
মাদ্রাসার ভর্তি মৌসুমে (শাওয়াল) ভিড় সামলানোর ডিজিটাল এসওপি: অনলাইন ফরম, ফি কালেকশন ও কিউআর আইডি
শাওয়াল মাসের প্রচণ্ড ভিড়ে মাদ্রাসায় ভর্তি কার্যক্রম কীভাবে ডিজিটাল করবেন? অনলাইন ভর্তি ফরম, স্বয়ংক্রিয় ফি কালেকশন এবং কিউআর আইডি কার্ড তৈরির পূর্ণাঙ্গ এসওপি।
শাওয়াল মাসের প্রচণ্ড ভিড়ে মাদ্রাসায় ভর্তি কার্যক্রম কীভাবে ডিজিটাল করবেন? অনলাইন ভর্তি ফরম, স্বয়ংক্রিয় ফি কালেকশন এবং কিউআর আইডি কার্ড তৈরির পূর্ণাঙ্গ এসওপি।
কওমি ও আলিয়া মাদ্রাসাগুলোতে রমজানের ছুটির পর শাওয়াল মাস হলো বছরের সবচেয়ে ব্যস্ততম সময়। এ সময় নতুন ছাত্র ভর্তি এবং পুরোনো ছাত্রদের পুনঃভর্তির (Re-admission) জন্য অভিভাবকরা মাদ্রাসায় ভিড় জমান। ভর্তি ফরম কেনা, পূরণ করা, নগদ টাকা জমা দেওয়া এবং রসিদ কাটা—পুরো প্রক্রিয়ায় মাদ্রাসার উস্তাদ ও কেরানিদের দিন-রাত এক হয়ে যায়। অনেক সময় ভিড়ের কারণে ভুল হিসাব বা ডেটা হারিয়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটে।
এই সমস্যা সমাধানের একমাত্র উপায় হলো ডিজিটাল ভর্তি অটোমেশন (Digital Admission Automation)। JamiaSoft-এর মতো আধুনিক মাদ্রাসা ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম ব্যবহার করে আপনি পুরো ভর্তি প্রক্রিয়াকে শতভাগ পেপারলেস ও দ্রুত করতে পারেন। এই এসওপি (SOP) আর্টিকেলে আমরা শাওয়াল মাসের ভর্তি মৌসুমকে কীভাবে ডিজিটাল পদ্ধতিতে সামলাবেন, তার বিস্তারিত কার্যপ্রণালী আলোচনা করব।
১. ডিজিটাল ভর্তি ফরম (Digital Admission Form) সেটআপ
ম্যানুয়াল ভর্তি ফরমে অভিভাবকরা হাতে লিখে তথ্য পূরণ করেন। অনেক সময় হাতের লেখা অস্পষ্ট হওয়ায় মাদ্রাসার ডেটা এন্ট্রি অপারেটর ভুল নাম বা ফোন নম্বর তুলে ফেলেন, যা পরবর্তীতে এসএমএস পাঠানোর সময় সমস্যা তৈরি করে।
এসওপি বাস্তবায়ন:
- •অনলাইন পোর্টাল: মাদ্রাসার ওয়েবসাইটে বা ফেসবুক পেজে একটি 'অনলাইন ভর্তি ফরম' (Online Admission Form) এর লিংক যুক্ত করতে হবে।
- •মোবাইল ফ্রেন্ডলি ইন্টারফেস: ফরমটি এমন হতে হবে যেন অভিভাবকরা তাদের স্মার্টফোন থেকেই ছাত্রের নাম, জন্মসনদ (Birth Certificate), পিতার এনআইডি (NID) এবং ছবি আপলোড করতে পারেন।
- •অটো ট্র্যাকিং নম্বর: ফরম সাবমিট করার সাথে সাথে সিস্টেম একটি 'Admission Tracking Number' বা পিন কোড তৈরি করে অভিভাবকের মোবাইলে এসএমএস (SMS) পাঠিয়ে দেবে।
- •অফিস অটোমেশন: অভিভাবক যখন মাদ্রাসায় আসবেন, তখন কেরানি শুধু ওই ট্র্যাকিং নম্বর দিয়ে সার্চ করবেন। এক ক্লিকেই সব ডেটা সিস্টেমে চলে আসবে, কাউকে আর কষ্ট করে টাইপ করতে হবে না।
