
কওমি মাদ্রাসার শিক্ষক-কর্মচারী বেতন শিট ও প্রভিডেন্ট ফান্ড নীতিমালা
কওমি মাদ্রাসার শিক্ষক ও কর্মচারীদের মাসিক বেতন শিট তৈরি, হাজিরাভিত্তিক কর্তন, উৎসব ভাতা এবং শরয়ী প্রভিডেন্ট ফান্ড পরিচালনার পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা ও হিসাবরক্ষণ জানুন।

কওমি মাদ্রাসার শিক্ষক ও কর্মচারীদের মাসিক বেতন শিট তৈরি, হাজিরাভিত্তিক কর্তন, উৎসব ভাতা এবং শরয়ী প্রভিডেন্ট ফান্ড পরিচালনার পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা ও হিসাবরক্ষণ জানুন।
দ্বীনি মাদ্রাসার মেরুদণ্ড হলেন নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষকবৃন্দ ও খাদেমগণ। তাদের নিয়মিত মাসিক হাদিয়া ও বেতন পরিশোধে স্বচ্ছতা, ন্যায়পরায়ণতা এবং ভবিষ্যৎ আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা মুহতামিম ও পরিচালনা কমিটির অন্যতম প্রধান শরয়ী দায়িত্ব।
কওমি মাদ্রাসার শিক্ষক-কর্মচারী বেতন শিট ও প্রভিডেন্ট ফান্ড নীতিমালা বলতে বোঝায় এমন একটি বিধিবদ্ধ হিসাবরক্ষণ ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের উস্তাদ ও স্টাফদের মূল বেতন, বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ও দায়িত্ব ভাতা সমন্বয়ে মাসিক পরিশোধযোগ্য অর্থ নির্ধারণ করা হয় এবং অনুমোদিত হাজিরা ও ছুটির ভিত্তিতে বেতন প্রস্তুত করা হয়। ইসলামি শরিয়তের এজারা (ভাড়াচুক্তি) নীতিমালা অনুযায়ী শিক্ষক ও কর্মচারীদের পারিশ্রমিক সুনির্দিষ্ট সময়ে কোনো জটিলতা ছাড়া হস্তান্তর করা ওয়াজিব। এই প্রক্রিয়ায় শিক্ষকের মূল বেতন থেকে প্রতি মাসে নির্দিষ্ট হারে (যেমন ৫% বা ১০%) অর্থ কর্তন করে প্রতিষ্ঠানের সমপরিমাণ বা নির্ধারিত অনুদান যোগ করে একটি পৃথক শরয়ী প্রভিডেন্ট ফান্ড বা কল্যাণ তহবিল গঠন করা হয়। এই ফান্ডটি সাধারণ তহবিল বা যাকাত তহবিলের সাথে মিশ্রিত না করে সম্পূর্ণ আলাদা শরিয়াহসম্মত ব্যাংক একাউন্টে সংরক্ষণ করা হয়। অবসর গ্রহণ, চাকরি পরিবর্তন বা বিশেষ জরুরি প্রয়োজনে জমাকৃত মূল অর্থ ও শরিয়াহসম্মত মুনাফা শিক্ষককে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। এর ফলে মাদ্রাসার শিক্ষকগণ ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তা থেকে মুক্তি পান এবং পূর্ণ একাগ্রতায় দ্বীনি শিক্ষাদানে আত্মনিয়োগ করতে পারেন।
১. মাদ্রাসায় শিক্ষক ও কর্মচারীদের বেতন কাঠামোর শরয়ী গুরুত্ব
