
কওমি মাদ্রাসার বার্ষিক অডিট প্রস্তুতি ও শরয়ী হিসাব নিরীক্ষা গাইডলাইন
কওমি ও আলিয়া মাদ্রাসার বার্ষিক হিসাব অডিট, মজলিসে শূরার নিকট স্বচ্ছ আর্থিক প্রতিবেদন উপস্থাপন, যাকাত ফান্ডের শরয়ী অডিট এবং হিসাবের ত্রুটি নিরসনের পূর্ণাঙ্গ নির্দেশিকা।

কওমি ও আলিয়া মাদ্রাসার বার্ষিক হিসাব অডিট, মজলিসে শূরার নিকট স্বচ্ছ আর্থিক প্রতিবেদন উপস্থাপন, যাকাত ফান্ডের শরয়ী অডিট এবং হিসাবের ত্রুটি নিরসনের পূর্ণাঙ্গ নির্দেশিকা।
দ্বীনি মাদ্রাসাগুলোর অর্থনৈতিক ভিত্তি টিকে থাকে সাধারণ মুসলিমদের স্বতঃস্ফূর্ত দান, সাদাকাহ ও যাকাতের অর্থের ওপর। প্রতি বছর শিক্ষাবর্ষ শেষে মজলিসে শূরা বা পরিচালনা কমিটির নিকট প্রতিষ্ঠানের আয়-ব্যয়ের পুঙ্খানুপুঙ্খ হিসাব পেশ করা মুহতামিম ও হিসাবরক্ষকের জন্য একটি প্রধান দায়িত্ব। কিন্তু অনেক প্রতিষ্ঠানে সুশৃঙ্খল ভাউচার সংরক্ষণ না থাকা, যাকাত ও সাধারণ ফান্ডের সংমিশ্রণ এবং অডিট ট্রেইলের অভাবে নানা ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়।
কওমি মাদ্রাসার বার্ষিক অডিট ও শরয়ী হিসাব নিরীক্ষা (Madrasa Annual Audit & Shariah Verification) বলতে বোঝায় একটি প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট শিক্ষাবর্ষের সমস্ত জমা-খরচের ক্যাশ ভাউচার, ব্যাংক স্টেটমেন্ট, মেস খাতা এবং যাকাত তামলিকের রেকর্ড পেশাদার অডিটর ও আলেমদের সমন্বয়ে গঠিত নিরীক্ষা কমিটির মাধ্যমে পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাই করা হয়। JamiaSoft ক্লাউড সফটওয়্যার ব্যবহারের মাধ্যমে সারা বছরের প্রতিটি আর্থিক লেনদেন ১ ক্লিকে সমন্বিত ট্রায়াল ব্যালান্স, ইনকাম-এক্সপেন্সেস স্টেটমেন্ট এবং ব্যালান্স শিট আকারে প্রস্তুত হয়। এর ফলে অডিটে শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত হয়, খেয়ানতের অপবাদ থেকে মুক্ত থাকা যায় এবং দাতাদের আস্থা বহু গুণ বৃদ্ধি পায়।
হিসাবের স্বচ্ছতা কেবল প্রশাসনিক সুবিধাই দেয় না, বরং এটি পরকালীন জবাবদিহিতা ও আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি অর্জনের এক মহান মাধ্যম।
১. মাদ্রাসার বার্ষিক অডিটের প্রধান ৫টি মৌলিক স্তম্ভ
একটি পূর্ণাঙ্গ ও গ্রহণযোগ্য প্রাতিষ্ঠানিক অডিটে যেসব দিক খতিয়ে দেখা হয়:
- •১. মূল ক্যাশবুক ও ভাউচার মিলকরণ: দৈনিক ক্যাশবুকের প্রতিটি ডেবিট ও ক্রেডিট এন্ট্রির সাথে অনুমোদিত ভাউচার ও সাপোর্টিং ক্যাশ মেমোর মিল থাকা।