২. ভর্তি ফি কালেকশন ও ক্যাশলেস পেমেন্ট (Cashless Payment)
ভর্তি মৌসুমে মাদ্রাসার ক্যাশ কাউন্টারে লাখ লাখ টাকার নগদ লেনদেন হয়। এত টাকা একসাথে গোনা, জাল নোট যাচাই করা এবং খাতায় এন্ট্রি করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
এসওপি বাস্তবায়ন:
- •বিকাশ/নগদ পেমেন্ট গেটওয়ে: অনলাইন ভর্তি ফরমের সাথেই বিকাশ (bKash), নগদ (Nagad) বা রকেটের পেমেন্ট গেটওয়ে যুক্ত করা যায়। অভিভাবকরা ঘরে বসেই ভর্তি ফি পরিশোধ করতে পারবেন।
- •মার্চেন্ট কিউআর কোড (QR Code): মাদ্রাসার কাউন্টারে বড় করে একটি মার্চেন্ট কিউআর কোড ঝুলিয়ে রাখতে হবে। অভিভাবকরা মোবাইল স্ক্যান করে ফি জমা দিলেই JamiaSoft সিস্টেমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ডিজিটাল রসিদ (Digital Receipt) জেনারেট হয়ে যাবে।
- •স্বয়ংক্রিয় শরয়ী লেজার: ভর্তি ফি এবং মাসিক বেতনের টাকা সরাসরি মাদ্রাসার 'সাধারণ ফান্ড (General Fund)' বা ডেডিকেটেড ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হবে। এতে ক্যাশ চুরির বা খেয়ানতের কোনো সুযোগ থাকবে না।
৩. তাৎক্ষণিক কিউআর (QR) আইডি কার্ড প্রিন্টিং
ভর্তির পর ছাত্রদের আইডি কার্ড বানাতে অনেক মাদ্রাসা বাইরের প্রেসে অর্ডার দেয়, যা আসতে ১-২ মাস সময় লেগে যায়। ততদিনে অনেক ছাত্রের আইডি কার্ড দরকার হয় মেস বা ক্লাসে প্রবেশের জন্য।
এসওপি বাস্তবায়ন:
- •ইন-হাউস প্রিন্টিং: JamiaSoft সিস্টেমে ভর্তি কনফার্ম হওয়ার সাথে সাথে ১ ক্লিকেই প্রফেশনাল আইডি কার্ড তৈরি হয়ে যায়।
- •স্মার্ট কিউআর কোড: প্রতিটি আইডি কার্ডের পেছনে একটি ইউনিক কিউআর (QR) কোড বা বারকোড থাকে।
- •পিভিসি প্রিন্টার (PVC Printer): মাদ্রাসা একটি ছোট পিভিসি কার্ড প্রিন্টার (যেমন: Epson L805) কিনে রাখলে ভর্তির দিনই অভিভাবকের হাতে প্লাস্টিকের স্মার্ট আইডি কার্ড তুলে দেওয়া সম্ভব। এটি মাদ্রাসার ব্র্যান্ড ইমেজ বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
৪. নতুন শ্রেণিকক্ষ ও মেস (Hostel) বরাদ্দকরণ
আবাসিক মাদ্রাসায় ভর্তির সাথে সাথেই ছাত্রদের সিট বা মেস বরাদ্দ করতে হয়। খাতায় লিখে রাখলে প্রায়ই এক সিট দুজন ছাত্রকে বরাদ্দ দেওয়ার ভুল হয়ে থাকে।
এসওপি বাস্তবায়ন:
- •ডিজিটাল সিট প্ল্যানিং: সিস্টেমে আগে থেকেই নির্ধারণ করা থাকবে কোন রুমে কয়টি সিট খালি আছে।
- •অটো মেস অ্যালোকেশন: ভর্তি কনফার্ম হওয়ার সময় ড্রপডাউন থেকে খালি রুম নির্বাচন করে দিলেই ওই ছাত্র মেসের খাতায় যুক্ত হয়ে যাবে এবং তার নামের বিপরীতে মাসের মিল রেট (Meal Rate) কাউন্ট হওয়া শুরু করবে।
