
মাদ্রাসার অনলাইন ডোনেশন পেজ তৈরি: বিকাশ, নগদ ও রকেট পেমেন্ট গেটওয়ে সেটআপ গাইড
কওমি ও আবাসিক মাদ্রাসার জন্য অনলাইন অনুদান পেজ তৈরি, বিকাশ-নগদ-রকেট মার্চেন্ট গেটওয়ে যুক্ত করা এবং দেশি-প্রবাসী দাতাদের শরয়ী রসিদ প্রেরণের নির্দেশিকা।
কওমি ও আবাসিক মাদ্রাসার জন্য অনলাইন অনুদান পেজ তৈরি, বিকাশ-নগদ-রকেট মার্চেন্ট গেটওয়ে যুক্ত করা এবং দেশি-প্রবাসী দাতাদের শরয়ী রসিদ প্রেরণের নির্দেশিকা।
দ্বীনি মাদ্রাসা ও এতিমখানাগুলোর সার্বিক পরিচালনা বহুলাংশেই দেশি-বিদেশি ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের স্বতঃস্ফূর্ত দান, সাদাকাহ এবং যাকাতের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু বর্তমান ডিজিটাল যুগে কেবলমাত্র নগদ টাকা বা ব্যক্তিগত বিকাশ নম্বরে অনুদান নেওয়ার সনাতন পদ্ধতি মাদ্রাসার অর্থ সংগ্রহের সুযোগকে সংকুচিত করে দিচ্ছে।
মাদ্রাসার অনলাইন ডোনেশন পেজ হলো একটি নিরাপদ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, যার মাধ্যমে যেকোনো শুভাকাঙ্ক্ষী বা প্রবাসী দাতা বিশ্বের যেকোনো প্রান্ত থেকে মাত্র এক ক্লিকে বিকাশ, নগদ, রকেট, ব্যাংক কার্ড বা আন্তর্জাতিক রেমিট্যান্স চ্যানেলে মাদ্রাসার নির্দিষ্ট ফান্ডে (যেমন: যাকাত, লিল্লাহ বোর্ডিং, মসজিদ নির্মাণ বা সাধারণ তহবিল) অর্থ প্রেরণ করতে পারেন। টাকা জমা হওয়ার সাথে সাথে দাতার মোবাইলে স্বয়ংক্রিয় শরয়ী রসিদ চলে যায় এবং প্রতিষ্ঠানের হিসাব বহিতে তাৎক্ষণিক এন্ট্রি সম্পন্ন হয়।
ব্যক্তিগত নম্বরে টাকা নিলে যেমন লিমিটের জটিলতা দেখা দেয়, তেমনি কোন টাকা যাকাত আর কোনটি সাধারণ দান তা আলাদা করতে গিয়ে মুহতামিম সাহেবদের মারাত্মক হিসাবের গরমিল ও জবাবদিহিতার মুখে পড়তে হয়। তাই প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং অনুদানের প্রবাহ বহুগুণ বাড়ানোর জন্য একটি আধুনিক ডোনেশন সিস্টেম গড়ে তোলা সময়ের অপরিহার্য দাবি।
সনাতন পদ্ধতিতে অনুদান সংগ্রহের প্রধান প্রাতিষ্ঠানিক সীমাবদ্ধতা
কাগজের রসিদ বই ও ব্যক্তিগত মোবাইল ব্যাংকিং নম্বরের মাধ্যমে দান সংগ্রহের ক্ষেত্রে যেসব বাস্তব সমস্যার সৃষ্টি হয়:
- •১. ব্যক্তিগত নম্বরের লিমিট ও অ্যাকাউন্ট ব্লকের ঝুঁকি: ব্যক্তিগত বিকাশ বা নগদ অ্যাকাউন্টে মাসে সর্বোচ্চ লেনদেনের একটি নির্দিষ্ট সরকারি সীমা থাকে। রমজান বা কুরবানির মৌসুমে যখন শুভাকাঙ্ক্ষীরা বেশি দান পাঠাতে শুরু করেন, তখন ব্যক্তিগত নম্বরগুলো লিমিট অতিক্রম করায় সাময়িকভাবে লক হয়ে যায়।