- •২. ব্যাংক স্টেটমেন্ট ও রিকনসিলিয়েশন: ব্যাংকের অনলাইন স্টেটমেন্টের প্রতিটি ডেবিট/ক্রেডিট ট্রানজেকশন মাদ্রাসার ডিজিটাল ক্যাশবুকে চেক করা ও অমিল থাকলে তা সমন্বয় করা।
- •৩. যাকাত ও লিল্লাহ ফান্ডের শরয়ী তামলিক যাচাই: যাকাত বা সাদাকাতুল ফিতরের অর্থ যাতে শুধুমাত্র ছাত্রদের সরাসরি খাদ্য, চিকিৎসা ও পোশাকে ব্যয় হয়েছে তা নিশ্চিত করা।
- •৪. মেসের মিল রেট ও দৈনিক বাজার অডিট: মোট বাজার খরচের সাথে মিল সংখ্যার সামঞ্জস্য এবং কোনো খাদ্যদ্রব্যের অপচয় হয়েছে কিনা তা নিরীক্ষা করা।
- •৫. স্থায়ী সম্পদ ও ওয়াকফ সম্পত্তি রেজিস্ট্রি: মাদ্রাসার জমি, ভবন, কম্পিউটার, ফ্যান, জেনারেটর ইত্যাদি স্থায়ী সম্পদের তালিকা যাচাই করা।
২. সনাতন খাতা অডিট বনাম ডিজিটাল জামিয়া সফটওয়্যার অডিট
সনাতন খাতার অডিট বনাম আধুনিক ক্লাউড সফটওয়্যারের তুলনামূলক পার্থক্য:
| নিরীক্ষার ক্ষেত্র | সনাতন কাগজের খাতা পদ্ধতি | JamiaSoft ডিজিটাল অডিট সিস্টেম |
|---|---|---|
| অডিট সম্পন্ন করার সময় | ২ থেকে ৩ সপ্তাহব্যাপী জটিল মেহনত | ১ ক্লিকে রিয়েল-টাইম অডিট রিপোর্ট প্রস্তুত |
| হিসাব গরমিল শনাক্তকরণ | কাটাকাটি ও ফ্লুইড ব্যবহারের সুযোগ | অপরিবর্তনীয় অডিট লগ ও এডিট হিস্ট্রি |
| ব্যাংক ব্যালান্স ম্যাচিং | মাসের পর মাস চেকের গরমিল খোঁজা | অটোমেটিক ব্যাংক রিকনসিলিয়েশন স্টেটমেন্ট |
| যাকাত ফান্ডের নিরাপত্তা | সাধারণ ফান্ডের সাথে মিশে যাওয়ার ঝুঁকি | সম্পূর্ণ পৃথক ডিজিটাল লেজার ও তামলিক গার্ড |
| শূরার জন্য গ্রাফিকাল রিপোর্ট | হস্তলিখিত জটিল খতিয়ান | রঙিন চার্ট ও পিডিএফ প্রজেক্টেড সামারি |
৩. যাকাত ও সাধারণ ফান্ডের পৃথকীকরণ ও শরয়ী অডিট
যাকাত তহবিলের অডিটে শরীয়াহ বোর্ডের বিশেষ নির্দেশিকা:
- •অ-যোগ্য খাতে ব্যয়ের কঠোর নিষেধাজ্ঞা: কোনো অবস্থাতেই যাকাতের টাকা দিয়ে মাদ্রাসার ভবন সংস্কার, সাধারণ স্টাফদের বেতন বা প্রচারণামূলক ব্যয়ের ভাউচার পাস না করা।
- •তামলিক ভাউচার এন্ট্রি: লিল্লাহ বোর্ডিংয়ের ছাত্রদের খাবার বা পোশাক ক্রয়ের ক্ষেত্রে 'লিল্লাহ তামলিক' ক্যাটাগরি সিলেক্ট করে আলাদা ভাউচার অডিট করা।
- •উদ্বৃত্ত অর্থের হিসাব: শিক্ষাবর্ষ শেষে যাকাত ফান্ডে কত টাকা উদ্বৃত্ত রয়েছে তা আলাদাভাবে প্রদর্শন করা যাতে আগামী সেশনে তা সঠিকভাবে ব্যয় হয়।
৪. অডিট কমিটির জন্য ৭-দফা স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (SOP)
মজলিসে শূরা কর্তৃক মনোনীত নিরীক্ষা দলের জন্য ব্যবহারিক কাজের তালিকা:
- •ধাপ ১: ওপেনিং ব্যালান্স যাচাই: বিগত শিক্ষাবর্ষের ক্লোজিং ব্যালান্স চলতি বছরের ওপেনিং ব্যালান্স হিসেবে সঠিকভাবে এসেছে কিনা দেখা।