ইসলামি শরিয়তে শ্রমিকের ঘাম শুকানোর পূর্বেই তার পাওনা পরিশোধের তাগিদ দেওয়া হয়েছে; মাদ্রাসার সম্মানিত শিক্ষকবৃন্দের হাদিয়া নির্ধারণ ও নিয়মিত প্রদান আমানতদারিতার মূল স্তম্ভ।
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন: "শ্রমিকের শরীরের ঘাম শুকানোর আগেই তোমরা তার পারিশ্রমিক পরিশোধ করে দাও।" (সুনানে ইবনে মাজাহ: ২৪৪৩)। দ্বীনি প্রতিষ্ঠানগুলোতে সম্মানিত শিক্ষকগণ নিছক পার্থিব কোনো চাকরি করেন না, বরং দ্বীনের জন্য বড় ত্যাগ স্বীকার করেন। কিন্তু তাদের পরিবার পরিচালনা ও মৌলিক মানবিক চাহিদা পূরণে মাদ্রাসার পক্ষ থেকে সম্মানজনক হাদিয়া ও নিয়মিত মাসিক বেতন প্রাপ্তি তাদের বৈধ ও শরয়ী অধিকার।
মাদ্রাসার বেতন ব্যবস্থায় প্রধানত তিনটি বিষয় নিশ্চিত করা আবশ্যক:
- •সুনির্দিষ্ট চুক্তি ও নিয়োগপত্র: চাকুরিতে যোগদানের শুরুতেই শিক্ষকের মূল বেতন, ভাতা, বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট ও ছুটির শর্তাবলী লিখিত নিয়োগপত্রে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকা।
- •জেনারেল ফান্ড থেকে বেতন প্রদান: শিক্ষকদের বেতন অবশ্যই মাদ্রাসার সাধারণ ফান্ড (জেনারেল ক্যাশ), মাসিক ছাত্র ফি বা ভাড়া আয়ের তহবিল থেকে দিতে হবে। কোনো অবস্থাতেই যাকাত বা ফিতরার অর্থ দিয়ে শিক্ষক বা কর্মচারীদের সাধারণ বেতন পরিশোধ করা শরিয়তসম্মত নয়।
- •মাসিক পে-স্লিপ ও স্বাক্ষর রেজিস্টার: নগদ বা ব্যাংকে বেতন হস্তান্তরের পর প্রাপ্তিস্বীকার রসিদ ও স্যালারি শিটে শিক্ষকের স্বাক্ষর ও মুহতামিমের অনুমোদন সংরক্ষণ করা।
২. একটি আদর্শ কওমি মাদ্রাসা বেতন শিটের (Salary Sheet) উপাদানসমূহ
একটি স্বচ্ছ ও আধুনিক স্যালারি শিটে প্রতিটি শিক্ষকের মূল বেতন, অর্জিত ভাতা, অনুমোদিত কর্তন এবং প্রকৃত প্রদেয় অর্থের পূর্ণাঙ্গ গাণিতিক বিবরণ থাকে।
হাতে লেখা কাগজের রসিদে অনেক সময় হিসাবের গরমিল হয়। একটি পূর্ণাঙ্গ ও পেশাদার স্যালারি শিটে নিচের কলামগুলো থাকা জরুরি:
- •১. মূল হাদিয়া / বেতন (Basic Salary): শিক্ষকের শিক্ষাগত যোগ্যতা, পাঠদানের জামাত (যেমন দাওরায়ে হাদিস, মিশকাত, হেদায়া বা হিফজ বিভাগ) এবং অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে নির্ধারিত মূল বেতন।
- •২. বাড়িভাড়া ও আবাসিক ভাতা (House Rent): যেসব উস্তাদ মাদ্রাসার অভ্যন্তরীণ কোয়ার্টারে থাকেন না, তাদের জন্য যাতায়াত বা আবাসন বাবদ প্রদত্ত বিশেষ ভাতা।
- •৩. বিশেষ দায়িত্ব ভাতা (Allowance): নাজেমে তালীমাত (শিক্ষা সচিব), নাজেমে দারুল ইকামা (হোস্টেল সুপার), ক্যাশিয়ার বা মেস পরিচালকের অতিরিক্ত দায়িত্বের জন্য বিশেষ সম্মানী।