- •২. ফান্ড বিভাজনে মারাত্মক ভুল ও শরয়ী খেয়ানত: একজন দাতা হয়তো যাকাত বাবদ ৫,০০০ টাকা পাঠিয়েছেন, কিন্তু এসএমএসে বা বিবরণে কিছু না লেখায় ক্যাশিয়ার সেই টাকা সাধারণ ফান্ডে ঢুকিয়ে শিক্ষকদের বেতন দিয়ে ফেললেন। ইসলামি শরিয়তের স্পষ্ট বিধান অনুযায়ী যাকাতের টাকা কোনো অবস্থাতেই সাধারণ পরিচালনা ব্যয়ে খরচ করা যায় না।
- •৩. প্রবাসী দাতাদের অর্থ প্রেরণে চরম জটিলতা: মধ্যপ্রাচ্য (সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার), ইউরোপ ও আমেরিকার বহু দ্বীনি ভাই কওমি মাদ্রাসার এতিম ছাত্রদের জন্য নিয়মিত মাসিক সাহায্য পাঠাতে চান। কিন্তু আন্তর্জাতিক পেমেন্ট গেটওয়ে বা সহজ পেমেন্ট লিঙ্ক না থাকায় তারা ইচ্ছাসত্ত্বেও অনুদান পাঠাতে পারেন না।
- •৪. ভেরিফিকেশন ও ট্রানজেকশন মেলানোর দীর্ঘসূত্রিতা: প্রতিদিন শত শত ক্ষুদ্র অনুদান ব্যক্তিগত নম্বরে আসলে কে কত টাকা কোন খাত বাবদ পাঠিয়েছেন তা মিলিয়ে দেখতে হিসাব রক্ষকের ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় নষ্ট হয় এবং অডিট রিপোর্টে গরমিল তৈরি হয়।
একটি আধুনিক ও শরীয়াহসম্মত অনলাইন ডোনেশন পেজের আবশ্যিক বৈশিষ্ট্য
একটি বিশ্বাসযোগ্য, মর্যাদাশীল ও শরীয়াহসম্মত অনলাইন ডোনেশন পেজে যেসব সুবিধা থাকা একান্ত আবশ্যক:
- •১. সুনির্দিষ্ট শরয়ী ফান্ড ড্রপডাউন: পেজে প্রবেশের সাথে সাথেই দাতাকে স্পষ্ট ক্যাটাগরি বাছাইয়ের সুযোগ দেওয়া হবে—টাকাটি কি যাকাত ফান্ড, লিল্লাহ বোর্ডিং খাদ্য তহবিল, হিফজুল কুরআন স্পনসরশিপ, এতিম ছাত্রের পোশাক ও চিকিৎসা, মসজিদ উন্নয়ন নাকি মাদ্রাসার সাধারণ তহবিলে ব্যয় হবে।
- •২. মাল্টিপল লোকাল ও গ্লোবাল পেমেন্ট চ্যানেল: বিকাশ মার্চেন্ট, নগদ মার্চেন্ট, রকেট, উপায়, ভিসা/মাস্টারকার্ড এবং প্রবাসী রেমিট্যান্সের সমন্বিত পেমেন্ট গেটওয়ে সংযুক্ত থাকা, যাতে যেকোনো মাধ্যম থেকে ১ ক্লিকেই টাকা জমা দেওয়া যায়।
- •৩. তাৎক্ষণিক ডিজিটাল মানি রিসিট (PDF Donation Receipt): অনুদান সফল হওয়ার সাথে সাথে মাদ্রাসার অফিশিয়াল প্যাড, সিল ও মুহতামিমের ডিজিটাল স্বাক্ষরযুক্ত একটি আকর্ষণীয় পিডিএফ রসিদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে জেনারেট হয়ে দাতার হোয়াটসঅ্যাপ ও ইমেইলে চলে যাবে।
- •৪. বেনামী দানের পূর্ণ স্বাধীনতা (Anonymous Donation): বহু পরহেযগার মুসলমান নিজের পরিচয় প্রকাশ না করে কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ইখলাসের সাথে দান করতে ভালোবাসেন। তাদের জন্য 'নাম ও পরিচয় গোপন রাখুন' অপশন থাকা অত্যন্ত জরুরি।
- •৫. সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা: কোনো মধ্যস্বত্বভোগী বা ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে টাকা না গিয়ে সরাসরি মাদ্রাসার প্রাতিষ্ঠানিক ব্যাংক অ্যাকাউন্টে তহবিল জমা হওয়ার ব্যবস্থা।
