ে মেকআপ না করা।
- •৪. কেন্দ্রীয় বেফাক পরীক্ষায় আশানুরূপ ফলাফল না হওয়া: অসম্পূর্ণ সিলেবাসের কারণে মেধাবী ছাত্ররাও পিছিয়ে পড়া।
২. সনাতন গতানুগতিক ক্লাস বনাম JamiaSoft স্মার্ট একাডেমিক পেসিং
সনাতন খাতা পদ্ধতি ও আধুনিক ডিজিটাল কাঠামোর তুলনামূলক সুবিধা:
| বৈশিষ্ট্যের ক্ষেত্র | সনাতন প্রচলিত পাঠদান | JamiaSoft সমন্বিত পেসিং চার্ট সিস্টেম |
|---|---|---|
| বাৎসরিক পাঠ্যসূচির পরিকল্পনা | শিক্ষকের ব্যক্তিগত ইচ্ছার ওপর নির্ভরশীল | কিতাবের মোট পৃষ্ঠাকে ২২০টি ক্লাসরুম কর্মদিবসে নিখুঁত বণ্টন |
| সিলেবাসের দৈনিক অগ্রগতি ট্র্যাকিং | কোনো লিখিত রেকর্ড থাকে না | মোবাইল অ্যাপে শিক্ষক প্রতিদিন কোন পৃষ্ঠা পড়ালেন তা ১ ক্লিকে এন্ট্রি |
| নাজেমে তালীমাতের মনিটরিং | পরীক্ষার আগের দিন খবর নেওয়া | তালীমাতের ড্যাশবোর্ডে লাইভ কালার ট্র্যাকিং (সবুজ = অন-ট্র্যাক, লাল = লেট) |
| শিক্ষক ছুটিতে গেলে মেকআপ ক্লাস | পাঠদান চিরতরে পিছিয়ে থাকা | ছুটির পর অটোমেটিক এক্সট্রা ক্লাসের শিডিউল জেনারেশন |
| শিক্ষার্থীদের এবারত ও তাহকীক দক্ষতা | দ্রুত শেষ করার তাগিদে জ্ঞান অগভীর থাকা | পরিকল্পিত গতি বজায় থাকায় প্রতিটি মাসআলা গবেষণামূলক শেখা |
৩. একটি কওমি কিতাবের আদর্শ বাৎসরিক পেসিং চার্ট কাঠামো (হিদায়া/কাফিয়া উদাহরণ)
বাৎসরিক ২২০ কর্মদিবসের আদর্শ পৃষ্ঠা বিভাজন ছক:
| শিক্ষাবর্ষের পর্যায় ও মাস | কর্মদিবস সংখ্যা | কিতাবের পাঠ্য পৃষ্ঠা ও অধ্যায় | মূল্যায়নের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা |
|---|---|---|---|
| ১ম পর্যায়: শাওয়াল–জিলকদ (সেশন শুরু) | ৪৫ দিন | কিতাবের ১ম থেকে ২৫% অংশ (ভূমিকা ও মূল ভিত্তি) | প্রাথমিক এবারত শুদ্ধিকরণ ও ব্যাকরণ তাহকীক |
| ২য় পর্যায়: জিলহজ–মুহাররম (১ম সেমিস্টার পূর্ব) | ৪০ দিন | ২৬% থেকে ৫০% অংশ পর্যন্ত সমাপ্তি | ১ম সাময়িক পরীক্ষা গ্রহণ ও দুর্বলতা সংশোধন |
| ৩য় পর্যায়: সফর–রবিউল আউয়াল (মধ্যবর্তী সেশন) | ৫০ দিন | ৫১% থেকে ৭৫% অংশ পর্যন্ত নিবিড় পাঠদান | জটিল বাহাস ও দলিলভিত্তিক মোনাজারা অনুশীলন |
| ৪র্থ পর্যায়: রবিউস সানী–জমাদিউল আউয়াল | ৪৫ দিন | ৭৬% থেকে ১০০% পূর্ণাঙ্গ কিতাব সমাপ্তি | ২য় সাময়িক পরীক্ষা ও পূর্ণ কিতাব রিভিশন |
| ৫ম পর্যায়: জমাদিউস সানী–রজব (চূড়ান্ত পর্ব) | ৪০ দিন | সম্পূর্ণ কিতাবের দ্রুত দাওর ও বেফাক মডেল টেস্ট | কেন্দ্রীয় পরীক্ষার জন্য মেধা শানিতকরণ |