- •৪. উৎসব ভাতা (Eid Bonus): ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহায় কমিটির অনুমোদিত বোনাস বা অর্ধেক মাসের হাদিয়া।
- •৫. প্রভিডেন্ট ফান্ড কর্তন (PF Deduction): শিক্ষকের সম্মতি সাপেক্ষে ভবিষ্যতের জন্য মূল বেতন থেকে কেটে রাখা নির্দিষ্ট অংশ।
- •৬. মেস ও বকেয়া কর্তন (Mess / Advance Recovery): শিক্ষকের ব্যক্তিগত কোনো অগ্রিম ঋণ বা মেস মিল বাবদ কর্তনযোগ্য অর্থ।
- •৭. মোট প্রদেয় অর্থ (Net Payable): সমস্ত আয় যোগ করে যাবতীয় কর্তন বিয়োগ করার পর শিক্ষকের হাতে বা ব্যাংক একাউন্টে পাঠানো চূড়ান্ত অর্থ।
৩. হাজিরা ও ছুটির ভিত্তিতে বেতন সমন্বয় ও কর্তন নীতিমালা
শরিয়তের আলোকে অনুমোদিত ছুটি ব্যতীত দীর্ঘ অননুমোদিত অনুপস্থিতির ক্ষেত্রে পারিশ্রমিক কর্তন করা যায়, তবে তা হতে হবে স্বচ্ছ ও কমিটি-অনুমোদিত নিয়মে।
কওমি ও আবাসিক মাদ্রাসার শিক্ষক ও উস্তাদগণ সার্বক্ষণিক প্রতিষ্ঠানের কল্যাণে নিয়োজিত থাকেন। ছুটির ব্যবস্থাপনায় সুস্পষ্ট নীতিমালা থাকলে প্রশাসনিক ভুল বোঝাবুঝি এড়ানো যায়:
- •নৈমিত্তিক ছুটি (Casual Leave): বার্ষিক ১২ থেকে ১৫ দিনের সাধারণ বা জরুরি পারিবারিক প্রয়োজনে বেতনসহ ছুটি মঞ্জুর করা।
- •অসুস্থতাজনিত ছুটি (Medical Leave): অসুস্থতার কারণে উপযুক্ত চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র সাপেক্ষে বেতনসহ বা অর্ধ-বেতনে ছুটি প্রদানের ব্যবস্থা।
- •হজ্জ ও ওমরাহ ছুটি (Hajj Leave): দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ উস্তাদদের হজ্জের জন্য কমিটির বিশেষ বিবেচনায় বিশেষ ছুটি প্রদানের বিধান।
- •অননুমোদিত অনুপস্থিতি কর্তন: কোনো পূর্বানুমতি ছাড়া ক্লাসে অনুপস্থিত থাকলে শিক্ষকের দৈনিক হাদিয়ার হার (মাসিক বেতন ÷ ৩০ দিন) অনুযায়ী আনুপাতিক অর্থ সমন্বয় করা হয়।
মাদ্রাসার ক্যাশ ভাউচার ও দৈনিক হিসাব লেখার নিয়মাবলী জেনে নিলে দৈনন্দিন আয়-ব্যয়ের সাথে এই কর্তন সহজে মেলানো যায়।
৪. মাদ্রাসায় শরয়ী প্রভিডেন্ট ফান্ড (PF) ও কল্যাণ তহবিল গঠনের নিয়ম
শিক্ষক প্রভিডেন্ট ফান্ড হলো শিক্ষক ও কর্মচারীদের ভবিষ্যৎ আর্থিক নিরাপত্তার জন্য শরিয়াহসম্মত অংশীদারিত্বমূলক সঞ্চয় তহবিল।
কওমি মাদ্রাসার শিক্ষকগণ অবসর গ্রহণের পর অনেক সময় চরম আর্থিক সংকটে পড়েন। একটি দূরদর্শী মাদ্রাসা কমিটি শুরু থেকেই শরিয়তসম্মত প্রভিডেন্ট ফান্ড পরিচালনা করতে পারে:
- •১. শিক্ষক ও মাদ্রাসার যৌথ অবদান (Matching Contribution): প্রতি মাসে শিক্ষকের মূল বেতন থেকে ৫% বা ১০% অর্থ কাটা হয় এবং মাদ্রাসা নিজস্ব তহবিল থেকে সমপরিমাণ অর্থ সেই শিক্ষকের নামে জমা করে।
- •২. স্বতন্ত্র ব্যাংক একাউন্ট: প্রভিডেন্ট ফান্ডের অর্থ কখনো মাদ্রাসার সাধারণ ক্যাশে রাখা যাবে না। এটি কোনো শরিয়াহভিত্তিক ইসলামিক ব্যাংকের মুদারাবা বা সঞ্চয়ী একাউন্টে শিক্ষকের আমানত হিসেবে রক্ষিত থাকবে।
- •৩. জরুরি ঋণ গ্রহণের সুবিধা (Qard Hasan): শিক্ষকের চিকিৎসা বা পারিবারিক চরম প্রয়োজনে তার নিজস্ব জমার ৫০% থেকে ৮০% পর্যন্ত বিনা সুদে করজে হাসানা হিসেবে উত্তোলনের সুযোগ রাখা।
- •৪. চূড়ান্ত নিষ্পত্তি ও গ্র্যাচুইটি: শিক্ষক দায়িত্ব থেকে অবসর গ্রহণ করলে বা সম্মানজনক বিদায় নিলে মাদ্রাসার সম্পূর্ণ অবদান এবং অর্জিত শরিয়াহসম্মত মুনাফাসহ এককালীন হস্তান্তর করা।
মাদ্রাসার যাকাত ও সাধারণ ফান্ড আলাদা রাখার আধুনিক পদ্ধতি অনুযায়ী প্রভিডেন্ট ফান্ডের অর্থ কখনোই যাকাত ফান্ডের সাথে একত্রিত করা নিষিদ্ধ।
৫. স্যালারি শিট ও প্রভিডেন্ট ফান্ড হিসাবের বাস্তব গাণিতিক উদাহরণ
নিচে ১০০ জন ছাত্র ও ১০ জন শিক্ষকের একটি মাঝারি আবাসিক মাদ্রাসার একজন সিনিয়র উস্তাদের মাসিক বেতন ও প্রভিডেন্ট ফান্ডের গাণিতিক উদাহরণ তুলে ধরা হলো:
ধরা যাক, একজন সিনিয়র উস্তাদের মূল বেতন ১৫,০০০ টাকা, শিক্ষা সচিব ভাতা ২,০০০ টাকা এবং বাড়িভাড়া ভাতা ৩,০০০ টাকা। প্রভিডেন্ট ফান্ড কর্তনের হার মূল বেতনের ৮% এবং মাদ্রাসার ম্যাচিং অনুদান ৮%।
| হিসাবের খাত | হিসাবের বিবরণ | টাকার পরিমাণ (BDT) |
|---|---|---|
| মূল হাদিয়া (Basic Salary) | অনুমোদিত বেসিক | ৳১৫,০০০ |
| বিশেষ দায়িত্ব ভাতা (তালীমাত) | প্রশাসনিক দায়িত্ব | ৳২,০০০ |
| বাড়িভাড়া ও যাতায়াত ভাতা | মাসিক বরাদ্দ | ৳৩,০০০ |
| মোট উপার্জিত হাদিয়া (Gross) | সব ভাতা সহ | ৳২০,০০০ |
| প্রভিডেন্ট ফান্ড কর্তন (৮%) | ১৫,০০০ টাকার ৮% | (-) ৳১,২০০ |
| অগ্রিম বেতন সমন্বয় | পূর্বের বকেয়া | (-) ৳১,০০০ |
| প্রকৃত প্রদেয় হাদিয়া (Net Salary) | ব্যাংক বা ক্যাশে প্রদেয় | ৳১৭,৮০০ |
| মাদ্রাসার নিজস্ব পিএফ অনুদান | মাদ্রাসার তহবিল থেকে ৮% | (+) ৳১,২০০ |
| পিএফ একাউন্টে মোট মাসিক জমা | শিক্ষক + মাদ্রাসা অংশ | ৳২,৪০০ |
এই নিয়মে প্রতি বছর একজন শিক্ষকের পিএফ একাউন্টে মুনাফা ব্যতীত ২৮,৮০০ টাকা সঞ্চিত হয়, যা ১০ বছর পর প্রায় ৩ লক্ষাধিক টাকার একটি বড় আর্থিক সুরক্ষা তৈরি করে।