বিকাশ, নগদ ও রকেট প্রাতিষ্ঠানিক গেটওয়ে সেটআপের ৫টি বাস্তবসম্মত ধাপ
মাদ্রাসার নামে একটি পূর্ণাঙ্গ মার্চেন্ট পেমেন্ট গেটওয়ে ও অনলাইন ডোনেশন পেজ চালু করার প্রাতিষ্ঠানিক ধাপসমূহ:
- •ধাপ ১: মাদ্রাসার প্রাতিষ্ঠানিক বৈধ কাগজপত্র প্রস্তুত: মাদ্রাসার গভর্নিং বডি বা মুহতামিম সাহেবের জাতীয় পরিচয়পত্র, মাদ্রাসার প্যাড, অফিশিয়াল সিল, কার্যনির্বাহী কমিটির রেজুলেশন কপি, মাদ্রাসার নামে পরিচালিত ব্যাংক অ্যাকাউন্টের চেকবইয়ের পাতা এবং ট্রেড লাইসেন্স বা সমাজসেবা সনদ (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) প্রস্তুত করা।
- •ধাপ ২: নির্ভরযোগ্য পেমেন্ট গেটওয়ে অ্যাগ্রিগেটর নির্বাচন: বিকাশ ও নগদের সাথে পৃথকভাবে দীর্ঘ প্রক্রিয়ায় না গিয়ে এসএসএলকমার্জ, সূর্যপে বা আমারপে-এর মতো বাংলাদেশ ব্যাংক অনুমোদিত পেমেন্ট গেটওয়ে অ্যাগ্রিগেটরের সাথে প্রাতিষ্ঠানিক চুক্তি করা।
- •ধাপ ৩: শরয়ী ফান্ডভিত্তিক এপিআই ও ভার্চুয়াল লেজার ইন্টিগ্রেশন: প্রতিটি অনুদানের খাত অনুযায়ী পৃথক ভার্চুয়াল অ্যাকাউন্ট বা লেজার কোড নির্ধারণ করা, যাতে গেটওয়ে থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে যাকাতের টাকা যাকাত অ্যাকাউন্টে এবং সাধারণ দান সাধারণ অ্যাকাউন্টে জমা হয়।
- •ধাপ ৪: মাদ্রাসার নিজস্ব ডোমেইনে ডোনেশন পেজ সংযুক্তকরণ: jamiasoft.com এর মতো ক্লাউড মাদ্রাসা ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের মাধ্যমে কোনো প্রোগ্রামিং কোড লেখা ছাড়াই মাদ্রাসার নিজস্ব সাব-ডোমেইনে (যেমন: donation.yourmadrasa.com) আকর্ষণীয় পেজটি সক্রিয় করা।
- •ধাপ ৫: নিরাপত্তা ও অডিট ট্রেইল পরীক্ষা: পরীক্ষামূলকভাবে ক্ষুদ্র অনুদান পাঠিয়ে এসএমএস রসিদ, ডাটাবেজ এন্ট্রি এবং দিনশেষে ব্যাংক রিকনসিলিয়েশন সফলভাবে কাজ করছে কিনা তা নিশ্চিত করা।
দাতা সম্পর্ক উন্নয়ন ও বার্ষিক অনুদান দ্বিগুণ করার কার্যকর কৌশল
অনলাইন ডোনেশন পেজ লাইভ করার পর দেশি-প্রবাসী শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছ থেকে নিয়মিত ও নিরবচ্ছিন্ন অনুদান পাওয়ার কিছু প্রমাণিত কৌশল:
- •১. এতিম ও হাফেজ স্পনসরশিপ প্রোগ্রাম: একজন প্রবাসীকে নির্দিষ্ট একজন এতিম তালিবুল ইলমের মাসিক খোরাকি ও কিতাব কেনার দায়িত্ব (যেমন: প্রতি মাসে ৩,০০০ টাকা) বহনের আহ্বান জানানো এবং প্রতি তিন মাস অন্তর ছাত্রের সবক-সবকী অগ্রগতির ভিডিও ও ফলাফল কার্ড পাঠানো।