৪. শতভাগ সিলেবাস সফলভাবে শেষ করার ৫টি সোনালী এসওপি
নাজেমে তালীমাত ও সম্মানিত শিক্ষকগণের অনুসরণের নির্দেশিকা:
- •১. JamiaSoft কারিকুলাম ড্যাশবোর্ড ব্যবহার: jamiasoft.com/tools/glossary লিংকে গিয়ে পরিভাষা ও কিতাবের তথ্য দেখা।
- •২. প্রতি পিরিয়ডে ২০ মিনিট তাকরীর ও ১০ মিনিট মোজাকারা: শিক্ষকের আলোচনার পর ছাত্রদের থেকে তাৎক্ষণিক পড়া নেওয়া।
- •৩. ক্লাসে প্রবেশের পূর্বে গভীর মোতালাআ নিশ্চিতকরণ: শিক্ষক নিজে পূর্বপ্রস্তুতি নিয়ে ক্লাসরুমে প্রবেশ করা।
- •৪. পিছিয়ে থাকা কিতাবের জন্য শুক্রবার সকালে বিশেষ ক্লাস: কোনো কিতাব পিছিয়ে পড়লে অতিরিক্ত ক্লাস দিয়ে কাভার করা।
- •৫. আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে আমানত রক্ষা: শিক্ষার্থীদের পূর্ণ হক আদায় করে কিতাব সমাপ্তির মোনাজাত।
৫. বিভিন্ন অঞ্চলের মাদ্রাসায় পেসিং চার্টের বাস্তব কেস স্টাডি
বাংলাদেশের সেরা প্রতিষ্ঠানগুলোর অনুপ্রেরণামূলক ফলাফল:
- •ঢাকার একটি মডেল জামিয়া: বাৎসরিক পেসিং চার্ট চালু করায় তাদের সকল জামাতের কিতাব পরীক্ষার ১৫ দিন পূর্বেই শতভাগ শেষ হয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করে।
- •চট্টগ্রামের একটি শীর্ষস্থানীয় কওমি মাদ্রাসা: লাইভ পেসিং ট্র্যাকিংয়ের কারণে বেফাক পরীক্ষায় তাদের জামাতভিত্তিক পাসের হার ১০০% এবং মেধা তালিকায় ২০ জন স্থান লাভ করে।
- •সিলেটের একটি গ্রামীণ বালিকা মাদ্রাসা: সুশৃঙ্খল লেসন প্ল্যানের মাধ্যমে ছাত্রীদের আরবি এবারত পড়ার দক্ষতা অভাবনীয় মাত্রায় বৃদ্ধি করেছে।
৬. তালীমাত ইনচার্জ উস্তাদের জন্য ৫-দফা সাপ্তাহিক চেকলিস্ট
প্রতি সপ্তাহের তদারকিতে দায়িত্বশীল শিক্ষকের করণীয়:
- •১. প্রতি বৃহস্পতিবার সকল শিক্ষকের পেসিং লগ চেক: কোন কিতাব কত পৃষ্ঠা এগোল তা দেখা।
- •২. পিছিয়ে থাকা কিতাবের তালিকা মুহতামিমের টেবিলে পেশ: প্রয়োজনীয় সমাধান নির্ধারণ।
- •৩. ক্লাসরুমে সারপ্রাইজ অডিট ভিজিট: শিক্ষকের পাঠদান ও ছাত্রদের মনোযোগ পর্যবেক্ষণ।
- •৪. শিক্ষার্থীদের খাতা ও নোটবুক নিয়মিত পরীক্ষা: ছাত্ররা ক্লাসের মূল পয়েন্ট লিখছে কিনা তা যাচাই।
- •৫. কিতাবের বরকত ও ইলমের গভীরতার জন্য দোয়া: সকল শিক্ষকের সাথে নিয়ে সম্মিলিত মোনাজাত।
৭. প্রাতিষ্ঠানিক আমানত ও আধুনিক শৃঙ্খলার ৫টি চিরস্থায়ী মূলনীতি
প্রতিষ্ঠানের সুনাম, বরকত ও দীর্ঘমেয়াদী স্থায়িত্ব বজায় রাখতে উস্তাদ ও পরিচালনা কমিটির দায়িত্ব:
- •১. শতভাগ শরয়ী স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা: হিসাব-নিকাশ ও তালীমাতের প্রতিটি পদক্ষেপে আল্লাহর ভয় ও মুহতামিমের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধান বজায় রাখা।
- •২. শিক্ষার্থীদের পিতা-মাতাতুল্য স্নেহ প্রদান: কোনো কঠোরতা বা অসৌজন্যমূলক আচরণ না করে ভালোবাসার সাথে শিক্ষাদান নিশ্চিত করা।
- •৩. তথ্যের নিরাপদ ও স্থায়ী ডিজিটাল ব্যাকআপ: খাতা হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি এড়াতে JamiaSoft ক্লাউড সার্ভারে সমস্ত ডাটা সংরক্ষণ।
- •৪. অভিভাবকদের সাথে নিয়মিত নিবিড় যোগাযোগ: শিক্ষার্থীর সবক অগ্রগতি ও মেসের সন্তুষ্টি নিয়ে প্রতি মাসে অন্তত একবার মতবিনিময়।
- •৫. পরিচালনা কমিটির ত্রৈমাসিক রিভিউ অধিবেশন: প্রতিষ্ঠানের আর্থিক বাজেট ও পরীক্ষা ফলাফলের সার্বিক অগ্রগতি পর্যালোচনা।
৮. ছাত্রদের তাকরার (Revision) ও রাতের মোতালাআ শৃঙ্খলিতকরণ
কেবল ক্লাসের পাঠদানের ওপর নির্ভর করলে ইলম স্থায়ী হয় না; বরং রাতের যৌথ মোতালাআ ও পারস্পরিক তাকরার হলো দারসে নিজামীর প্রাণ।
- •১. জামাতভিত্তিক তাকরার গ্রুপ গঠন: প্রতি গ্রুপে ৪ জন ছাত্র থাকবে এবং একজন মেধাবী ছাত্র লিডার হিসেবে থাকবে।
- •২. মাগরিব থেকে এশা পর্যন্ত বাধ্যতামূলক মোতালাআ: কোনো শোরগোল ছাড়া নিঃশব্দে আগামীকালের সবক অধ্যয়ন।
- •৩. এশার পর ১ ঘণ্টা সহপাঠীদের মুখোমুখি মোজাকারা: আজকের পঠিত এবারত একে অপরকে বুঝিয়ে দেওয়া।
- •৪. দায়িত্বশীল শিক্ষকের নৈশকালীন তদারকি: হোস্টেলে ঘুরে ঘুরে ছাত্রদের তাকরার তদারকি করা।
৯. ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষের একাডেমিক উৎকর্ষ অ্যাকশন প্ল্যান
তালীমাত বোর্ডের রূপরেখা:
- •১. শাওয়াল মাসের শুরুতেই প্রতিটি শিক্ষকের হাতে পেসিং চার্ট হস্তান্তর: শিক্ষাবর্ষের লিখিত রোডম্যাপ বুঝিয়ে দেওয়া।
- •২. আধুনিক প্রমিত আরবি উচ্চারণ ও স্পোকেন অ্যারাবিক চালু: ক্লাসে যতটা সম্ভব আরবি ভাষায় আলোচনা করা।
- •৩. ত্রৈমাসিক কিতাব কুইজ ও বিতর্ক প্রতিযোগিতা: শিক্ষার্থীদের ইলমি উদ্দীপনা বৃদ্ধি করা।
- •৪. সেরা শিক্ষক ও শতভাগ পেসিং সম্পন্নকারী উস্তাদদের বিশেষ সম্মাননা: বার্ষিক মাহফিলে পুরস্কার প্রদান।
- •৫. দারুল উলূম দেওবন্দের মহান ঐতিহ্যের সংরক্ষণ: আকাবিরের তাকওয়া ও রূহানিয়্যাত বুকে ধারণ করে এগিয়ে চলা।