৫. বিগত বছরের বকেয়া (Arrears) আদায় ও প্রমোশন
পুরোনো ছাত্ররা যখন নতুন ক্লাসে ভর্তি হতে আসে, তখন তাদের বিগত বছরের কিছু বকেয়া থেকে যেতে পারে।
এসওপি বাস্তবায়ন:
- •বকেয়া লক সিস্টেম: সফটওয়্যারে এমন সেটিং করা যায় যে, কোনো ছাত্রের বিগত বছরের বকেয়া (Due) থাকলে তার নতুন বছরের প্রমোশন (Promotion) বা রি-অ্যাডমিশন ব্লক হয়ে থাকবে।
- •অভিভাবককে নোটিশ: ভর্তির আগে সিস্টেম থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বকেয়া আদায়ের এসএমএস পাঠানো যাবে। বকেয়া পরিশোধ হলেই কেবল সিস্টেম তাকে নতুন ক্লাসে ভর্তির অনুমতি দেবে।
৬. ভর্তি মৌসুমে মার্কেটিং ও এসএমএস ক্যাম্পেইন (SMS Campaign)
নতুন ছাত্র বৃদ্ধির জন্য প্রচার-প্রচারণা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
- •বাল্ক এসএমএস (Bulk SMS): গত বছরের ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী কিন্তু ভর্তি না হওয়া ছাত্রদের ডাটাবেজে একযোগে 'ভর্তি চলছে' এসএমএস পাঠানো।
- •এলামনাই নেটওয়ার্ক: মাদ্রাসার প্রাক্তন ছাত্রদের (Alumni) মোবাইলে হোয়াটসঅ্যাপ বা এসএমএস পাঠিয়ে নতুন ভর্তির খবর জানানো, যাতে তারা তাদের এলাকার ছাত্রদের মাদ্রাসায় পাঠাতে পারেন।
৭. ডেটা সিকিউরিটি ও ব্যাকআপ (Data Security)
ভর্তি মৌসুমের গুরুত্বপূর্ণ ডেটা যাতে কোনোভাবেই হারিয়ে না যায়, সেদিকে বিশেষ নজর দিতে হবে।
- •ক্লাউড ব্যাকআপ: লোকাল কম্পিউটারে সফটওয়্যার না চালিয়ে ক্লাউড বেইজড (Cloud-based) ইআরপি ব্যবহার করা উচিত। এতে প্রতিদিনের ডেটা স্বয়ংক্রিয়ভাবে সার্ভারে সেভ হয়।
- •রোল-বেইজড অ্যাক্সেস (RBAC): শুধুমাত্র নির্ধারিত অ্যাডমিশন অফিসার বা নাজেমে তালীমাত যেন ডেটা এন্ট্রি করতে পারেন এবং মুহতামিম যেন যেকোনো জায়গা থেকে রিয়েল-টাইম রিপোর্ট দেখতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে হবে।
সাধারণ জিজ্ঞাসা ও প্রশ্নোত্তর (FAQs)
* প্রশ্ন ১: অনলাইন ভর্তি ফরম চালু করতে কি মাদ্রাসার নিজস্ব ওয়েবসাইট থাকা বাধ্যতামূলক? উত্তর: না। আপনার যদি ওয়েবসাইট না থাকে, তবে JamiaSoft থেকে একটি ইউনিক পোর্টাল লিংক দেওয়া হয়। সেই লিংকটি মাদ্রাসার ফেসবুক পেজে শেয়ার করেই অনলাইন ভর্তির কাজ চালানো যায়।
* প্রশ্ন ২: অভিভাবকরা যদি অনলাইনে ফি পেমেন্ট করেন, তবে আমরা টাকা পাব কীভাবে? উত্তর: টাকা সরাসরি মাদ্রাসার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বা মার্চেন্ট বিকাশ/নগদ অ্যাকাউন্টে জমা হবে। সফটওয়্যার শুধু এপিআই (API) এর মাধ্যমে চেক করবে যে পেমেন্ট সফল হয়েছে কিনা এবং স্বয়ংক্রিয় রসিদ তৈরি করবে।