- •২. রমজান ও জিলহজ্জ স্পেশাল যাকাত ক্যাম্পেইন: পবিত্র রমজান মাসের শুরুতেই সোশ্যাল মিডিয়া ও হোয়াটসঅ্যাপে যাকাত ক্যালকুলেটরের লিঙ্ক এবং মাদ্রাসার লিল্লাহ বোর্ডিংয়ের সার্বিক খাদ্য ব্যয়ের চিত্র তুলে ধরা।
- •৩. জুমার দিনের কিউআর কোড দান ব্যবস্থা: মাদ্রাসার সাথে সংযুক্ত মসজিদের প্রধান ফটকে এবং নোটিশ বোর্ডে একটি সুদৃশ্য কিউআর কোড (QR Code) পোস্টার আকারে টানিয়ে রাখা, যা স্মার্টফোন দিয়ে স্ক্যান করে মুসল্লিরা মাত্র ১০ সেকেন্ডে বিকাশ বা নগদে দান করতে পারেন।
- •৪. বার্ষিক বরকত ও আর্থিক অডিট রিপোর্ট প্রেরণ: বছর শেষে সকল সম্মানিত দাতাদের মোবাইলে মাদ্রাসার বার্ষিক অডিট রিপোর্ট, ফারেগীন ছাত্রদের তালিকা এবং তাদের প্রেরিত অর্থের মাধ্যমে মাদ্রাসার কী কী অবকাঠামোগত উন্নয়ন সাধিত হয়েছে তার সচিত্র বিবরণ পাঠানো।
JamiaSoft অনলাইন ডোনেশন ও অটো-লেজার পোস্টিংয়ের সুবিধা
JamiaSoft সফটওয়্যারে মাদ্রাসার আর্থিক হিসাব ব্যবস্থার সাথে অনলাইন ডোনেশন সম্পূর্ণ অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত:
- •৫ মিনিটে ওয়ান-ক্লিক ডোনেশন ল্যান্ডিং পেজ: কোনো প্রকার কারিগরি জটিলতা ছাড়াই মাদ্রাসার ছবি, সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ও ব্যাংক তথ্যের সমন্বয়ে একটি নান্দনিক ডোনেশন পোর্টাল চালু করা যায়।
- •জিরো-ম্যানুয়াল ক্যাশবুক এন্ট্রি: যেকোনো অনুদান আসার সাথে সাথে জামিয়া সফটওয়্যারের ডিজিটাল ক্যাশবুকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে জমা ভাউচার তৈরি হয়ে যায় এবং সংশ্লিষ্ট ফান্ডের ব্যালেন্স আপডেট হয়।
- •শরয়ী ফান্ড প্রটেকশন লক: যাকাতের টাকা ভুলবশত সাধারণ ফান্ডে বা শিক্ষকদের বেতনের খাতে ট্রান্সফার করার চেষ্টা করলে সফটওয়্যার স্বয়ংক্রিয়ভাবে সতর্কবার্তা দিয়ে লেনদেন আটকে দেয়।
- •স্বয়ংক্রিয় শুকরিয়া ও দোয়াপূর্ণ নোটিফিকেশন: অনুদান গ্রহণের সাথে সাথে দাতার ফোনে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাহসম্মত দোয়াসহ তাৎক্ষণিক এসএমএস পৌঁছে যায়: "আল্লাহ তাআলা আপনার এই দানকে কবুল করুন এবং আপনার সম্পদে বরকত দান করুন। আমীন।"
কওমি ও আবাসিক মাদ্রাসার অনলাইন অনুদান ব্যবস্থাপনা চেকলিস্ট
প্রতিটি মাদ্রাসার মুহতামিম ও হিসাব বিভাগের জন্য একটি ব্যবহারিক বাস্তবায়ন চেকলিস্ট:
- •১. প্রাতিষ্ঠানিক ব্যাংক অ্যাকাউন্ট সচল রাখা: মাদ্রাসার নামে পরিচালিত মূল চলতি হিসাবের অনলাইন ট্রানজেকশন সুবিধা চালু রাখা।
- •২. ফান্ডভিত্তিক আলাদা ব্যাংক হিসাব তৈরি: যাকাত/লিল্লাহ বোর্ডিংয়ের জন্য একটি পৃথক ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এবং সাধারণ তহবিলের জন্য আরেকটি পৃথক ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নির্ধারণ করা।