৬. JamiaSoft-এ স্বয়ংক্রিয় পেরোল ও স্টাফ ম্যানেজমেন্ট
কাগজে-কলমে জটিল হিসাবের পরিবর্তে JamiaSoft-এর স্মার্ট পেরোল মডিউল এক ক্লিকেই পুরো মাসের স্যালারি শিট ও পে-স্লিপ তৈরি করে দেয়।
JamiaSoft সফটওয়্যারে শিক্ষকদের উপস্থিতি, ছুটি এবং বেতন ব্যবস্থাপনা যেভাবে স্বয়ংক্রিয় হয়:
- •বায়োমেট্রিক ও কিউআর হাজিরা ইন্টিগ্রেশন: শিক্ষক ও স্টাফদের আগমন-প্রস্থানের রিয়েল-টাইম ডাটা থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মাসের কার্যদিবস ও অনুপস্থিতি হিসাব করা হয়।
- •এক ক্লিকে স্যালারি শিট জেনারেশন: মূল বেতন, ভাতা ও কর্তনের শতকরা হার পূর্বে সেট করা থাকলে মাস শেষে এক ক্লিকেই প্রতিটি বিভাগের জন্য প্রিন্ট-রেডি স্যালারি শিট প্রস্তুত হয়।
- •ব্যক্তিগত ডিজিটাল পে-স্লিপ: প্রতিটি শিক্ষকের নিজস্ব পোর্টালে বা মোবাইল এসএমএসে তার মাসিক আয়, কর্তন ও প্রভিডেন্ট ফান্ডের ব্যালেন্স নোটিফিকেশন পৌঁছে যায়।
- •শরয়ী ফান্ড লক: সিস্টেম নিশ্চিত করে যে বেতনের সম্পূর্ণ অর্থ কেবল অনুমোদিত জেনারেল ফান্ড থেকেই ডেবিট হচ্ছে, যাতে যাকাত ফান্ডের কোনো অর্থ ভুলবশত মিশ্রিত না হয়।
মাদ্রাসার সময়-সাশ্রয় ROI ক্যালকুলেটর ব্যবহার করে দেখতে পারেন কীভাবে ম্যানুয়াল খাতার বদলে অটোমেশন ব্যবহারে প্রতি মাসে শত শত কর্মঘণ্টা সাশ্রয় হয়।
৭. মাদ্রাসা শিক্ষক বেতন ও প্রভিডেন্ট ফান্ড সম্পর্কিত সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)
- •প্রশ্ন ১: যাকাত বা ফিতরার টাকা দিয়ে কি মাদ্রাসার শিক্ষক ও কর্মচারীদের বেতন দেওয়া জায়েয? উত্তর: না, শরিয়তের সর্বসম্মত ফতোয়া অনুযায়ী যাকাত ও ফিতরা কেবল দরিদ্র ও শরয়ী হকদারদের মালিকানায় প্রদান করতে হয়। শিক্ষক বা কর্মচারীদের চাকুরির বেতন কোনো অবস্থাতেই যাকাত ফান্ড থেকে দেওয়া জায়েয নয়; এটি সাধারণ ফান্ড (যেমন ছাত্র ফি, শুভাকাঙ্ক্ষীদের সাধারণ দান বা ভাড়া আয়) থেকে দিতে হবে।
- •প্রশ্ন ২: মাদ্রাসার প্রভিডেন্ট ফান্ডে সুদযুক্ত ব্যাংকিং মুনাফা নেওয়া যাবে কি? উত্তর: প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকা কোনো প্রচলিত সুদভিত্তিক ব্যাংকে ফিক্সড ডিপোজিট রাখা সম্পূর্ণ হারাম। এটি অবশ্যই ইসলামি শরিয়াহ মোতাবেক পরিচালিত ব্যাংকের মুদারাবা বা ইসলামিক বন্ড/সুকুক স্কিমে বিনিয়োগ করে হালাল মুনাফা বণ্টন করতে হবে।