১০. সুশৃঙ্খল পেসিং চার্টের সুদূরপ্রসারী জাতীয় প্রভাব
একটি পরিকল্পিত কারিকুলামের মাধ্যমে যখন শিক্ষার্থীরা গভীর ইলমে পারদর্শী হয়, তখন তারা সমাজে বাতিল মতবাদের বিরুদ্ধে সবচেয়ে শক্তিশালী ঢাল হিসেবে আবির্ভূত হয়।
- •১. গভীর ফিকহ ও ফতোয়া প্রদানের যোগ্যতা অর্জন: সমকালীন জটিল সমস্যার শরয়ী সমাধান দেওয়ার সামর্থ্য।
- •২. নির্ভরযোগ্য মুফাসসির ও মুহাদ্দিস তৈরি: কুরআন ও হাদিসের বিশুদ্ধ ব্যাখ্যায় জাতিকে পথপ্রদর্শন।
- •৩. জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দাওয়াতি বিপ্লব: প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা ও পাণ্ডিত্যের মাধ্যমে ইসলাম প্রচার।
- •৪. মাদ্রাসার সার্বিক ভর্তি বৃদ্ধি ও আকাশচুম্বী সুনাম: অভিভাবকদের গভীর আস্থা অর্জন।
- •৫. পরকালীন মহান কামিয়াবি লাভ: খাঁটি ইলমে দ্বীনের খাদেম হিসেবে আল্লাহর দরবারে সম্মানিত হওয়া।
১১. দ্বীনি আমানত রক্ষা ও মুহতামিমের চূড়ান্ত দিকনির্দেশনা
কিতাব কেবল খতম করাই সফলতা নয়; বরং প্রতিটি পৃষ্ঠার জ্ঞান ও হিকমত ছাত্রদের অন্তরে গ্রথিত করাই মূল সাফল্য। এই আমানত রক্ষায় পেসিং চার্ট অনুসরণ প্রতিটি দায়িত্বশীলের পবিত্র দায়িত্ব।
সাধারণ জিজ্ঞাসা ও প্রশ্নোত্তর (FAQs)
- •প্রশ্ন ১: পেসিং চার্টে কি ছুটির দিনগুলো সমন্বয় করা থাকে? উত্তর: হ্যাঁ, জুমার দিন, রমজান ও ঈদের সমস্ত সরকারি-বেসরকারি ছুটি বাদ দিয়ে নিট ক্লাসরুম দিবসের ওপর পেসিং তৈরি হয়।
- •প্রশ্ন ২: কোনো শিক্ষক অসুস্থ হলে কিতাবের পেসিং কীভাবে ঠিক থাকবে? উত্তর: সহকারী শিক্ষক দিয়ে সাময়িক ক্লাস চালানো অথবা সুস্থ হয়ে অতিরিক্ত পিরিয়ড নিয়ে কাভার করা।
- •প্রশ্ন ৩: সফটওয়্যারে কি সিলেবাসের অগ্রগতির গ্রাফ দেখা যায়? উত্তর: হ্যাঁ, JamiaSoft তালীমাত পোর্টালে প্রতিটি কিতাবের শতকরা কত ভাগ শেষ হলো তা সবুজ প্রগ্রেস বারে দেখা যায়।
- •প্রশ্ন ৪: ছাত্রদের কি পেসিং চার্টের কপি দেওয়া উচিত? উত্তর: হ্যাঁ, ক্লাসরুমের নোটিশ বোর্ডে বা সিলেবাস বুকে পেসিং শিডিউল থাকলে ছাত্ররাও আগে থেকে মোতালাআ করতে পারে।
- •প্রশ্ন ৫: বেফাক মডেল টেস্টের জন্য কতদিন বরাদ্দ রাখা উচিত? উত্তর: কেন্দ্রীয় পরীক্ষার পূর্বে অন্তত ২০ থেকে ৩০ দিন কিতাবের পুনরাবৃত্তি ও মডেল টেস্টের জন্য রাখা আদর্শ।
- •প্রশ্ন ৬: তালীমাত কমিটির মিটিং কতদিন পর পর হওয়া আবশ্যক? উত্তর: প্রতি মাসে অন্তত একবার সকল শিক্ষকের সাথে বসে কিতাবের অগ্রগতি ও পেসিং রিভিউ করা বাধ্যতামূলক।