- •ধাপ ২: রসিদ বই ও কাউন্টার ফয়েল নিরীক্ষা: ছাত্রদের বেতন রসিদ ও দান সংগ্রহের প্রতিটি বইয়ের ক্রমিক নম্বর মিলানো।
- •ধাপ ৩: ব্যাংকের প্রত্যয়নপত্র সংগ্রহ: সংশ্লিষ্ট ব্যাংক শাখা থেকে শিক্ষাবর্ষের শেষ দিনের ব্যালান্স সার্টিফিকেট সংগ্রহ।
- •ধাপ ৪: মেস বাজারের ভাউচার স্যাম্পলিং: পাইকারি বাজারের মেমোর দর যাচাই করে বাজারের বাস্তবতার সাথে সামঞ্জস্য দেখা।
- •ধাপ ৫: শিক্ষকদের বেতন শিট ও স্বাক্ষর: প্রতিটি শিক্ষকের বেতন প্রাপ্তির স্বাক্ষর বা ব্যাংক ট্রান্সফারের প্রমাণপত্র যাচাই।
- •ধাপ ৬: বকেয়া ফি ও অনাদায়ি তালিকা: কোন কোন ছাত্রের কত টাকা বেতন বকেয়া রয়েছে তার একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রস্তুত।
- •ধাপ ৭: অডিট সার্টিফিকেট প্রদান: সমস্ত হিসাব ত্রুটিমুক্ত পেলে অডিটর ও মুহতামিম সাহেবের যৌথ সিল ও স্বাক্ষরযুক্ত অডিট সার্টিফিকেট ইস্যু করা।
৫. জেলা ও বিভাগ ভিত্তিক মাদ্রাসার অডিট কেস স্টাডি
বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মাদ্রাসায় ডিজিটাল অডিটের বাস্তব প্রভাব:
- •ঢাকার ১৫০ ছাত্রের কওমি মাদ্রাসা: পূর্বে প্রতি বছর অডিটের সময় ক্যাশিয়ারের সাথে মুহতামিমের প্রায় ২০,০০০ টাকার হিসাবের গরমিল তৈরি হতো। JamiaSoft সফটওয়্যার চালুর পর সমস্ত লেনদেন ডিজিটাল হওয়ায় শূন্য গরমিল নিয়ে ১ দিনে অডিট সম্পন্ন হয়।
- •চট্টগ্রামের ৩০০ ছাত্রের আবাসিক জামিয়া: মেস ফান্ডের মিল রেট অডিট করে দেখা যায়, আগের বছর প্রায় দেড় লাখ টাকার বাজার মেমো মিসিং ছিল। ডিজিটাল সিস্টেমে মেমোর ছবি আপলোড বাধ্যতামূলক করায় অপচয় পুরোপুরি বন্ধ হয়।
- •সিলেটের ঐতিহাসিক মাদ্রাসা: লন্ডন ও আমেরিকার প্রবাসী ট্রাস্টিরা সরাসরি সফটওয়্যারের অডিট পোর্টাল থেকে বার্ষিক আয়-ব্যয় স্টেটমেন্ট দেখে সন্তুষ্ট হয়ে তাদের বার্ষিক অনুদান ৪০% বৃদ্ধি করেন।
৬. অডিট পরবর্তী হিসাব ক্লোজিং ও নতুন শিক্ষাবর্ষের বাজেট প্রণয়ন
অডিট শেষ হওয়ার পর পরিচালনা কমিটির করণীয়:
- •উদ্বৃত্ত ও ঘাটতি পর্যালোচনা: বিগত বছরের আয়ের সাথে ব্যয়ের তুলনা করে কোন খাতে বেশি খরচ হয়েছে তা চিহ্নিত করা।
- •নতুন শিক্ষাবর্ষের বাজেট প্রণয়ন: আগামী সেশনের সম্ভাব্য ছাত্রসংখ্যা ও মুদ্রাস্ফীতি বিবেচনা করে প্রতিটি খাতের জন্য যৌক্তিক বাজেট বরাদ্দ নির্ধারণ।
- •শূরার সুপারিশ বাস্তবায়ন: অডিট কমিটি যেসকল পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা দিয়েছে তা আগামী সেশনে অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করা।