- •প্রশ্ন ৩: কোনো শিক্ষক স্বেচ্ছায় চাকুরি ছেড়ে দিলে মাদ্রাসার দেওয়া অনুদান কি তিনি পাবেন? উত্তর: এটি প্রতিষ্ঠানের পূর্বে নির্ধারিত পরিচালনা নীতিমালার ওপর নির্ভর করে। শরিয়তসম্মত চুক্তি অনুযায়ী যদি নির্দিষ্ট মেয়াদ (যেমন ন্যূনতম ৩ বা ৫ বছর) সন্তোষজনকভাবে সমাপ্তির পর মাদ্রাসার অংশ পাওয়ার শর্ত থাকে, তবে তিনি তা পাবেন।
- •প্রশ্ন ৪: স্যালারি শিটে শিক্ষকদের স্বাক্ষর নেওয়া কেন আইনি ও শরয়ীভাবে জরুরি? উত্তর: এটি পরিশোধের অকাট্য দালিলিক প্রমাণ। ভবিষ্যতে কোনো ভুল বোঝাবুঝি, অডিট আপত্তি বা ওয়ারিশদের দাবির ক্ষেত্রে স্বাক্ষরিত স্যালারি শিট মুহতামিম ও কমিটিকে আইনি ও ধর্মীয় দায়মুক্তি দেয়।
- •প্রশ্ন ৫: JamiaSoft-এ কি স্টাফদের উৎসব ভাতা ও অগ্রিম বেতন ট্র্যাক করা যায়? উত্তর: হ্যাঁ, JamiaSoft-এর পেরোল মডিউলে ঈদ বোনাস, অগ্রিম কর্তন এবং শিক্ষক প্রভিডেন্ট ফান্ডের আলাদা সাব-লেজার স্বয়ংক্রিয়ভাবে মেইনটেইন করা যায়।
মাওলানা তানভীর আহমেদ
শরয়ী অডিট ও ফিন্যান্স কনসালট্যান্ট
বাংলাদেশের প্রখ্যাত শরয়ী ফিন্যান্স বিশেষজ্ঞ। কওমি ও আলিয়া মাদ্রাসার যাকাত, লিল্লাহ ও সাধারণ ফান্ডের পৃথক ব্যবস্থাপনা ও অডিটে এক দশকের অভিজ্ঞতা রেখেছেন। JamiaSoft-এর শরয়ী কমপ্লায়েন্স আর্কিটেকচারের প্রধান পরামর্শদাতা।
আর্টিকেলটি ভালো লাগলে অন্যদের সাথে শেয়ার করুন
দ্বীনি প্রতিষ্ঠান ও মাদ্রাসার আর্থিক আমানতদারিতা ও আধুনিকায়নে তথ্যগুলো ছড়িয়ে দিন।
সম্পর্কিত প্রবন্ধ

মাদ্রাসার ওয়াকফ সম্পত্তি ও জমিজমার খাজনা-খারিজ (Mutation): দলিল সংরক্ষণ, নামজারি ও ভূমি দখল প্রতিরোধ এসওপি
কওমি ও আবাসিক মাদ্রাসার ওয়াকফ সম্পত্তি, জমিজমার নামজারি (Mutation), খাজনা পরিশোধ, মূল দলিল সংরক্ষণ ও অবৈধ দখল প্রতিরোধ এসওপি।
পড়ুন →
পবিত্র ঈদুল আজহায় মাদ্রাসার কুরবানির চামড়া কালেকশন ও লবণজাতকরণ: লবণ স্টক, চামড়া সংরক্ষণ ও সঠিক মূল্য আদায় এসওপি
ঈদুল আজহায় মাদ্রাসার কুরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহ, লবণজাতকরণ (Salting SOP), আড়তদার সিন্ডিকেট প্রতিরোধ ও এতিমখানা ফান্ডের সর্বোচ্চ মুনাফা আদায় গাইড।
পড়ুন →
মসজিদ ও বাজারের মাদ্রাসা দানবাক্স (Donation Box) পরিচালনা: সিলগালা তালা, যৌথ গণনা ও ডিজিটাল কালেকশন এসওপি
মসজিদ, দোকান ও বাজারের মাদ্রাসা দানবাক্স (Donation Box) স্থাপন, সিলগালা তালা, ২ জন দায়িত্বশীলের যৌথ গণনা, ডিজিটাল রসিদ ও চুরিমুক্ত এসওপি।
পড়ুন →আপনার মাদ্রাসায় JamiaSoft ব্যবহার করতে চান?
হিফজ ট্র্যাকিং, শরয়ী ফিন্যান্স ও অনলাইন ভর্তির আধুনিক অভিজ্ঞতা পেতে আজই ফ্রি ডেমো বুক করুন।