১২. দারসে নিজামীর গভীরতা ও ভবিষ্যৎ মুজতাহিদ আলেম তৈরি
একটি সুপরিকল্পিত পেসিং চার্টের মাধ্যমে যখন কিতাবের প্রতিটি বাহাস গভীরভাবে পড়ানো হয়, তখন তৈরি হয় বিশ্বমানের গবেষক আলেম।
- •১. সমকালীন আধুনিক মাসআলায় ফতোয়া প্রদানের দক্ষতা: বর্তমান যুগের নতুন নতুন সমস্যার সঠিক শরয়ী সমাধান দেওয়া।
- •২. কুরআন ও হাদীসের নির্ভেজাল ব্যাখ্যায় পারদর্শিতা: বাতিল মতবাদের যুক্তিপূর্ণ খণ্ডন করার সক্ষমতা।
- •৩. আরবি ভাষায় বিশুদ্ধ বক্তব্য ও রচনা শৈলী: আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছে দেওয়া।
- •৪. আকাবিরে দেওবন্দের তাকওয়া ও রূহানিয়্যাত চর্চা: ইলমের সাথে আমলের সুষম সমন্বয়।
- •৫. আল্লাহর দ্বীনকে সমুন্নত রাখার আজীবন অঙ্গীকার: নিজের জীবন ও মেধা ইসলামের খেদমতে উৎসর্গ করা।
JamiaSoft টিম
মাদ্রাসা ডিজিটালাইজেশন বিশেষজ্ঞ
JamiaSoft-এর সম্পাদক ও প্রযুক্তি দল — বাংলাদেশের কওমি, আলিয়া ও হিফজ মাদ্রাসার শরয়ী ফিন্যান্স, হিফজ ট্র্যাকিং ও ডিজিটাল অ্যাডমিশন নিয়ে নিয়মিত গাইড ও গবেষণা প্রকাশ করে।
আর্টিকেলটি ভালো লাগলে অন্যদের সাথে শেয়ার করুন
দ্বীনি প্রতিষ্ঠান ও মাদ্রাসার আর্থিক আমানতদারিতা ও আধুনিকায়নে তথ্যগুলো ছড়িয়ে দিন।
সম্পর্কিত প্রবন্ধ

কওমি মাদ্রাসায় আরবি ক্যালিগ্রাফি ও সুন্দর হস্তাক্ষর প্রশিক্ষণ একাডেমি এসওপি
কওমি মাদ্রাসায় আরবি, উর্দু ও বাংলা হস্তাক্ষর সুন্দরীকরণ, খাত্তাত তৈরি এবং আর্ন্তজাতিক ইসলামিক ক্যালিগ্রাফি একাডেমি প্রতিষ্ঠার প্রাতিষ্ঠানিক কারিকুলাম ও প্রশিক্ষণ এসওপি।

মিশকাতুল মাসাবিহ স্তরে হাদিসের সনদ ও ফিকহি তাদরীস পদ্ধতি এসওপি
কওমি মাদ্রাসায় দাওরায়ে হাদিসের পূর্ববর্তী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্তর মিশকাতুল মাসাবিহ দরসে আসমাউর রিজাল, সনদের শ্রেণিভেদ ও আইম্মায়ে মুজতাহিদগণের ফিকহি ইস্তিম্বাত শিক্ষাদানের আধুনিক নির্দেশিকা।

প্রবাসী ও দূরবর্তী শিক্ষার্থীদের জন্য অনলাইন কুরআন ক্লাস ও দাওয়াত এসওপি: বিশ্বব্যাপী ইলমের আলো
ইউরোপ, আমেরিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের প্রবাসী শিশু এবং দূরবর্তী শিক্ষার্থীদের জন্য আধুনিক অনলাইন নাজেরা ও হিফজ পাঠদানের প্রাতিষ্ঠানিক এসওপি।
আপনার মাদ্রাসায় JamiaSoft ব্যবহার করতে চান?
হিফজ ট্র্যাকিং, শরয়ী ফিন্যান্স ও অনলাইন ভর্তির আধুনিক অভিজ্ঞতা পেতে আজই ফ্রি ডেমো বুক করুন।