৭. অডিট আপত্তি ও আর্থিক গরমিল নিরসনে ৭-দফা অ্যাকশন প্ল্যান
অডিটের পর যেকোনো অসংগতি দ্রুত সমাধানের প্রাতিষ্ঠানিক নির্দেশিকা:
- •১. ভাউচার সমন্বয় সময়সীমা: কোনো ভাউচারের মেমো অসম্পূর্ণ থাকলে ৭ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট বিক্রেতা থেকে ডুপ্লিকেট ক্যাশ মেমো সংগ্রহ করা।
- •২. ফান্ড মিসম্যাচ সংশোধন: অসাবধানতাবশত সাধারণ ফান্ডের টাকা যাকাত ফান্ডে বা বিপরীতভাবে খরচ হয়ে থাকলে জার্নাল ভাউচারের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক সমন্বয়।
- •৩. ক্যাশিয়ার ও হিসাবরক্ষকের জবাবদিহিতা: হিসাবের কোনো ঘাটতি দেখা দিলে পরিচালনা কমিটির সামনে লিখিত ব্যাখ্যা দাখিল।
- •৪. ত্রৈমাসিক অভ্যন্তরীণ অডিট চালু: বছর শেষের জন্য অপেক্ষা না করে প্রতি ৩ মাস পর পর অভ্যন্তরীণ মিনি-অডিট পরিচালনা।
- •৫. স্থায়ী সম্পদ কোডিং ও লেবেলিং: মাদ্রাসার প্রতিটি আসবাবপত্র ও ইলেকট্রনিক সামগ্রীতে ইউনিক এসেট ট্যাগ লাগানো।
- •৬. ব্যাংকিং চ্যানেলে শতভাগ লেনদেন: ৫,০০০ টাকার উপরের যেকোনো লেনদেন চেকের মাধ্যমে বা অনলাইন ব্যাংকিংয়ে করার বাধ্যবাধকতা।
- •৭. ডিজিটাল ক্লাউড ব্যাকআপ নিরাপত্তা: হিসাবের সমস্ত ডাটা প্রতিদিন অটোমেটিক ক্লাউডে এনক্রিপ্টেড ব্যাকআপ হিসেবে সংরক্ষণ করা।
৮. মজলিসে শূরার জন্য বার্ষিক আর্থিক অডিট রিপোর্ট উপস্থাপনের প্রটোকল
কমিটির বৈঠকে মুহতামিম ও হিসাবরক্ষকের জন্য পূর্ণাঙ্গ উপস্থাপনা কৌশল:
- •১. রঙিন প্রজেকশন ও সামারি বুকলেট: শূরার সদস্যদের জন্য চাররঙা প্রজেক্টেড সামারি বুকলেট প্রস্তুত করা যাতে এক নজরে আয়-ব্যয়ের খাতসমূহ পরিষ্কার দেখা যায়।
- •২. প্রশ্নোত্তরের প্রস্তুতি: কোন খাতে বাজেট অতিরিক্ত খরচ হয়েছে তার যৌক্তিক কারণ ও সাপোর্টিং ভাউচার সাথে রাখা।
- •৩. আগামী শিক্ষাবর্ষের অনুমোদন: বিগত বছরের অডিট রিপোর্ট অনুমোদনের পর সাথে সাথে নতুন সেশনের বার্ষিক বাজেট পেশ করে আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর গ্রহণ করা।
- •৪. জনসাধারণের জন্য সংক্ষিপ্ত প্রকাশনা: মাদ্রাসার বার্ষিক মাহফিলে সাধারণ মুসল্লিদের মাঝে সংক্ষিপ্ত আয়-ব্যয় বিবরণী বিলি করে স্বচ্ছতা তুলে ধরা।
প্রাতিষ্ঠানিক আমানত ও আধুনিক শৃঙ্খলার ৫টি চিরস্থায়ী মূলনীতি
প্রতিষ্ঠানের সুনাম, বরকত ও দীর্ঘমেয়াদী স্থায়িত্ব বজায় রাখতে উস্তাদ ও পরিচালনা কমিটির দায়িত্ব:
- •১. শতভাগ শরয়ী স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা: হিসাব-নিকাশ ও তালীমাতের প্রতিটি পদক্ষেপে আল্লাহর ভয় ও মুহতামিমের তত্ত্বাবধান বজায় রাখা।