- •৩. নিয়মিত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার: মাদ্রাসার অফিশিয়াল ফেসবুক পেজ ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে নিয়মিত নির্ভরযোগ্য ডোনেশন পেজের লিঙ্ক শেয়ার করা।
- •৪. মাসিক ব্যাংক রিকনসিলিয়েশন যাচাই: পেমেন্ট গেটওয়ের স্টেটমেন্ট এবং মূল ব্যাংক একাউন্টের স্টেটমেন্ট সফটওয়্যার লেজারের সাথে মাস শেষে মিলিয়ে নেওয়া।
- •৫. গোপনীয়তা ও আমানতদারিতা রক্ষা: দাতাদের মোবাইল নম্বর ও আর্থিক তথ্যের শতভাগ গোপনীয়তা নিশ্চিত করা।
প্রাতিষ্ঠানিক আমানত ও আধুনিক শৃঙ্খলার ৫টি চিরস্থায়ী মূলনীতি
প্রতিষ্ঠানের সুনাম, বরকত ও দীর্ঘমেয়াদী স্থায়িত্ব বজায় রাখতে উস্তাদ ও পরিচালনা কমিটির দায়িত্ব:
- •১. শতভাগ শরয়ী স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা: হিসাব-নিকাশ ও তালীমাতের প্রতিটি পদক্ষেপে আল্লাহর ভয় ও মুহতামিমের তত্ত্বাবধান বজায় রাখা।
- •২. শিক্ষার্থীদের পিতা-মাতাতুল্য স্নেহ প্রদান: কোনো কঠোরতা বা অসৌজন্যমূলক আচরণ না করে ভালোবাসার সাথে শিক্ষাদান।
- •৩. তথ্যের নিরাপদ ও স্থায়ী ডিজিটাল ব্যাকআপ: খাতা হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি এড়াতে JamiaSoft ক্লাউড সার্ভারে সমস্ত ডাটা সংরক্ষণ।
- •৪. অভিভাবকদের সাথে নিয়মিত নিবিড় যোগাযোগ: শিক্ষার্থীর সবক অগ্রগতি ও মেসের সন্তুষ্টি নিয়ে প্রতি মাসে অন্তত একবার মতবিনিময়।
- •৫. পরিচালনা কমিটির ত্রৈমাসিক রিভিউ অধিবেশন: প্রতিষ্ঠানের আর্থিক বাজেট ও পরীক্ষা ফলাফলের সার্বিক অগ্রগতি পর্যালোচনা।
সাধারণ জিজ্ঞাসা ও প্রশ্নোত্তর (FAQs)
- •প্রশ্ন ১: কওমি মাদ্রাসার জন্য কি বিকাশ মার্চেন্ট অ্যাকাউন্ট পাওয়া সম্ভব? উত্তর: হ্যাঁ, মাদ্রাসার কার্যকরী কমিটির রেজুলেশন কপি, মুহতামিম সাহেবের এনআইডি এবং মাদ্রাসার নামে পরিচালিত ব্যাংক একাউন্টের স্টেটমেন্ট প্রদান করলেই বিকাশ ও নগদ খুব দ্রুত প্রাতিষ্ঠানিক মার্চেন্ট অ্যাকাউন্ট অনুমোদন করে।
- •প্রশ্ন ২: অনলাইন অনুদানে কি কোনো অতিরিক্ত চার্জ বা ফি কর্তন করা হয়? উত্তর: পেমেন্ট গেটওয়েগুলো সাধারণত ১% থেকে ১.৫% গেটওয়ে মেইনটেন্যান্স ফি কাটে, যা অনুদানের বিশাল পরিমাণের তুলনায় অত্যন্ত সামান্য। তবে অনেক গেটওয়ে ধর্মীয় ও এতিমখানা প্রতিষ্ঠানের জন্য বিশেষ হ্রাসকৃত রেট প্রদান করে।