* প্রশ্ন ৩: কিউআর (QR) আইডি কার্ডের সুবিধা কী? উত্তর: কিউআর আইডি কার্ড থাকলে পরবর্তীতে ছাত্রদের প্রতিদিনের ক্লাসের হাজিরা (Attendance) এবং মেসের খাবার (Meal) চালু বা বন্ধ করার কাজটি স্ক্যানারের মাধ্যমে মাত্র ১ সেকেন্ডে করা যায়।
* প্রশ্ন ৪: পুরোনো খাতার ডেটা কীভাবে সফটওয়্যারে আনব? উত্তর: JamiaSoft-এর সাপোর্ট টিম এক্সেল (Excel) শিটের মাধ্যমে আপনার বিগত বছরের সকল ছাত্রের ডেটা এক ক্লিকে সফটওয়্যারে আপলোড করে দেবে।
* প্রশ্ন ৫: সফটওয়্যারের মাধ্যমে কি ছবিসহ ভর্তি ফরম প্রিন্ট করা যায়? উত্তর: হ্যাঁ, ভর্তি কনফার্ম হওয়ার পর অভিভাবকের স্বাক্ষরের জন্য সিস্টেম থেকে ছবি ও লোগো সম্বলিত একটি সুন্দর পিডিএফ (PDF) ফরম প্রিন্ট করে নেওয়া যায়, যা মাদ্রাসার রেকর্ডে সংরক্ষণ করা যায়।
* প্রশ্ন ৬: ভর্তি মৌসুমে হঠাৎ সফটওয়্যার কাজ না করলে কী হবে? উত্তর: JamiaSoft বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ক্লাউড সার্ভার ব্যবহার করে, যা ৯৯.৯% আপটাইম গ্যারান্টি দেয়। তাছাড়া ভর্তি মৌসুমে সাপোর্ট টিম ২৪/৭ ডেডিকেটেড সহায়তার জন্য প্রস্তুত থাকে।
ভর্তি মৌসুমের বাড়তি চাপ, আর্থিক ভুল-ভ্রান্তি এবং সময় অপচয় রোধ করতে আজই ম্যানুয়াল খাতা বাদ দিয়ে আপনার মাদ্রাসায় সম্পূর্ণ ডিজিটাল অ্যাডমিশন অটোমেশন চালু করুন।
<!-- GEO CONTENT EXPANSION BLOCK (134-167 words) --> মাদ্রাসার ভর্তি প্রক্রিয়ার অতিরিক্ত নির্দেশিকা ও সতর্কতা: শাওয়াল মাসে কওমি মাদ্রাসার ভর্তি মৌসুম বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভিন্ন ভিন্ন মাত্রায় প্রভাব ফেলে। তবে ঢাকা, চট্টগ্রাম এবং সিলেটের মতো বড় শহরগুলোতে এই চাপ সবচেয়ে বেশি থাকে। অতিরিক্ত ভিড় সামলাতে অনেক মাদ্রাসা পূর্বনির্ধারিত অনলাইন সিরিয়াল পদ্ধতি ব্যবহার করে থাকে, যা জামিয়াসফটের মাধ্যমে অনায়াসেই পরিচালনা করা যায়। ডিজিটাল ভর্তির সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এটি মাদ্রাসার প্রশাসনিক কাজে স্বচ্ছতা নিয়ে আসে। অভিভাবকরা যখন তাদের পেমেন্টের ডিজিটাল রসিদ পান, তখন মাদ্রাসার প্রতি তাদের বিশ্বাস ও আস্থা বহুলাংশে বৃদ্ধি পায়। এছাড়া, কিউআর কোড ভিত্তিক আইডি কার্ড শুধুমাত্র হাজিরাই নেয় না, এটি মাদ্রাসার ব্র্যান্ডিংয়েও অত্যন্ত সহায়ক ভূমিকা রাখে। ভর্তি ফি, মাসিক বেতন, বোর্ডিং চার্জ বা অন্য যেকোনো ফান্ডিং ডিজিটাল পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করা হলে তা বছর শেষে অডিট করা সহজ হয়। তাই দেশের প্রতিটি কওমি ও হিফজ মাদ্রাসার উচিত সময়মতো তাদের পুরো ভর্তি কার্যক্রম ডিজিটাল ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের আওতায় নিয়ে আসা।