- •২. শিক্ষার্থীদের পিতা-মাতাতুল্য স্নেহ প্রদান: কোনো কঠোরতা বা অসৌজন্যমূলক আচরণ না করে ভালোবাসার সাথে শিক্ষাদান।
- •৩. তথ্যের নিরাপদ ও স্থায়ী ডিজিটাল ব্যাকআপ: খাতা হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি এড়াতে JamiaSoft ক্লাউড সার্ভারে সমস্ত ডাটা সংরক্ষণ।
- •৪. অভিভাবকদের সাথে নিয়মিত নিবিড় যোগাযোগ: শিক্ষার্থীর সবক অগ্রগতি ও মেসের সন্তুষ্টি নিয়ে প্রতি মাসে অন্তত একবার মতবিনিময়।
- •৫. পরিচালনা কমিটির ত্রৈমাসিক রিভিউ অধিবেশন: প্রতিষ্ঠানের আর্থিক বাজেট ও পরীক্ষা ফলাফলের সার্বিক অগ্রগতি পর্যালোচনা।
দ্বীনি আমানত রক্ষা ও প্রাতিষ্ঠানিক উৎকর্ষ সাধনে শিক্ষক ও কমিটির যৌথ শপথ
মাদ্রাসার প্রতিটি পদক্ষেপকে যুগোপযোগী ও বরকতময় করে তুলতে সার্বক্ষণিক অনুসরণীয় দিকনির্দেশনা:
- •১. শিক্ষার্থীদের আত্মিক ও চারিত্রিক তারবিয়াত নিশ্চিতকরণ: শুধু পাঠ্যবই বা মুখস্থ করানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে শিক্ষার্থীদের খাঁটি সুন্নাহভিত্তিক চরিত্র ও বিনয়ী আখলাক গঠনে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া।
- •২. প্রাতিষ্ঠানিক সমস্ত তথ্যের চিরস্থায়ী ক্লাউড সংরক্ষণ: প্রাকৃতিক দুর্যোগ, অগ্নিকাণ্ড বা খাতা হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি এড়াতে সমস্ত একাডেমিক ফলাফল, ফি আদায় ও ছাত্র প্রোফাইল ডিজিটাল ডাটাবেজে সংরক্ষণ করা।
- •৩. শিক্ষক-অভিভাবক আস্থা ও পারস্পরিক সম্মান বৃদ্ধি: শিক্ষার্থীদের মেধা ও দুর্বলতার বিষয়ে নিয়মিত খোলামেলা আলোচনার মাধ্যমে দ্বিমুখী সহযোগিতার সেতুবন্ধন রচনা করা।
সাধারণ জিজ্ঞাসা ও প্রশ্নোত্তর (FAQs)
- •প্রশ্ন ১: কওমি মাদ্রাসার অডিট কি বাইরে থেকে চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট এনে করা জরুরি? উত্তর: বাইরে থেকে প্রফেশনাল অডিটর আনলে ভালো, তবে মাদ্রাসার অভিজ্ঞ মুফতি ও শূরার বিজ্ঞ আলেমদের মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ শরয়ী অডিট কমিটি গঠন করলেও তা বৈধ।
- •প্রশ্ন ২: অডিটে কোনো ভাউচার হারিয়ে গেলে কী করণীয়? উত্তর: ভাউচার হারিয়ে গেলে গ্রহণকারীর লিখিত স্বীকারোক্তি এবং দায়িত্বশীল উস্তাদের প্রত্যয়ন সহ একটি বিকল্প ভাউচার প্রস্তুত করে অডিট কমিটির অনুমোদন নিতে হয়।