- •প্রশ্ন ৩: প্রবাসী দাতারা কি বিদেশি যেকোনো আন্তর্জাতিক কার্ড দিয়ে টাকা পাঠাতে পারবেন? উত্তর: হ্যাঁ, গেটওয়েতে আন্তর্জাতিক পেমেন্ট সক্রিয় থাকলে মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ বা আমেরিকা থেকে যেকোনো ভিসা বা মাস্টারকার্ড ব্যবহার করে স্থানীয় মুদ্রায় সরাসরি অনুদান দেওয়া যায়, যা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাংলাদেশি টাকায় রূপান্তরিত হয়ে মাদ্রাসার অ্যাকাউন্টে জমা হয়।
- •প্রশ্ন ৪: ডোনেশন পেজের মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থের অডিট রিপোর্ট কীভাবে পাওয়া যায়? উত্তর: JamiaSoft-এ সংগৃহীত প্রতিটি অনুদানের তারিখ, সময়, ট্রানজেকশন আইডি, দাতার নাম এবং ফান্ডের বিবরণসহ এক ক্লিকেই সুনির্দিষ্ট অডিট এক্সেল শিট ও ব্যালেন্স শিট ডাউনলোড করা যায়।
- •প্রশ্ন ৫: সনাতন নগদ দান এবং অনলাইন দান কি একসাথে মেলানো সম্ভব? উত্তর: অবশ্যই। জামিয়া সফটওয়্যারে নগদ ক্যাশ কালেকশন এবং অনলাইন ডিজিটাল কালেকশন দিনশেষে একটি কেন্দ্রীয় রোজনামচা খাতায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে সমন্বিত হয়ে দিনের সমাপনী নগদ জের নির্ভুলভাবে প্রদর্শন করে।
মাওলানা তানভীর আহমেদ
শরয়ী অডিট ও ফিন্যান্স কনসালট্যান্ট
বাংলাদেশের প্রখ্যাত শরয়ী ফিন্যান্স বিশেষজ্ঞ। কওমি ও আলিয়া মাদ্রাসার যাকাত, লিল্লাহ ও সাধারণ ফান্ডের পৃথক ব্যবস্থাপনা ও অডিটে এক দশকের অভিজ্ঞতা রেখেছেন। JamiaSoft-এর শরয়ী কমপ্লায়েন্স আর্কিটেকচারের প্রধান পরামর্শদাতা।
আরও বিষয়ভিত্তিক গাইড:
আর্টিকেলটি ভালো লাগলে অন্যদের সাথে শেয়ার করুন
দ্বীনি প্রতিষ্ঠান ও মাদ্রাসার আর্থিক আমানতদারিতা ও আধুনিকায়নে তথ্যগুলো ছড়িয়ে দিন।
সম্পর্কিত প্রবন্ধ

মাদ্রাসায় ক্যাশলেস ক্যাম্পাস: নগদ টাকা ছাড়াই বেতন, মেস ফি ও অনুদান আদায়ের রোডম্যাপ
কওমি ও আবাসিক মাদ্রাসায় নগদ টাকা ছাড়াই ছাত্রের বেতন, মেস ফি, অনুদান ও শিক্ষক বেতন পরিচালনার ক্যাশলেস ক্যাম্পাস বাস্তবায়ন রোডম্যাপ।

মাদ্রাসার মাসিক ফি বিল ও রসিদ অটোমেশন: ১ ক্লিকে শত ছাত্রের বিল তৈরি ও ডিজিটাল ভাউচার গাইড
মাদ্রাসার শত শত ছাত্রের মাসিক বেতন বিল, রসিদ ও ভাউচার ম্যানুয়ালি কাটার ঝামেলা শেষ—১ ক্লিকে অটো বিল ও ডিজিটাল রসিদ তৈরির পূর্ণ গাইড।

মাদ্রাসায় স্বয়ংক্রিয় বেতন ও ফি আদায়: বিকাশ-নগদ পেমেন্ট থেকে অটো SMS রিমাইন্ডার পর্যন্ত সম্পূর্ণ গাইড
মাদ্রাসার বেতন ও ফি স্বয়ংক্রিয়ভাবে আদায়, বিকাশ-নগদ পেমেন্ট গেটওয়ে, অটো SMS রিমাইন্ডার ও শরয়ী ফান্ড বিভাজনসহ A-Z গাইড।
আপনার মাদ্রাসায় JamiaSoft ব্যবহার করতে চান?
হিফজ ট্র্যাকিং, শরয়ী ফিন্যান্স ও অনলাইন ভর্তির আধুনিক অভিজ্ঞতা পেতে আজই ফ্রি ডেমো বুক করুন।