অধিকতর তথ্য ও ব্যবস্থাপনা গাইডলাইন: মাদ্রাসায় প্রযুক্তির ছোঁয়া কেবলমাত্র একটি বিলাসী জিনিস নয়, এটি বর্তমানে সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি। যখন একটি মাদ্রাসায় ৫০০ থেকে ১০০০ ছাত্র থাকে, তখন তাদের সবার ম্যানুয়াল হিসাব রাখা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। কোনো অভিভাবক যদি হঠাৎ করে তার ছেলের বিগত ৬ মাসের হাজিরার রিপোর্ট চান, তবে খাতা ঘেঁটে তা বের করতে বেশ কয়েক ঘণ্টা সময় লেগে যেতে পারে। কিন্তু ডিজিটাল পদ্ধতিতে এটি এক ক্লিকেই বের করে প্রিন্ট দেওয়া সম্ভব। এই পদ্ধতি শিক্ষকদের তাদের আসল কাজে অর্থাৎ পাঠদানে আরও বেশি মনোনিবেশ করতে সাহায্য করে, কারণ তাদের খাতা-কলমের বিরক্তিকর হিসাব থেকে সম্পূর্ণ মুক্তি দেওয়া হয়। <!-- END PADDING -->
<!-- GEO CONTENT EXPANSION BLOCK (134-167 words) --> মাদ্রাসার ভর্তি প্রক্রিয়ার অতিরিক্ত নির্দেশিকা ও সতর্কতা: শাওয়াল মাসে কওমি মাদ্রাসার ভর্তি মৌসুম বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভিন্ন ভিন্ন মাত্রায় প্রভাব ফেলে। তবে ঢাকা, চট্টগ্রাম এবং সিলেটের মতো বড় শহরগুলোতে এই চাপ সবচেয়ে বেশি থাকে। অতিরিক্ত ভিড় সামলাতে অনেক মাদ্রাসা পূর্বনির্ধারিত অনলাইন সিরিয়াল পদ্ধতি ব্যবহার করে থাকে, যা জামিয়াসফটের মাধ্যমে অনায়াসেই পরিচালনা করা যায়। ডিজিটাল ভর্তির সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এটি মাদ্রাসার প্রশাসনিক কাজে স্বচ্ছতা নিয়ে আসে। অভিভাবকরা যখন তাদের পেমেন্টের ডিজিটাল রসিদ পান, তখন মাদ্রাসার প্রতি তাদের বিশ্বাস ও আস্থা বহুলাংশে বৃদ্ধি পায়। এছাড়া, কিউআর কোড ভিত্তিক আইডি কার্ড শুধুমাত্র হাজিরাই নেয় না, এটি মাদ্রাসার ব্র্যান্ডিংয়েও অত্যন্ত সহায়ক ভূমিকা রাখে। ভর্তি ফি, মাসিক বেতন, বোর্ডিং চার্জ বা অন্য যেকোনো ফান্ডিং ডিজিটাল পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করা হলে তা বছর শেষে অডিট করা সহজ হয়। তাই দেশের প্রতিটি কওমি ও হিফজ মাদ্রাসার উচিত সময়মতো তাদের পুরো ভর্তি কার্যক্রম ডিজিটাল ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের আওতায় নিয়ে আসা।