- •প্রশ্ন ৩: ডিজিটাল সফটওয়্যার কি অডিট স্টেটমেন্ট স্বয়ংক্রিয় তৈরি করে? উত্তর: হ্যাঁ, JamiaSoft-এ সারা বছর ডাটা এন্ট্রি থাকলে শিক্ষাবর্ষের শেষ দিনে ১ ক্লিকেই পূর্ণাঙ্গ ট্রায়াল ব্যালান্স ও ব্যালান্স শিট এক্সেল বা পিডিএফে ডাউনলোড করা যায়।
- •প্রশ্ন ৪: কুরবানির চামড়া বিক্রির টাকা কোন ফান্ডে অডিট হবে? উত্তর: কুরবানির চামড়া বিক্রির অর্থ সরাসরি লিল্লাহ বোর্ডিং ও দরিদ্র ছাত্রদের তহবিলে যুক্ত হয়ে অডিট হবে।
- •প্রশ্ন ৫: অডিট রিপোর্ট কি দাতাদের উন্মুক্ত দেখানো যায়? উত্তর: হ্যাঁ, দাতাদের আস্থা বৃদ্ধিতে বার্ষিক সংক্ষিপ্ত আয়-ব্যয় রিপোর্ট প্রিন্ট করে বিতরণ করা বা ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা অত্যন্ত প্রশংসনীয় পদক্ষেপ।
- •প্রশ্ন ৬: অডিটের সময় কি মেসের অবশিষ্ট খাদ্যদ্রব্যের স্টক গণনা করতে হয়? উত্তর: হ্যাঁ, বছর শেষে স্টোররুমে কত বস্তা চাল, ডাল বা তেল অবশিষ্ট আছে তার বর্তমান বাজারমূল্য মোট সম্পদে যোগ করতে হয়।
মাওলানা তানভীর আহমেদ
শরয়ী অডিট ও ফিন্যান্স কনসালট্যান্ট
বাংলাদেশের প্রখ্যাত শরয়ী ফিন্যান্স বিশেষজ্ঞ। কওমি ও আলিয়া মাদ্রাসার যাকাত, লিল্লাহ ও সাধারণ ফান্ডের পৃথক ব্যবস্থাপনা ও অডিটে এক দশকের অভিজ্ঞতা রেখেছেন। JamiaSoft-এর শরয়ী কমপ্লায়েন্স আর্কিটেকচারের প্রধান পরামর্শদাতা।
আর্টিকেলটি ভালো লাগলে অন্যদের সাথে শেয়ার করুন
দ্বীনি প্রতিষ্ঠান ও মাদ্রাসার আর্থিক আমানতদারিতা ও আধুনিকায়নে তথ্যগুলো ছড়িয়ে দিন।
সম্পর্কিত প্রবন্ধ

মাদ্রাসার ওয়াকফ সম্পত্তি ও জমিজমার খাজনা-খারিজ (Mutation): দলিল সংরক্ষণ, নামজারি ও ভূমি দখল প্রতিরোধ এসওপি
কওমি ও আবাসিক মাদ্রাসার ওয়াকফ সম্পত্তি, জমিজমার নামজারি (Mutation), খাজনা পরিশোধ, মূল দলিল সংরক্ষণ ও অবৈধ দখল প্রতিরোধ এসওপি।
পড়ুন →
পবিত্র ঈদুল আজহায় মাদ্রাসার কুরবানির চামড়া কালেকশন ও লবণজাতকরণ: লবণ স্টক, চামড়া সংরক্ষণ ও সঠিক মূল্য আদায় এসওপি
ঈদুল আজহায় মাদ্রাসার কুরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহ, লবণজাতকরণ (Salting SOP), আড়তদার সিন্ডিকেট প্রতিরোধ ও এতিমখানা ফান্ডের সর্বোচ্চ মুনাফা আদায় গাইড।
পড়ুন →
মসজিদ ও বাজারের মাদ্রাসা দানবাক্স (Donation Box) পরিচালনা: সিলগালা তালা, যৌথ গণনা ও ডিজিটাল কালেকশন এসওপি
মসজিদ, দোকান ও বাজারের মাদ্রাসা দানবাক্স (Donation Box) স্থাপন, সিলগালা তালা, ২ জন দায়িত্বশীলের যৌথ গণনা, ডিজিটাল রসিদ ও চুরিমুক্ত এসওপি।
পড়ুন →আপনার মাদ্রাসায় JamiaSoft ব্যবহার করতে চান?
হিফজ ট্র্যাকিং, শরয়ী ফিন্যান্স ও অনলাইন ভর্তির আধুনিক অভিজ্ঞতা পেতে আজই ফ্রি ডেমো বুক করুন।