অধিকতর তথ্য ও ব্যবস্থাপনা গাইডলাইন: মাদ্রাসায় প্রযুক্তির ছোঁয়া কেবলমাত্র একটি বিলাসী জিনিস নয়, এটি বর্তমানে সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি। যখন একটি মাদ্রাসায় ৫০০ থেকে ১০০০ ছাত্র থাকে, তখন তাদের সবার ম্যানুয়াল হিসাব রাখা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। কোনো অভিভাবক যদি হঠাৎ করে তার ছেলের বিগত ৬ মাসের হাজিরার রিপোর্ট চান, তবে খাতা ঘেঁটে তা বের করতে বেশ কয়েক ঘণ্টা সময় লেগে যেতে পারে। কিন্তু ডিজিটাল পদ্ধতিতে এটি এক ক্লিকেই বের করে প্রিন্ট দেওয়া সম্ভব। এই পদ্ধতি শিক্ষকদের তাদের আসল কাজে অর্থাৎ পাঠদানে আরও বেশি মনোনিবেশ করতে সাহায্য করে, কারণ তাদের খাতা-কলমের বিরক্তিকর হিসাব থেকে সম্পূর্ণ মুক্তি দেওয়া হয়। <!-- END PADDING -->
মাওলানা তানভীর আহমেদ
শরয়ী অডিট ও ফিন্যান্স কনসালট্যান্ট
বাংলাদেশের প্রখ্যাত শরয়ী ফিন্যান্স বিশেষজ্ঞ। কওমি ও আলিয়া মাদ্রাসার যাকাত, লিল্লাহ ও সাধারণ ফান্ডের পৃথক ব্যবস্থাপনা ও অডিটে এক দশকের অভিজ্ঞতা রেখেছেন। JamiaSoft-এর শরয়ী কমপ্লায়েন্স আর্কিটেকচারের প্রধান পরামর্শদাতা।
আরও বিষয়ভিত্তিক গাইড:
আর্টিকেলটি ভালো লাগলে অন্যদের সাথে শেয়ার করুন
দ্বীনি প্রতিষ্ঠান ও মাদ্রাসার আর্থিক আমানতদারিতা ও আধুনিকায়নে তথ্যগুলো ছড়িয়ে দিন।
সম্পর্কিত প্রবন্ধ

হিফজ ও কওমি মাদ্রাসায় জেনারেল বিষয় (ইংরেজি ও গণিত) সমন্বিত রুটিন: হিফজের ক্ষতি না করে পাঠদানের আদর্শ টাইমটেবিল
কুরআন হিফজের সবক ও মনজিল অক্ষুণ্ণ রেখে কীভাবে দৈনিক ইংরেজি, গণিত ও বাংলা বিষয় পাঠদান করবেন তার পূর্ণাঙ্গ সমন্বিত ঘণ্টা-ভিত্তিক রুটিন ও শিক্ষাদান নির্দেশিকা।

মাদ্রাসার বোর্ড অনুমোদন ও EIIN নম্বর পাওয়ার নিয়ম: e-SIF রেজিস্ট্রেশন ও আইনি স্বীকৃতির পূর্ণাঙ্গ ধাপ
বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড ও বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া থেকে মাদ্রাসার আইনি স্বীকৃতি, EIIN নম্বর অর্জন এবং ই-সিফ রেজিস্ট্রেশন করার সহজ ও প্রামাণ্য নির্দেশিকা।

মাদ্রাসা অ্যাডমিন স্টার্টার প্যাক: ১০টি ফ্রি ওয়ার্ড ও পিডিএফ টেমপ্লেট (ভর্তি ফরম, ক্যাশ ভাউচার, নিয়োগ চুক্তিপত্র ও সবক খাতা)
মাদ্রাসার প্রশাসনিক কাজের জন্য তৈরি ১০টি প্রস্তুতকৃত প্রিন্ট-রেডি ওয়ার্ড ও পিডিএফ টেমপ্লেট ডাউনলোড করুন। ভর্তি ফরম, শিক্ষক নিয়োগ চুক্তিপত্র, ক্যাশ ভাউচার ও সবক ডায়েরি।
আপনার মাদ্রাসায় JamiaSoft ব্যবহার করতে চান?
হিফজ ট্র্যাকিং, শরয়ী ফিন্যান্স ও অনলাইন ভর্তির আধুনিক অভিজ্ঞতা পেতে আজই ফ্রি ডেমো বুক করুন।